ছাতকে বৃক্ষমেলা সমাপ্ত চারা বিক্রিতে ধ্বস, স্টল মালিকদের মধ্যে হতাশা

ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে বৃক্ষমেলায় অংশগ্রহণকারী নার্সারী মালিকদের হতাশার মধ্যদিয়ে সপ্তাহ ব্যাপি বৃক্ষমেলা শেষ হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অধিদপ্তরের উদ্যোগে সপ্তাহ ব্যাপি কৃষি প্রযুক্তি ও ফলদ বৃক্ষমেলার রবিবার সকালে উপজেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে ও উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল হামিদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাপনী সভায় বক্তব্য রাখেন, সমবায়   কর্মকর্তা বিজিত রঞ্জন কর, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোশারেফ হোসেন, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম, সাবেক ইউপি সদস্য সমরুজ আলী, আরশ আলী, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাহাব উদ্দিন, পদ্মমোহন সিংহ, জহুর আলী প্রমূখ। সভায় বৃক্ষমেলায় আগত নার্সারী মালিকদের পুরস্কার প্রদান করা হয়।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে বৃক্ষমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল। মেলায় উপজেলা বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৪টি নার্সারী মালিক পৃথক স্টল বসিয়ে ছিল। এ বছর প্রথমবারের মতো উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে বৃক্ষমেলার আয়োজন করায় মেলায় যোগদান করা নার্সারী মালিক লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে। মেলায় আগত স্টল মালিকরা জানান, পর্যাপ্ত বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ মেলায় স্থান পেলেও মেলা ছিল প্রায় ক্রেতা শুন্য। মেলার প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত বিছিন্নভাবে কিছু চারাগাছ বিক্রি হলেও প্রায় ক্রেতাশূন্য অবস্থায় বৃক্ষমেলা সপ্তাহ শেষ হয়েছে। মেলার স্থান পরিবর্তন করায় চারা গাছ বিক্রিতে এমন ধ্বস নেমেছে। ফলে লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে নার্সারী মালিকদের। প্রতিবছর শহরের ছাতক বহুমুখী মডেল হাইস্কুলের সামনে বৃক্ষমেলার স্টল বসানো হলেও এ বছর উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে করা হয় এর আয়োজন। ১৪টি স্টলের মধ্যে মুলত ৪টি স্টল শেষদিন পর্যন্ত মেলায় অবস্থান করছিল।
বৃক্ষ মেলায় অংশ নেয়া সিলেট সদরের পীরের বাজারের সবুজবন নার্সারীরর মালিক আবুল হোসেন জনান, সাতদিন তার প্রায় ৫হাজার টাকার চারা বিক্রি হয়েছে এবং খরছ হয়েছে তার ১০হাজার টাকা।
ছাতকের সাজানো বাগান নার্সারীরর মালিক নাছির উদ্দিন জানান, তার খরচ হয়েছে ৭হাজার টাকা আর চারা বিক্রি হয়েছে ২হাজার টাকার।
গোবিন্দগঞ্জের মিরাজ নার্সারীর মালিক আলমগীর হোসেন জানান, সপ্তাহে তার ২হাজার ২শ টাকা বিক্রি হলে খরছ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫হাজার টাকা। পাইগাঁওয়ের ইসলাম নার্সারীর মালিক খলিলুর রহমান জানান, মেলার প্রথম চারদিন তিনি একটি গাছও বিক্রি করতে পারেননি। বাড়ি থেকে বিকাশ একাউন্টের মাধ্যমে টাকা এনে তিনি খাবার খেতে হয়েছে। তার ৬হাজার টাকা খরছ করে গাছ বিক্রি করেছেন এগারো শ’ টাকার।
উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ জানান, স্থান পরিবর্তনের জন্য গাছ কিছু কম বিক্রি হতে পারে। আগের স্থান না পাওয়ায় এ বছর উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে প্রথম মেলার আয়োজন করায় কিছু ক্রেতারা এখানে আসেনি।