ছাতকে ব্র্যাক ম্যানেজার লাঞ্ছিত

ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে প্রতারণা ও ঘুষ দাবির অভিযোগে ঋণ গ্রহীতার স্বজনের কাছে লাঞ্ছিত হয়েছেন ব্র্যাকের এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা। সোমবার বিকেলে উপজেলার দোলারবাজারে এ অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ব্র্যাকের পক্ষে বারগোপী নতুনপাড়া গ্রামের সিএনজি চালক সফাতুলের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ।
জানা যায়,        ব্র্যাকের দোলারবাজার আঞ্চলিক শাখার একজন সুবিধাভোগি হিসেবে দু’বছর ধরে ঋণ গ্রহণ ও প্রদান করে আসছেন দোলারবাজার ইউনিয়নের বারগোপি-নতুনপাড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী ছায়াদ মিয়ার স্ত্রী সাবিনা বেগম। প্রথম দু’দফা যথাক্রমে ১০ হাজার ও ২৫ হাজার টাকা ঋণ হিসেবে উত্তোলন করে  নিয়মিত কিস্তির মাধ্যমে সাবিনা বেগম তা পরিশোধও করেছেন। ৩য় দফা ৩০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণের জন্য ব্র্যাক অফিসের নিয়ম অনুযায়ি প্রতি হাজারে ৫০টাকা করে মোট ১হাজার ৫শ’ টাকা ব্র্যাকের মাঠকর্মী নীপা রাণীর কাছে সঞ্চয় হিসেবে জমা দেন ঋণ গ্রহীতা সাবিনা বেগম। পাস বই ব্র্যাক অফিসে জমাসহ ঋণ গ্রহণের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২৪ নভেম্বর ঋণ উত্তোলনের দিন ধার্য়্য করে দেন শাখা ম্যানেজার। ওইদিন টাকা না থাকার কথা বলে শাখা ম্যানেজার ২৭ নভেম্বর ঋণ নেয়ার জন্য আসতে বলেন গ্রহীতাকে। কিন্তু ২৭ নভেম্বর ঋণ নিতে এসে বিপাকে পড়েন সাবিনা বেগম। ঋণ গ্রহীতা সাবিনা বেগম ও তার দেবর সফাতুলকে সারাদিন অপেক্ষায় রেখে সন্ধ্যায় ঋণ দেয়া যাবে না বলে ম্যানেজার তাদেরকে বিদায় করে দেন। ব্র্যাক কর্মকর্তার এমন অমানবিক আচরণের কারণে সোমবার এ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
সফাতুল জানান, সোমবার বিকেলে দোলারবাজার পয়েন্টে শাখা ম্যানেজার ফরহাদ হোসেন ঋণ পেতে হলে তাকে দু’হাজার টাকা ঘুষ দিতে হবে বলেন। এসময় ঋণের বইটি ফেরত চাইলে ম্যানেজারের সাথে তার বাগ-বিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
ব্র্যাকের এরিয়া ম্যানেজার খলিলুর রহমান জানান, নিরাপতাজনিত কারণে আইনের আশ্রয় নেয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়ভাবে আপোষে নিষ্পত্তি করতেও তার কোন আপত্তি নেই ।
ইউপি চেয়ারম্যান জানান, দু’পক্ষই তাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। উভয় পক্ষ চাইলে ইউনিয়ন পরিষদেবসে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা যেতে পারে।