স্টাফ রিপোর্টার
টানা বৃষ্টির পর অবশেষে স্বস্তি পেয়েছেন সুনামগঞ্জবাসী। মেঘলা আকাশ ভেদ করে ৯ দিন পর দেখা মিলেছে রোদের। শুক্রবার পুরো দিনই ছিল রোদ্রোজ্জ্বল। অবশ্য গত বৃহস্পতিবার বিকালের দিকে কিছুক্ষণের জন্য রোদের দেখা পাওয়া গিয়েছিল। এদিকে রোদ উঠায় নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষের মাঝে ফিরেছে স্বস্তি। গত কয়েকদিন টানা বৃষ্টিতে জীবন জীবিকা নিয়ে এরা পড়েছিলেন বিপাকে। রোদ উঠায় কর্মক্ষেত্রে ফিরতে পেরে দারুণ খুশি শ্রমজীবীরা।
পৌর শহরের মল্লিকপুর এলাকার আব্দুজ জহুর সেতুর পাশে সড়কে চা বিক্রি করেন হাবিবুল্লাহ। তিনি বলেন, গত কয়েকদিন বৃষ্টিতে ব্যবসা মন্দা আছিল। আজকে সকাল থেকে দিনটা পরিস্কার। রোদ থাকায় বিকিও (বিক্রি) হচ্ছে। হাবিবুল্লাহ অবশ্য বলেছেন, বর্ষার এই সময়ে বৃষ্টিরও প্রয়োজন ছিল।
নতুন বাস স্টেশনের আখের রস বিক্রেতা বিকাশ দাশ বলেন, আমার কিছু জমি জিরাত আছে। পাশাপাশি গত ১০ বছর ধরে আখের রস বিক্রি করছি। এবার ধান ভালো হওয়ায় বছরের খোরাকি তুলতে পেরেছি। এমনিতে আখের রস বিক্রি করে দৈনিক আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা বিক্রি হয়। এতে খরচ বাদে লাভ হয় ৮০০-১০০০ টাকা। বৃষ্টি হলে ব্যবসা বন্ধ থাকে। বৃষ্টির জন্যই ১০-১২ দিন ব্যবসা বন্ধ ছিল। ঘরে খাবারের যোগান থাকায় চলতে পেরেছি, নইলে উপোস থাকা লাগত। আজ রোদ উঠায় বিক্রিও ভালোই হচ্ছে।
ওয়েজখালি এলাকার রিক্সা, সাইকেলের মেকানিক শারীরিক প্রতিবন্ধী আজিজুল বললেন, বৃষ্টি হওয়ায় গত কয়েকদিন ব্যবসা মান্দা ছিল। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আমাকে। আজকে রোদের দেখা পাওয়ায় কাস্টমার আসছে, রুজিও ভালোই হচ্ছে।
এর আগে গত ১৪ জুন থেকে অঝোর ধারায় বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বাড়ছিল জেলার বিভিন্ন নদীর পানি। শুক্রবার পাউবোর পানি পরিমাপ যন্ত্রের হিসাব মোতাবেক সুনামগঞ্জ, দিরাই ও যাদুকাটা পানি বিপদসীমার নীচে রয়েছে। একমাত্র ছাতক পয়েন্টে গত ১৮ জুন থেকে সুরমা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে বিপদসীমার উপর দিয়ে। তবে বৃহস্পতিবারের মতো শুক্রবারও ৯.০৫ সেন্টিমিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল সুরমার পানি। যা বিপদসীমার ৯৪ সেন্টিমিটার উপরে।
এদিকে সুনামগঞ্জ পয়েন্টে ০.০৭ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ০.৩৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে অর্থাৎ ৭.৪৫ সেন্টিমিটার উচ্চতায় সুরমা নদীর প্রবাহিত হচ্ছে। দিরাই উপজেলার পুরাতন সুরমা নদীর পানি ০.২০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ০.৬৭ সেন্টিমিটার নিচে। যাদুকাটা নদীর পানি বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা পয়েন্টে ০.১৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ১.৭৩ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। এছাড়াও জগন্নাথপুর উপজেলার নলজুর নদীর পানি ০.১৩ সেন্টিমিটার বেড়ে ৬.৪০ সেন্টিমিটার উচ্চতায় এবং তাহিরপুর উপজেলার পাটনাই নদীর পানি ০.২০ সেন্টিমিটার বেড়ে ৬.০১ সেন্টিমিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রও জানিয়েছে, কুশিয়ারা ব্যতীত, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদ-নদী সমূহের পানি সমতলে স্থিতিশীল আছে। আবহাওয়া সংস্থাসমূহের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘন্টায় দেশের উজানে ও উত্তর পূর্বাঞ্চলে মাঝারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এসময়ে এ অঞ্চলের নদ-নদী সমূহের পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে গত ২৪ ঘন্টায় ৬৪.০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-১ মামুন হাওলাদার জানান, সুনামগঞ্জ ও ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত কম হয়েছে। সেজন্য ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বৃহস্পতিবারের মতোই ৯৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জ পয়েন্টে পানি কিছুটা কমেছে।
তিনি আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জের লাউড়েরগড় পয়েন্টে ৩৬ মিলিমিটার, ছাতকে ১১ মিলিমিটার, সুনামগঞ্জে ৬৫ মিলিমিটার এবং দিরাইয়ে ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।


