ছাতকে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে সুরমার পানি

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ জেলায় ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সুরমা নদীর পানি ছাতক পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে উপজেলার কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের রবিবার সকাল ৯টায় দেয়া তথ্যমতে, ছাতকে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৪১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার অন্যান্য নদীর পানি এখনও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জানা যায়, গত ২৪ ঘন্টায় তাহিরপুরের লাউড়েরগর পয়েন্টে ১৪৭, ছাতকে ১১২, সুনামগঞ্জে ১০০ ও দিরাই উপজেলায় ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়াও ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ১৭১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা গত শুক্রবার ছিলো ১৬৭ মিলিমিটার। গত ৭ থেকে ১৮ তারিখ পর্যন্ত সুনামগঞ্জে ২ হাজার ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
ছাতকের ইসলামপুর ইউনিয়ন, নোয়ারাই ও কালারুকা ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের নিচু এলাকায় পানি প্রবেশের খবর পাওয়া গেছে। এরকম বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল চলতে থাকলে বাড়িঘরে পানি উঠবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মো. জানে আলম বলেন, গ্রামের কিছু বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। এরকম বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে সবার বাড়িঘরে পানি উঠবে।
একই ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী পাতারিপুর গ্রামের বাসিন্দা জিল্লুর রহমান মুবিন বলেন, গ্রামের রাস্তাঘাট সব ডুবে গেছে। আমাদের বের হওয়ার উপায় নেই।
ছাতক পৌরসভার বৌলা গ্রামের বাসিন্দা নজরুল হক বলেন, আমাদের পৌর শহরে এখন পানি উঠেনি। তবে মেঘালয়ের ঢল নামলে রাস্তাঘাটে পানি চলে আসবে। বৃষ্টিপাত না হলে এই পানি ভাটির দিকে চলে যাবে।
ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরের জামান চৌধুরী বলেন, উপজেলার সব হাওর পানিতে পরিপূর্ণ হয়নি। হাওর পানিতে পরিপূর্ণ হতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে। এখনও কোনো এলাকায়ই পানি উঠেনি। তবে এরকম বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতি অবনতি হবে। সেজন্য প্রয়োজনীয় নৌকা, আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জানা যায়, জেলার ৯৯টি হাওরের বেশিরভাগে পানি এখনও পরিপূর্ণ হয়নি। ঢলের পানি যাদুকাটা, বৌলাই, পাটলাই, সুরমাসহ পাহাড়ি নদী দিয়ে হাওরে প্রবেশ করছে। কিছু হাওর পানিতে ভরপুর হলেও বেশিরভাগ হাওর পানিতে পরিপূর্ণ হতে আরও কয়েকদিন লাগবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ২৪ ঘন্টায় সুরমা নদীর দিরাই পয়েন্টে পানি কমেছে। শনিবার এই নদীতে পানির উচ্চতা ছিলো ৫১১ সেন্টিমিটার, যা রবিবার ১২ সেন্টিমিটার কমে দাঁড়িয়ে ৪৯৯ সেন্টিমিটারে। জগন্নাথপুরের নলজুর নদীতে ১২ সেন্টিমিটার বেড়ে রবিবার ৫১১ সেন্টিমিটার, তাহিরপুরের পাটনাই নদীতে ১৬ সেন্টিমিটার বেড়ে ৫১৯ সেন্টিমিটার, সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ পয়েন্টে ৩৭ সেন্টিমিটার বেড়ে ৭০৪ সেন্টিমিটার ও যাদুকাটা নদীর শক্তিয়ারখলা পয়েন্টে ৯ সেন্টিমিটার বেড়ে ৬০৯ সেন্টিমিটারে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
শাল্লা সদর ইউনিয়নের ডুমরা গ্রামের বাসিন্দা জনি দাস বলেন, গতকাল হাওরের পানি ঢুকার পথ খুলে দেওয়া হয়েছে। ছায়ার হাওর, বরাম হাওর ও ভান্ডাবিল হাওরে এখন পানি ঢুকছে। যেভাবে বৃষ্টিপাত হচ্ছে এই হাওরগুলো পরিপূর্ণ হতে আরও এক সপ্তাহ সময় লাগবে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বললেন, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানি হাওরে ঢুকে নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। আগামী কয়েকদিন এরকম বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।
জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী বললেন, পূর্বাভাস মতে আগামী ৪৮ ঘন্টায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রতিটি উপজেলায় ১০ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। উদ্ধারকাজে ব্যবহারের জন্য ১০০ নৌকার তালিকা করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে নৌকা কাজে লাগানো হবে। এছাড়াও জেলা প্রশাসন, রেড ক্রিসেন্ট ও পৌরসভার ৬০০ প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কে কোন দায়িত্বে থাকবে তাও ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।