ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক অরফে ইকবাল দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তার ইউপি সদস্যদের উপেক্ষা করে একক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ইউপি সদস্য নুরুজ্জামান, মামুন আকন্দ, পারভীন আক্তার, জিয়া উদ্দিন, কামরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, সুহেল মিয়া, শাহজাহান মিয়া, শফিকুল ইসলাম ও জুবলী আক্তার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করেন। আর অভিযোগ তদন্তে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অলিদুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন ইউএনও। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এসিল্যান্ড অভিযোগকারীদের শুনানী গ্রহণ করেছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে চেয়ারম্যানের বক্তব্য জেনে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন এসিল্যান্ড।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোজাম্মেল হক অরফে ইকবাল পাইকুরাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ গ্রহণ করার পর ইউপি সদস্যদের উপেক্ষা করে তার ব্যক্তিগত লোকজন নিয়ে সাবেক চেয়ারম্যানের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন এবং পরিচিতি সভা করেন। পরিষদের প্রথম বাজেটের বরাদ্দকৃত ১৭টি সাবমারসিবল সদস্যের স্বাক্ষর জাল করে চেয়ারম্যান তার ব্যক্তিগত লোকদের মাঝে বিতরণ করেন। বিষয়টি চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান ইউপি সদস্যদের গালিগালাজ করেন। এ নিয়ে ইউপি সদস্যরা প্রতিবাদ করলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়। ওই সময় চেয়ারম্যান ভবিষ্যতে আর এমনটি করবেন না বলে কথা দেন। এর কিছুদিন পর ভিজিডি কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়। যা ইউপি সদস্যরা ইউপি সচিবের মাধ্যমে অবগত হন। কিন্তু তখনও চেয়ারম্যান ইউপি সদস্যদের না জানিয়ে একক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্ডগুলো বিতরণ করেন। এ ব্যাপারে ইউপি সদস্যরা চেয়ারম্যানেক জিজ্ঞেস করলে চেয়ারম্যান কর্ণপাত করেননি। অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে বরাদ্দের ৩ টন ২০০ কেজি চাল এবং ৬ টন ৬০০ কেজি গম ও ১০ টি সাবমারসিবল বরাদ্দ পাওয়া যায়। কিন্তু এসব বরাদ্দের ব্যাপারেও চেয়ারম্যান তার সদস্যদের সাথে কোনো প্রকার সমন্বয় না করে একক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছেন। এমনকি মাসিক সভার কাজ অসম্পন্ন রাখা, ট্যাক্সের টাকা উত্তোলনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চেয়ারম্যান তার নিজের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে বাস্তবায়ন করায় পরিষদের কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ে কথা বললে বা প্রতিবাদ করলে ইউপি সদস্যদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে চেয়ারম্যান। ফলে গত ১১ এপ্রিল ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ওই ১০জন ইউপি সদস্য।
গত সোমবার অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক ইকবালের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। এদিকে মঙ্গলবার আবারও তার বক্তব্য জানতে কল করা হলে তিনি রিসিভ না বক্তব্য জানা যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শীতেষ চন্দ্র সরকার বলেন, ‘এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য এসিল্যান্ডকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে তদন্তের জন্য সময়সীমা দেওয়া হয়নি। কিন্তু দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’


