চালু হলো ‘নাউমহাল’/ লোকসানে নৌকা বিক্রি করছেন কারিগররা

মধ্যনগর প্রতিনিধি
দীর্ঘ দেড়মাস পর আজ (শনিবার) থেকে চালু হয়েছে মধ্যনগরের শতবর্ষী ও ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাট। স্থানীয়রা এই হাটকে ‘নাউমহাল’ বলেন।
জানা যায়, মধ্যনগর উপজেলার সদরের মধ্যনগর বাজারে প্রতি শনিবার নৌকার হাট বসে। বাজারের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে কাচারী ঘাট কে ঘিরে ঘোরাডোবা হাওরে ভাসমান এই নৌকার হাটে বিক্রেতারা নৌকা নিয়ে আসেন।
সরেজমিনে শনিবার মধ্যনগর বাজারে নৌকার হাটে গিয়ে কথা হলো চামরদানী গ্রামের নৌকা কারিগর ও বিক্রেতা কাঞ্চন সরকারের সাথে। তিনি বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর মন্দা যাচ্ছে। আজই (শনিবার) প্রথম ৪টি নৌকা হাটে বিক্রির জন্য এনেছি। দুইটি বিক্রি হয়েছে। একটি ১৭ হাজার অন্যটি ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। এতে তার লোকসান হয়েছে। তবে দেনার চাপে লোকসানে নৌকা বেচতে হচ্ছে।
এদিকে মধ্যনগর বাজার থেকে ফেরার পথে উপজেলার চামরদানী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ২০-২৫টি আলং (নৌকা তৈরির ছোট কারখানা) এ কারিগররা তাদের নিজের হাতের ছোঁয়ায় কেউ ছোট নৌকা, কেউ বড় নৌকা বানাচ্ছেন। কেউ নৌকাগুলো রঙ করতে আলকাতরা মাখছেন। কেউ করাত দিয়ে কাঠ কাটছেন, আবার কেউ হাতুরি দিয়ে নৌকায় পেরেক লাগাতে ব্যস্ত।
তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর নৌকার ব্যবসা মন্দা। কাজ কম তাই সংসারেও চলছে আর্থিক টানাটানি।
তারা আরও জানালেন, সাধারনত বড় নৌকার অর্ডার না থাকলে ছোট ও মাঝারি নৌকা তাদের আলং এ তৈরি হয়। প্রতিটি ১৪ হাতের নৌকা বানাতে ৭ হাজার টাকা থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ হয়। বিক্রি করা হয় ১০ থেকে ১১ হাজার টাকায়। নৌকা তৈরিতে আম, মেহগনি, বড়ই, কদম, রুপচামল সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ব্যবহার করা হয়।
মধ্যনগর নৌকা হাটের ইজারাদার রিপন সরকার জানান, প্রতিবছর জ্যৈষ্ঠমাস থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত চার-পাঁচ মাস নৌকার হাট চালু থাকলেও এ বছর বর্ষা দেরিতে হওয়ায় প্রায় দেড়মাস পরে আজ (শনিবার) প্রথম চালু হয়েছে। শুরুতেই নৌকার হাটে মন্দাভাব দেখা যাচ্ছে। সাধারণত অন্যান্য বছর প্রতি হাটবারে ২শ’ থেকে ৩শ’ নৌকা বেচাকেনা হলেও আজ মাত্র ১শ’ নৌকা বিক্রি হয়েছে। হাটে পর্যাপ্ত নৌকা উঠলেও ক্রেতা ছিল কম।
চামরদানী ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর খসরু বলেন, বর্ষা মৌসুমে এই উপজেলায় ৪টি ইউনিয়নসহ হাওরাঞ্চলে একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম নৌকা। এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রাম যেতে, মাছ ধরার জন্য এবং মানুষ পারাপারের জন্য নৌকা ব্যবহার হয়। হাওরাঞ্চলে নৌকার চাহিদা মেটাতে প্রায় শতবছর ধরে এই হাট চালু রয়েছে। মধ্যনগরের এই হাট জেলার মধ্যে সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাট। এ বছর দেরিতে হাট চালু হওয়ায় নৌকার কারিগররা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এছাড়া নৌকা বেচাকেনায় মন্দাভাব চলছে বলে শুনেছি। নৌকা তৈরির সাথে জড়িত ক্ষতিগ্রস্তদের প্রণোদনা দিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলব।