চামরদানী ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব

স্টাফ রিপোর্টার
বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ এনে মধ্যনগর থানার চামরদানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকিরুল আজাদ মান্নার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করেছেন পরিষদের ৯ জন ইউপি সদস্য।
গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কাছে চেয়ারম্যান জাকিরুল আজাদ মান্নার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করেন পরিষদের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আনিসুজ্জামান আনু, ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জীবন কৃষ্ণ দাস, ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালেব, ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রতন কুমার সরকার, ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বকুল চন্দ্র দাস, ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ওয়াশীল আহম্মদ, ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দুলাল মিয়া ১,২ ও ৩ নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যা খোদেজা          
বেগম, ৭, ৮ ও ৯ নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যা মোছা. সেজনা আক্তার। অনাস্থা প্রস্তাবে পরিষদের ইউপি সদস্য-সদস্যাদের সাথে এলাকার লোকজন স্বাক্ষর করেছেন।
অনাস্থা প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, চামরদানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকিরুল আজাদ মান্না পরিষদের কোন সভা না করে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বরাদ্দ নিজে আত্মসাৎ করছেন। ইউপি সদস্যরা চেয়ারম্যানের অনৈতিক ও অবৈধ কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করতে চাইলে হুমকি দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেয়া হয়।
অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল ও নানা প্রকল্পের বরাদ্দ আত্মসাতের বিষয়ে চামরদানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকিরুল আজাদ মান্না বলেন,‘ ইউপি সদস্যাদের অভিযোগ সত্য নয়। পরিষদের কোন উন্নয়ন বরাদ্দের টাকা আমি আত্মসাৎ করিনি। কোন অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ তারা দেখাতে পারবে না। কোন অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে আমি নিজেই চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করব।’
তিনি আরো বলেন,‘আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি। অভিযোগকারী ইউপি সদস্যদের অনেকেই বিএনপির রাজনীতি করেন। তারা তারা সরকারের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং আমাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে এসব মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীরা আমার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগও প্রমাণ করতে পারবে না। ’
অনাস্থা প্রস্তাবের সাথে গত ৬ মাসের অনিয়ম দুর্নীতি ও চেয়ারম্যানের আত্মসাতের বিবরণ তুলে ধরে উল্লেখ করা হয়, ইউনিয়নের হত দরিদ্রদের ২২৬ ভিজিডি কার্ডের বিপরীতে কার্ড প্রতি ২০০০ টাকা আদায় করে ৪ লাখ ৫২ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। দরিদ্রদের জন্য সরকার কর্তৃক দেয়া শীতবস্ত্র (কম্বল) ও দুম্বার মাংস নিজে আত্মসাৎ করেছেন। পরিষদের ইউপিজিপি ও এলজিএসপি প্রকল্প বরাদ্দ পকেটস্থ করেন। দৌলতপুর স্বাস্থ্য ক্লিনিকের মেরামত ও রং এর কাজ প্রকল্পের কোন কাজ না করে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার বরাদ্দ আত্মসাৎ করেছেন। ইউনিয়নে আমজোড়া হতে টেপিরকোনা পর্যন্ত মাটির রাস্তা উন্নয়ন প্রকল্পের ১ লাখ বরাদ্দ, দরিদ্রদের রিং ও স্লাবের ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা, ইউপিচিপি প্রকল্পের ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা, এলজিএসপি প্রকল্পের ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা, সাড়াকোনা গ্রামের গোদারাঘাটের ১৯ হাজার টাকা , পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ দেয়ার কথা বলে প্রত্যেক ইউপি সদস্যের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১৮ লাখ ৪৬ হাজার টাকা আত্মসাত করেন। তাই চেয়ারম্যান জাকিরুল আজাদ মান্নাকে অপসারণ করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগ করার অনুরোধ করা হয়।
অনাস্থা প্রস্তাবে আরো উল্লেখ করা হয়, পরিষদের সকল ইউপি সদস্য ও সদস্যাদের সিল ও আইডি কার্ডের ফটোকপি নিজের হেফাজতে রেখে জাল স্বাক্ষর করে ভুয়া মাস্টার রোলের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ করা হয়েছে বলে দাখিল করেন। এছাড়া অভিযোগ করা হয়, চেয়ারম্যান রাত ৮/৯ টায় পরিষদের সভা আহবান করা হয়। পরিষদের ইউপি সদস্যাদের কুপ্রস্তাব দেয়াসহ নানাভাবে লাঞ্ছিত করেন। ইউনিয়ন পরিষদের একজন চেয়ারম্যান হয়েও তিনি বিভিন্ন অসামাজিক কাজ নিজেই জড়িত।