ছাতকের সেওতরচর বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণে পৌনে এক কোটি টাকা বরাদ্দ

বিজয় রায়, ছাতক
ছাতকের জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সেওতেরচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৪ বছর পর বিদ্যালয়ে নতুন ভবনের জন্য সরকারী প্রায় পৌনে এক কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিদ্যালয়ের ভবনের জন্য দরপত্র আহবান সম্পন্ন হয়েছে। শিঘ্রই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলে জানা গেছে। গত ১১ জানুয়ারি জড়াজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সেওতেরচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় দৈনিক সুনামগঞ্জে খবর পত্রিকায়। এর পর থেকেই বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের নজর কাড়তে শুরু করে। প্রতিষ্ঠার ১৪ বছরের মধ্যে কোন সংস্কার না হলেও, সংবাদ প্রকাশের ছ’ মাসের মধ্যেই এ বিদ্যালয়ের ভাগ্য খুলে যায়।   
প্রায় একযুগের বেশী সময় ধরে জড়াজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা অধ্যয়ন করে আসছে। ছাতক-জাউয়া প্রধান সড়ক সংলগ্ন ও মনোরম পরিবেশের মধ্যে বিদ্যালয়ের অবস্থান হলেও এর করুণ অবস্থা দায়িত্বশীলদের নজড় কাড়তে সময় লেগেছে প্রায় ১৪ বছর। বিদ্যালয়টি দেখতে অনেকটা ৮০ দশকের পুরাতন ও পরিত্যক্ত পাট গোদামের মতো মনে হয়। জড়াজীর্ণ এ বিদ্যালয়টি যেকোন সময় ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশংকাও ছিল স্থানীয়দের।
২০০২ সালে সেওতরচর গ্রামে ১৭১নং সেওতরচর প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সেওতরচর গ্রামের বাসিন্দা শিক্ষাবিদ হাজী ওয়াহাব আলী এলাকার শিশুদের শিক্ষা লাভের সুযোগ সৃষ্টি করতে বিদ্যালয়ের জন্য প্রায় ৩৩ শতক ভূমি দান করেন। তার প্রচেষ্টায়ই  ২০০২ সালের ১ জানুয়ারি বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিদ্যালটি আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। তৎকালীন সময় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন হাজী ওয়াহাব আলী। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে বিদ্যালয়টি বাঁশ-কাঠ ও টিন দিয়ে তৈরী করা হয়। পরবর্তীতে কয়েকটি রড-সিমেন্টের পিলার ছাড়া প্রতিষ্ঠার ১৪ বছরে বিদ্যালয়ের আর কোন সংস্কার কাজ করা হয়নি। প্রায় ৭২ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট এ বিদ্যালয়ের কোন দরজা-জানালা নেই। চারটি কক্ষে বিভক্ত সম্পূর্ণ টিন দিয়ে তৈরী বিদ্যালয়টি প্রায় অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যালয়ে পাঠদানের জন্য নিয়োজিত প্রধান শিক্ষকসহ ৪জন শিক্ষকের মধ্যে ৩জনই শিক্ষিকা। বর্তমানে ২শ’৪৫জন শিক্ষার্থী রয়েছে বিদ্যালয়ে । ২০১২ সালে বিদ্যালয়টি সরকারীকরণ করা হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিম বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রচেষ্টাকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। আধুনিক ভবন নির্মাণের পর এখানে শিক্ষার নতুন পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলে তিনি মনে করেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি ভুমিদাতা হাজী ওয়াহাব আলীর পুত্র মোয়াজ্জেম হোসেন টুনু বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে বরাদ্দ দেয়ার জন্য সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একই সাথে উপজেলা চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুলকেও তিনি তার প্রচেষ্টার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রকৌশলী সমরেন্দ্র দাস তালুকদার জানান, সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের প্রচেষ্টায় এখানে নির্মিত হতে যাচ্ছে একটি দৃষ্টিনন্দন ভবন। সেওতরচর প্রাথমিক বিদ্যালয় হবে একটি আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।