স্টাফ রিপোর্টার, জামালগঞ্জ
জামালগঞ্জের ফেনারবাঁক ইউনিয়নের রাজাবাজ গ্রামে সোমবার থেকে শুরু হয়েছে যাত্রাপালার নামে জমজমাট জুয়ার আসর। আশপাশের গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার উঠতি বয়সের যুবকরা জুয়া ও মদের আসরে ভিড় জমাচ্ছে। নির্জন হাওর পাড়ে এই মেলার আয়োজন করায় সেখানে যাত্রার নামে জুয়ার আসর ও মদসহ নানা অসামাজিক কাজ হচ্ছে।
স্থানীয় এলাকারবাসীর অভিযোগ থানা পুলিশকে অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে এসব কাজ চলছে। থানার ওসি আতিকুর রহমানের দাবি অনুমোদন নিয়ে যাত্রাপালার আসর তৈরি করা হয়েছে। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিটন খীসা জানিয়েছেন এধরনের কোন অনুমতির বিষয়ে তিনি অবগত নন।
যাত্রাপালার আয়োজক রাজাবাজ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুছ জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে অনুমোদন নেয়ার দাবি করলেও জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার রাতে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে জানিয়েছেন, জামালগঞ্জের কোথাও কাউকে বাণিজ্যিক যাত্রাপালার আয়োজন করতে অনুমতি দেয়া হয়নি। এধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে যাত্রাপালার প্যান্ডেল ভেঙ্গে দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
খোঁজ নিয়ে যায় যায়, শুধু রাজবাজ গ্রামই নয় গেল ফাল্গুন মাস ও চলতি মাসে জামালগঞ্জের আনাচে কানাচে প্রকাশ্যে একের পর এক আয়োজন করা হচ্ছে ঘোর দৌঁড়, ষাড়ের লড়াই, যাত্রা,মেলা। এসব আয়োজনকে সামনে আয়োজকরা দিনরাতেই জুয়া ও মদের আসর বসিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতার ইন্দনে, পুলিশ ও স্থানীয় কিছু হলুদ সাংবাদিকের সহযোগিতায় মানুষের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। সরকার দলীয় কয়েকজন নেতা স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগি কয়েকজন সাংবাদিককে ম্যানেজ করে পল্লীতে প্রকাশ্যে চালাচ্ছে জমজমাট জুয়ার আসর। স্থানীয় এলাকাবাসীর নিষেধ বাধা উপেক্ষা করে চলছে এই আসর।
অবশ্য জামালগঞ্জ থানা পুলিশ বলছে যাত্রা পালা হচ্ছে কিন্তু যাত্রাপালার নামে কোন অসামাজিক কার্যকলাপ হচ্ছেনা। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে দাবী তারা পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে যাত্রা পালার আয়োজন করছেন। অন্যদিকে উপজেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিনি যাত্রা বা কোন অনুষ্ঠান সম্পর্কে অবগত নন। এধরনের কোন অনুষ্ঠানের অনুমোদনের কাগজ পাননি।
এলাকার লোকজন জানিয়েছেন, উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নের আমানীপুর, জামলাবাজ, বিষ্ণপুর, রাজাবাজসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে চলতি মাসে মেলার নামে জুয়ার আসর হয়েছে। অবশ্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে ভান্ডা মল্লিকপুরে জুয়ার আসর হতে পারেন নি। একই ভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমানীপুরের যাত্রার প্যান্ডেল ভেঙ্গে দিয়ে তাদের প্যান্ডেলের মালামাল জব্দ করে নিয়ে আসেন।
রাজাবাজ গ্রামের বেশ কয়েকজন কৃষক বলেন,‘আমাদের গ্রামে যাত্রাকে কেন্দ্র করে দিনরাতে অবাধে চলছে জুয়াখেলা,মদপানসহ নানান অসামাজিক কার্যকলাপ। জুয়ার আসরের কারণে এলাকার এক ফসলী কৃষি নির্ভর পরিবার গুলোর চরম হতাশ হয়ে পড়েছেন। দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কৃষক পরিবারের সন্তানরা চড়া সুদে বৈশাখে ধানের দেয়ার বিনিময়ে টাকা আনছেন মেলায় মদ ও জুয়ার আসরে অংশ নিতে। এতে চরম হতাশায় পড়েছেন কৃষক পরিবারের অভিভাবকরা।
রাজাবাজ গ্রামের যাত্রাপালার আয়োজক রাজাবাজ গ্রামের আব্দুল কুদ্দুছ সাংবাদিকদের বলেন,‘ ডিসি সাবের কাছ থাইক্কা ১৪ তারিখ হতে ১৭ তারিখ পর্যন্ত যাত্রার পারমিশন পাইছি আমরা।’
জামালগঞ্জ থানার ওসি আতিকুর রহমান স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন,‘যাত্রাপালার অনুমোদনের কাগজপত্র দিয়ে গেছে। মদ জুয়াসহ কোন ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ হলে সাথে সাথে বন্ধ করে দেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার টিটন খীসা বলেন,‘ বিনা অনুমতিতে এধরনের বাণিজ্যিক যাত্রাপালা করা অবৈধ। আমি এব্যাপারে অবগত নই। কোন কাগজপত্র পায়নি। রাজাবাজ গ্রামের যাত্রাপালা বন্ধের জন্য প্রয়াজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এ ব্যাপারে দিরাই সার্কেল সহকারি পুলিশ সুপার ছুরত আলম বলেন,‘কোথাও এভাবে মদ,জুয়া ও যাত্রাপালার হতে দেয়া যাবে না। খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
- ছাতকে কলেজ ছাত্র মিজান হত্যা মামলার আসামীর দৌরাত্ম্য
- টাঙ্গুয়ার হাওরের সীমানা নির্ধারণ শুরু হয়েছে মোট পরিধি ৬২ কিলোমিটার


