Deprecated: Required parameter $month follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $day follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $year follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $display_count follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292

Deprecated: Required parameter $total_shares follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292
চরম দুর্ভোগে ১৫ লাখ কৃষক – সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক

চরম দুর্ভোগে ১৫ লাখ কৃষক

বিশেষ প্রতিনিধি
ধানের দানা আসার আগেই জেলার ১১ উপজেলার প্রায় সব কয়টি হাওরের ফসল ডুবে যাওয়ায় দুর্ভোগ-দুর্দশায় পড়েছেন জেলার ১৫ লাখ কৃষক। দিশেহারা কৃষকদের কেউ টল টলায়মান বাঁধ রক্ষায় ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দিন-রাত বাঁধেই কাটাচ্ছেন। কেউ বা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন। আবার কেউ কেউ হাওর পাড়ে বসে আফসোস করছেন। এক ফসলি জেলা সুনামগঞ্জের কৃষকদের বাঁচার সকল অবলম্বন হাওরকে ঘিরেই। হাওরে চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে এমন ভয়াবহ দুর্ভোগ কখনো হয়েছে বলে জানা নেই ৭০ বছর বয়সী কৃষকেরও। মানুষের এই দুর্দশার মধ্যেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী জেলা জুড়ে চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক জাহেদুল হক ২ লাখ ২৩ হাজার ৮২ হেক্টর বোরো জমির ৮০ হাজার হেক্টর ডুবেছে বলে গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছেন। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের এই হিসাবকে হাস্যকর বলেছেন, হাওর বাঁচাও-সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু। তিনি বলেছেন,‘কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ আরো অনেক বেশি। জেলার ৪ ভাগের তিন ভাগ ফসল ডুবেছে এবং যেটুকু রয়েছে, সেটিও ঝুঁকির মধ্যে আছে।’
জেলার ১১ উপজেলার কৃষক ও গণমাধ্যমকর্মীদের হিসাব অনুযায়ী ৭৫ ভাগ ফসল পানির নিচে ডুবে গেছে। জেলা সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনাম আহমদ বলেছেন,‘টাকার অংকে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার ফসল পানিতে ডুবেছে বলে মনে করছি আমরা’।
তাহিরপুর প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম বলেন,‘তাহিরপুরের শনির হাওর ছাড়া অন্য ২২ টি হাওরই ডুবে গেছে। ৭৫ ভাগ ফসল পানির নিচে চলে গেছে। তাহিরপুর উপজেলা সদরের সকল দোকানপাট বাজার কমিটি ঘোষণা দিয়ে বন্ধ করে সকলেই শনির হাওর রক্ষা বাঁধে কাজে লেগেছে। তাহিরপুরের চাল ব্যবসায়ী ও মিলাররা হঠাৎ প্রতি বস্তা চালের দাম ৫০০ টাকা করে বাড়িয়ে দেওয়ায় হতভম্ব হন সকলে। গণমাধ্যম কর্মীরা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানোয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকিং করে জানিয়ে দিয়েছেন, কেউ চালের দাম বাড়ালে মোবাইল কোর্ট করে আইনের আওতায় নেওয়া হবে।
বিশ্বম্ভরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বপন কুমার বর্মণ বলেন,‘উপজেলার ৯ টি হাওরের ৭ টিতেই থৈ-থৈ করছে পানি। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে কেজাউড়া ও ধুমপুর হাওর। চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামও বাড়িয়ে দিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।’
জগন্নাথপুর  
প্রতিনিধি তাজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, উপজেলার নলুয়ার ও মইয়ার হাওরসহ ১৫ টি হাওরের মধ্যে ১৩ টি ডুবেছে। ৮০ ভাগ ফসলি জমি পানির নিচে চলে গেছে। চালের দাম বাড়িয়ে দেবার বিষয়টি গণমাধ্যম কর্মীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানোয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাজার পরিদর্শন করে সকলকে সতর্ক করেছেন। বিকালে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে নিপু গোপ নামের এক চাল ব্যবসায়ীর দোকানে অতিরিক্ত দামে চাল বিক্রি করায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন সহকারী কমিশনার ভূমি শামীম আল ইমরান। বিকালে সকল চাল ব্যবসায়ীদের নিয়ে সভা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাছুম বিল্লাহ্।
সমকালের ধর্মপাশা প্রতিনিধি এনামুল হক জানিয়েছেন, উপজেলার ৮২ টি হাওরের ৫৯ টিই ডুবে গেছে। উপজেলাজুড়ে হঠাৎ করে চাল ও আটার দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল অসাধু ব্যবসায়ীরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  মো. মামুন খন্দকার মাইকিং করে সকলকে সতর্ক করেছেন।
সমকালের ছাতক উপজেলা প্রতিনিধি শাহ্ আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, উপজেলার ৬৩ হাওরের সবগুলোই পানির নিচে। ১৪ হাজার হেক্টর ফসলি জমির ১১ হাজার হেক্টর ডুবে গেছে। চালের দাম কোন কোন ব্যবসায়ী বস্তা প্রতি বাড়িয়ে দিয়েছেন দুই থেকে তিন’শ টাকা। উপজেলা প্রশাসন করণীয় নির্ধারণের জন্য ইউপি চেয়ারম্যানদের নিয়ে সভা করেছেন।
দোয়ারাবাজারের গণমাধ্যম কর্মী আসিক মিয়া জানিয়েছেন, ১৯ টি হাওরের সব কয়টিই ডুবে শতভাগ ফসল পানির নিচে চলে গেছে।
শাল্লা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি পিসি দাস জানান, ১০ টি হাওরের ৪ টি ডুবেছে। কৃষকরা বাকী হাওরগুলোর বাঁধ রক্ষায় স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছেন। কৃষকরা ক্ষুব্ধ ছায়ার হাওর ও ভা-ার হাওর রক্ষা বাঁধের ঠিকাদারদের উপর। এই দুটি হাওরের ৪ টি বাঁধে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কোন কাজই করেনি।
জামালগঞ্জের গণমাধ্যমকর্মী আকবর হোসেন জানান, ৫ টি হাওরের ৩ টিই ডুবেছে। মঙ্গলবার দুপুরে সহ¯্রাধিক কৃষক উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ৫ দফা দাবি জানিয়ে বলেছেন দাবি মানা না হলে কঠিন কর্মসূচী দেওয়া হবে। দাবিগুলো হচ্ছে সি-িকেটের সকল সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে হবে। কৃষি ঋণের সুদ এক বছরের জন্য মওকুপ করতে হবে। সকল কৃষকদের ১০ টাকা কেজিতে চাল দিতে হবে। ভিজিডি এবং ভিজিএফ বাড়াতে হবে। চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রসূন কুমার চক্রবর্তী এসময় দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়ায় কৃষকরা কর্মসূচী স্থগিত করেন।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি বোরহান উদ্দিন দোলন বলেন,‘উপজেলার সকল হাওরেই পানি ঢুকেছে। কৃষকরা প্রাণপণ চেষ্টা করেও ঠেকাতে পারেননি। সোমবার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালামের উপর ক্ষুব্ধ হন কৃষকরা। তারা তাঁর অফিস লক্ষ্য করে জুতা ছুড়েছেন। বিক্ষুব্ধ কৃষকরা হাওর রক্ষা বাঁধের ঠিকাদারদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।’
সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি মঙ্গলবার মানববন্ধন করেছে। মানববন্ধনে বক্তারা বলেছেন,‘ঠিকাদার ও দুর্নীতিবাজ পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি)’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। জেলাকে দুর্গত ঘোষণা করে প্রয়োজনীয় সকল উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন,‘মানুষের প্রাণপণ চেষ্টায়ও কোন বাঁধই টিকেনি।’
জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন,‘আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সকল মিলার ও চাল ব্যবসায়ীকে ডেকে বলা হয়েছে কেউ চালের দাম বাড়ালে মোবাইল কোর্ট করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি খাদ্য সচিবের সঙ্গে কথা বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে ন্যায্যমূল্যের ৯১ হাজার কার্ডের স্থলে ২ লাখ কার্ড করার জন্য। এপ্রিল পর্যন্ত ন্যায্য মূল্যের চাল দেবার কথা থাকলেও এটি আগস্ট পর্যন্ত দেবার অনুরোধ জানানো হয়েছে।’ যে সব ঠিকাদার বাঁধের কাজ সময়মত করেননি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার জন্যও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।