ছাতকে কলেজ ছাত্র মিজান হত্যা মামলার আসামীর দৌরাত্ম্য

ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকের সিংচাপইড় ইউনিয়নের আইনাকান্দি গ্রামের জাউয়া ডিগ্রী কলেজের ছাত্র মিজানুর রাহমান মিজান হত্যা মামলার বহুল আলোচিত অন্যতম পলাতক আসামী একই গ্রামের মৃত আঞ্জব আলীর পুত্র লইলুছ মিয়ার সাথে বাদীর বাক-বিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। আসামীর বেপরোয়া আচরণে ও দৌরাত্ম্য দেখে হতভম্ব হয়েছেন মামলার বাদী ও উপস্থিত লোকজন।
অবশেষে আসামীকে আটক করেও পুলিশে সোপর্দ করতে না পারায় মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন বাদী। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার বিকেলে সিংচাপইড় ইউনিয়নের জিয়াপুর-পরগনা বাজারে।
মামলার বাদী সুরুজ মিয়া জানান, বিকেলে বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসে তিনি চা পান করছিলেন। হঠাৎ করে অভিযুক্ত লইলুছ তাকে ধাক্কা দিয়ে তার পাশে বসে। এ নিয়ে বাদী সুরজ মিয়া ও আসামী লইলুছ কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে আসামীকে ঝাপটে ধরে জাউয়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই শফিকুল ইসলামকে খবর দেন। কিন্তু পুলিশের অসহযোগিতার কারণে খুনীকে পুলিশে সোপর্দ করতে না পারায় বাদী সুরুজ মিয়া ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছেন।
বাদী আরো জানান, হত্যা মামলার আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করে বাদী পক্ষের লোকজনদের হুমকী-ধামকি দিয়ে যাচ্ছে। একটি প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় খুনীরা ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তিনি আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উলে¬খ্য গত ২ জুলাই আইনাকান্দি গ্রামের মৃত মুশাহিদ আলির পুত্র জাউয়াবাজার কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মিজানুর রাহমান মিজানকে প্রতিপক্ষরা পিটিয়ে হত্যা হকে। ৪ জুলাই নিহতের চাচা সুরুজ আলী বাদী হয়ে ছাতক থানায় হত্যা মামলা  দায়ের করেন। মামলা দায়েরের প্রায় ৪মাস পর গত ২৭ অক্টোবর এ মামলার  এজাহারভুক্ত  ১৭ জন আসামীর মধ্যে প্রথম থেকে ১২ জন আসামীর নাম বাদ দিয়ে চার্জশিট প্রদান করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জাউয়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই সফিকুল ইসলাম। এমন অদ্ভূত চার্জশিট প্রদানে মামলায় সুবিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংকায় বাদী সুরুজ আলী ১২ নভেম্বর পুনঃতদন্তের জন্য চার্জশিটের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি প্রদান করেন। নারাজির প্রেক্ষিতে মামলাটি অধিক তদন্তের জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখার নিকট প্রেরণ করেন আদালত। ডিবিতে স্থান্তরের পর পুনঃ তদন্ত করেন সুনামগঞ্জ ডিবির ওসি দুলাল মাহমুদ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সফিকুল ইসলাম জানান, এমন কোন খবর আমি পাইনি।