ছাতকের একটি স্কুলে স্লিপের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে স্লিপ গ্র্যান্টের টাকা শর্ত ভঙ্গ করে খরচ দেখিয়ে আত্মাসাতের অভিযোগ উঠেছে নোয়ারাই ইউনিয়নের মানিকপুর-গোদাবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। স্লিপ গ্র্যান্টের অর্থ উত্তোলনের ভাউচারে প্রধান শিক্ষক পান-সুপারী বাবদ ১ হাজার টাকা ব্যয়ের কথাও উল্লেখ করেন যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অপ্রযোজ্য। সরকারী শর্ত অনুযায়ী স্লিপের অর্থ ৩৪টি বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যয় না করার বিধান থাকলেও এ বিদ্যালয় অনেকগুলো শর্তই লংঘন করে  গ্র্যান্টের ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছে।
মানিকপুর-গোদাবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্লিপ খরচের হিসাব বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০মে পান-সুপারী বাবদ ১হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে । এছাড়া ৩নং ভাউচারে চান্দুয়া, পর্দা, চেয়ার-টেবিল বাবদ ১হাজার টাকা, ৬নং ভউচারে পেইলাক রং ও তারপিন তেল ২হাজার টাকা, ৭নং ভাউচারে গল্পের বই, মেয়েদের রশি, বল  
নিক্ষেপ, কেরাম বোর্ড, মোবাইল ফোন, ফুটবল প্রভৃতি বাবদ সাড়ে ৫ হাজার টাকা, ৮নং ভাউচারে থার্মোমিটার, কেঁচি, কটন বাবদ ২ হাজার টাকা, ৯নং ভাউচারে কাব দলের ব্যাজ বাবদ ২ হাজার ১০ টাকা, ১০নং ভাউচারে জ্যামিতি বক্স, কলম, খাতা ও ছবি বাঁধাই বাবদ ৩ হাজার ৭শ ৫০ টাকা, ১৫নং ভাউচারে খাতা, কলম বাবদ ২ হাজার টাকা, ১৬নং ভাউচারে চেয়ার-টেবিল বাবদ ৮ হাজার ৮শ টাকা, ১৭ নং ভাউচারে মিস্ত্রি খরচ দেখানো হয়েছে ৩হাজার ৯শ ৪০ টাকা। ১৭টি ভাউচারের মধ্যে বাকী ভাউচারগুলো জিলাপি কাটা-গজা ইত্যাদি আপ্যায়ন খরচ দেখিয়ে ৪০হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়।
গত ২৮মে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক স্বাক্ষরিত ভাউচার জমা দিয়ে স্লিপের টাকা উত্তোলন করা হয়। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ একটি কাল্পনিক ভাউচার সৃজন করে স্লিপের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আজব আলী জানান, স্লিপের টাকা আত্মসাৎ করা হয়নি। বিধি মোতাবেক বিল-ভাউচারের মাধ্যমে টাকা খরচ করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক ফোন রিসিভ করে এ ব্যাপারে কোন কথা না বলেই সংযোগ কেটে দেন।