ধর্মপাশা প্রতিনিধি
মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নূরনবী তালুকদারের বিরুদ্ধে ভিজিডি কার্ডধারী দুই উপকারভোগীর সাত মাসের চাল আত্মসাতের অভিযোগের তদন্তে সত্যতা মিলেছে। গত ৭ মার্চ সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদন মধ্যনগরের সাবেক ইউএনও নাহিদ হাসান খানের কাছে জমা দেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তিনি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করে কাল ক্ষেপন করেন। গত ২৮ মে নাহিদ হাসান খান অন্যত্র বদলি হলে ধর্মপাশার ইউএনও শীতেষ চন্দ্র সরকারকে মধ্যনগরের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। এদিকে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন চাওয়া হলেও তা পাওয়া যায়নি। পরে সুনামগঞ্জের খবর একটি বিশ্বস্থ সূত্র থেকে তদন্ত প্রতিবেদনের কপি সংগ্রহ করেছে।
গত ২৫ জানুয়ারি বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের উপকারভোগী আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী আয়েশা খাতুন ও আব্বাস আলীর স্ত্রী রোয়েলা আক্তার ধর্মপাশা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান নূরনবী তালুকদার ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভিজিডির সাত মাসের চাল আত্মসাতের অভিযোগ এনে পৃথক দুটি মামলা করেন। মামলায় বলা হয়, গত বছরের মে মাস পর্যন্ত প্রতি মাসে জন প্রতি ৩০ কেজি করে দুজনেই ভিজিডির চাল পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু একই বছরের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের দুজনের মোট ৪২০ কেজি চাল না দিয়ে নূরনবী তালুকদার ও আমিনুল ইসলাম আত্মসাত করেছেন। পরে ৩০ জানুয়ারি মধ্যনগরের ইউএনও বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (অ.দা.) তৌফিক আহমেদকে আহ্বায়ক এবং মধ্যনগর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিন কুর্মী ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলামকে সদস্য করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটি ১৪ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কাজ শেষ করেন এবং ৭ মার্চ মধ্যনগরের ইউএনওর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১-২২ অর্থ বছরের ওই ইউনিয়নে ২০১ জন উপকারভোগীর মাঝে ১৯৯ জন নিয়মিত চাল পেলেও আয়েশা ও রোহেলা সাত মাসের চার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কোভিড-১৯ তথা অকাল দীর্ঘস্থায়ী বন্যা/প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে আয়েশা ও রোহেলা অসহায় অবস্থায় অভুক্ত থেকে সরকারের সাহায্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভিজিডির চাল বিতরণ করা না হলেও (মধ্যনগর সদর থেকে চাল বিতরণ করা হয়েছিল) আয়েশা ও রোহেলার চাল এখনো ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে মজুদ রয়েছে মর্মে চেয়ারম্যান ও ইউপি সচিব শামীম আহমেদ তদন্ত কমিটিকে জানিয়েছেন। এছাড়াও রোহেলার স্বামী রোহেলার পক্ষে চার মাসের চাল অঙ্গীকারনামা দিয়ে গ্রহণ করেছেন মর্মে তদন্ত কমিটি জানিয়েছেন চেয়ারম্যান। কিন্তু রোহেলার স্বামী একটি অঙ্গীকারনামায় সই করলেও তাকে ভিজিডির চাল দেওয়া হয়নি। এমনকি যেসকল উপকারভোগী স্বশরীরে চাল গ্রহণ করতে পারেননি তাদের পক্ষে পরিবারের অন্য কেউ চাল গ্রহণ করলে কোনো অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়নি। অভিযোগকারীরা চেয়ারম্যানের কাছে বারবার চালের জন্য দাবি উত্থাপন করলেও চেয়ারম্যান চাল দিয়ে দিবেন বলে দিনের পর দিন মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছেন। অভিযোগকারীরা ভিজিডি কার্ডের বই হারিয়ে ফেলায় তারা চাল তুলতে আসেননি বলে তদন্ত কমিটির কাছে চেয়ারম্যান ও ইউপি সচিব জানালেও দুজন অভিযোগকারীর কাছেই ভিজিডি কার্ডের বইটি সংরক্ষিত আছে এবং ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম অভিযোগকারীগদের চাল সংগ্রহে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করেছেন বলেও তদন্ত কমিটি তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন।
ইউপি চেয়ারম্যান নূরনবী তালুকদার বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনের ব্যাপারে জানিনা। বিদায়ী ইউএনও এ ব্যাপারে আমাদের কিছু জানিয়ে যাননি। এ ব্যাপারে পরে কথা বলবো।
মধ্যনগরের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ধর্মপাশার ইউএনও শীতেষ চন্দ্র সরকার বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনটি পেয়েছি। কিন্তু বিস্তারিত পড়ে দেখার সুযোগ হয়নি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


