ছাতকে তীর খেলার নামে রমরমা জুয়ার আসর

ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে ভারতীয় তীর সিলং খেলার নামে চলছে রমরমা জুয়ার আসর। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাজার-হাজার টাকার তীর খেলা চলছে। এ খেলায় চোখ বেঁধে তীর ছুঁড়ার উপর নির্ভর করছে জুয়ারীদের টাকা পাওয়া না পাওয়ার বিষয়। প্রায় মাস দু’য়েক ধরে প্রকাশ্যেই চলছে এ তীর খেলা নামের জুয়ার আসর।
স্থানীয় লোকজন জানান, উপজেলার জাউয়াবাজার ইউনিয়নের বড়কাপন পয়েন্টের একটি কক্ষে প্রতিদিনই তীর খেলার নামে বসছে জুয়ার আসর। প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকার তীর খেলা চলছে এখানে। দক্ষিণ বড় কাপন গ্রামের জমসিদ আলীর পুত্র আতাউর রহমান মখন নামের এক ব্যক্তি তীর খেলার আসর বসিয়েছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। স্থানীয় ও এলাকার বাইরে থেকে আসা স্কুল-কলেজ পড়–য়া ছাত্র, যুবক, রিক্সা ও ঠেলা চালকসহ শ্রমিক শ্রেণীর মানুষ সর্বনাশা এ তীর খেলায় জড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় লোকজন একাধিকবার বাধা-আপত্তি দিয়েও এ খেলা বন্ধ করতে পারছেন না। যুব সমাজকে   রক্ষার স্বার্থে এলাকার পক্ষ থেকে বিষয়টি মৌখিকভাবে বার-বার জাউয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে অবহিত করার পর প্রায় এক মাস আগে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পূর্বপাগলা ইউনিয়নের চুরখাই গ্রামের আফিক মিয়া নামের এক যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু খেলার আয়োজকদের গ্রেফতার না করায় এখানে তীর খেলা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুন নুর জানান, এলাকার লোকজনদের নিয়ে তিনি একাধিকবার জাউয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে খেলা বন্ধের দাবি জানিয়েও কোন ফলাফল হয়নি। তাদের অভিযোগ পুলিশের সহায়তাই এখানে সর্বনাশা তীর খেলা পরিচালনা করা হচ্ছে।
জাউয়াবাজার ইউপি চেয়ারম্যান মুরাদ হোসেন জানান, তীরখেলা সম্পর্কে তিনি স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনেছেন। খেলা বন্ধে তিনি প্রশাসনের স্মরনাপন্ন হবেন বলে জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত আতাউর রহমান মখন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তীর খেলার কোন আসর এখানে নেই। এসব খেলার সাথে তিনি জড়িতও নন।
জাউয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইসচার্জ এসআই নুর মিয়া বলেন,‘ প্রতিদিনই তীর খেলার আসরে পুলিশ ধাওয়া করছে। কিন্তু পুলিশ চলে এলেই আবারো শুরু হয় খেলা। তীর খেলায় জড়িত একজনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়ে ছিলেন তিনি। কিন্তু পরদিনই জামিনে বেরিয়ে এসেছে। খেলা বন্ধে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’