ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে পৃথক ৩টি সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত ও অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তির মৃত্যু রহস্য নিয়ে এলাকায় চলছে জল্পনা-কল্পনা। বুধবার পৌর শহরের বাশখলা, চরেরবন্দ, কালারুকা ইউনিয়নের কালারুকা বাজার ও করছখালী গ্রামে এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত অন্তত ১০জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চুরি করা বৈদ্যুতিক তার নিয়ে বাঁশখালা এলাকার মৃত চমক আলীর পুত্র মনির মিয়া ও কামাল উদ্দিনের পুত্র ইসহাক মিয়া পক্ষ দ্বয়ের মধ্যে দফায়-দফায় সংঘর্ষে মহিলাসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহত ইসহাক মিয়া (২৭) ও মাসুম রানা (১২) কে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে গ্রাম সংলগ্ন মোকামের পাশে ইসহাক মিয়া পক্ষের সুমন মিয়া (২৫) নামের এক যুবকের লাশ পাওয়া যায়।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে পেপার মিলের পরিত্যক্ত শ্যামলী কলোনীর একটি বিল্ডিংয়ের ৪র্থ তলায় বাঁশখালা এলাকার পারভেজ, সুজন ও জুয়েলসহ সহযোগিরা চুরি করা বৈদ্যুতিক তার থেকে তামার অংশ বের করতে বৈদ্যুতিক তারে আগুন ধরিয়ে দেয়। বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনা নিয়ে ইসহাক আলীর সাথে পারভেজ ও তার সহযোগিদের কথা কাটাকাটি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গ্রামের গণ্যমান্যদের মধ্যস্থতায় তাৎক্ষণিক সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনার জের ধরে বিকেলে উভয় পক্ষ পেপার মিল মাদ্রাসা মাঠে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে মহিলাসহ উভয় পক্ষের ২০ব্যক্তি আহত হয়। ইফতারের পূর্ব মুহুর্তে এক পর্যায়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রিত হলে গ্রাম সংলগ্ন একটি মোকামের কাছে সংঘর্ষে জড়িত থাকা সুমন মিয়ার মৃত দেহ পড়ে থাকতে দেখতে পায় গ্রামের লোকজন। সুমনের পরিবারের লোকজন তাকে ছাতক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় সুমনের শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। তবে ঘারের পিছনে কালচে দাগ দেখতে পাওয়া যায়। সুমন শ্বাসরুদ্ধ অবস্থায় মারা গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ইসহাক মিয়া পক্ষের দাবি সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষরা সুমনকে ধরে নিয়ে গলায় গামছা পেছিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করেছে।
অপর পক্ষের লোকজন বলছেন, নিজ গৃহে ফাঁস লাগিয়ে সুমন মিয়া আত্মহত্যা করেছে। প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য আত্মহত্যার ঘটনাকে হত্যা বলে প্রচার করছে তারা। সংঘর্ষে আহত মোহনমাল (৩৫), কামাল মিয়া (৬০), মনির মিয়া (৫২), শাহানারা বেগম (২৮), আনফর আলী (৫০), সুজন মিয়া (২০), জাকারিয়া (১৪)সহ অন্যান্য আহতদের ছাতক হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ছাতক থানার এসআই চম্পক দাম জানান, শরীরে বড় রকমের কোন আঘাতের চিহ্ন না থাকায় ময়না তদন্ত ছাড়া কোন কিছু বলা যাবে না।
এদিকে, স্ট্যান্ড নিয়ে বুধবার সকালে কালারুকা বাজারে অটোটেম্পু শ্রমিকদের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ শ্রমিক আহত হয়েছে। গুরুতর আহত জহির আলী (২০) ও বিলাল মিয়া (২০)কে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্যদের ছাতক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পৌর শহরের চরেরবন্দ এলাকায় ভুমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দু’ পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১২ ব্যক্তি আহত হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় চরেরবন্দ এলাকায় এ সংঘর্ষে ঘটনা ঘটে। আহতদের ছাতক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। গাছের ডাব পারাকে কেন্দ্র করে কালারুকা ইউনিয়নের করছখালী ও আকুপুর গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে উভয় গ্রামের ২৫ ব্যক্তি আহত হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে উভয় গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
স্থানীয়রা জানান, গাছের ডাব পারা নিয়ে আকুপুর গ্রামের আলতাব আলী পক্ষ ও করছখালী গ্রামের আরকান পক্ষদ্বয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনার জের ধরে উভয় গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত ফয়জুর রহমান (৩২) ও সোহরাব আলী (২৩)কে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্য আহতদের মধ্যে মুহিবুর (২৮), আলতাব আলী (৬০), কাউসার (২০) মানিক আলী (৩৫) আরকান আলী (৭০), জুনেদ (২৫), আবু আহমদ (২০), আলী হোসেন (৭০) ছাতক ও কৈতক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


