বিজয় রায়, ছাতক
ছাতকে জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ের অভাবে প্রায় কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ ফাইল বন্দি হয়ে আছে। উন্নয়ন কাজের প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেয়া হলেও টাকা বরাদ্দ না পাওয়ায় উন্নয়ন কাজ করতে পারছেন না স্ব স্ব ইউপি চেয়ারম্যানরা। ফলে এখানের জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে বিরাজমান সমন্বয়হীনাতার দূরত্ব আরো প্রকট আকার ধারণ করছে। এমপি, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যানদের সমন্বয়হীনতায় ছাতকের গ্রামীণ জনগোষ্ঠী বঞ্চিত হচ্ছে তাদের কাক্সিক্ষত উন্নয়ন হতে।
জানা যায়, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বছরের শুরুতেই এডিপি ফান্ডের প্রায় ৯৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয় এখানে। সম উন্নয়নের স্বার্থে প্রত্যেক ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রকল্প জমা দেয়ার সিদ্ধান্ত দেয়া হয় উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভা থেকে। প্রায় চার মাস আগে প্রত্যক ইউপি চেয়ারম্যান স্ব স্ব ইউনিয়নের উন্নয়ন প্রকল্প উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে জমা দেন। প্রকল্প অনুযায়ী পকেটের টাকা খরচ করে প্রকল্পের কাজ শুরুও করেছেন বলে কোন কোন চেয়ারম্যান দাবি করছেন।
এদিকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুলের সভাপতিত্বে ১৯ এপ্রিল সকল ইউপি চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে এ ব্যাপারে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এডিপি ফান্ডের ৯৭ লক্ষ টাকা ১৩টি ইউনিয়নের অনুকূলে বণ্টন করা হয় সর্বসম্মতিক্রমে। কিন্তু বরাদ্দকৃত এডিপি ফান্ডের টাকা বণ্টনের এক মাস অতিক্রান্ত হলেও অদৃশ্য ক্ষমতাবলে সব কিছুই এখন ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে আছে।
সদর ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রত্যেক চেয়ারম্যান উন্নয়ন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়েছেন প্রায় ৪ মাস আগে। বরাদ্দ পাওয়ার আগেই কয়েকজন চেয়ারম্যান কাজও করিয়েছেন বলে দাবি করেছেন। উপজেলা পরিষদ নীতিমালা অনুযায়ী উপজেলা চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে পরিষদের সদস্যদের সাথে সমন্বয় করে এডিপি ফান্ডের এ টাকা বণ্টন করা হয়। কিন্তু পরিষদের উপদেষ্টা সংসদ সদস্য নিজ ক্ষমতাবলে কোটি টাকার এ উন্নয়ন কাজ আটকে রেখেছেন।
উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর মিয়া জানান, জনপ্রতিনিধিদের সমন্বহীনতার কারণে উন্নয়ন কাজটি আটকে আছে। বিশেষ করে এমপির সাথে ৫ চেয়ারম্যানের বিরোধের কারণেই আপাতত কাজটি আটকে আছে। কয়েক দিনের মধ্যেই বিষয়টি নিস্পত্তি হবে বলে তিনি আশাবাদি।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল জানান, পরিষদের উপদেষ্টা হিসেবে পরিষদের সভায় উপদেশ দেয়ার অধিকার রয়েছে এমপির। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার শুধু মাত্র উপজেলা পরিষদের। দেশের বাইরে থাকায় এমপির সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।


