ছাতক প্রতিনিধি
ছাতক উপজেলা যুব লীগের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন শিল্পপতি সাইফুর রহমান চৌধুরী খোকন। ১৯ আগস্ট রাতে এক বিবৃতিতে তিনি রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়া-ছুঁড়ি থেকে নিজেকে দূরে রাখতেই যুবলীগের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে জানান।
সাইফুর রহমান চৌধুরী খোকন ছাতক শহরের বাগবড়ি এলাকার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান। তার পিতা সুনু মিয়া চৌধুরী ছিলেন বৃহত্তর সিলেটের বিশিষ্ট ব্যবসায়ীদের অন্যতম একজন। পারিবারিক সূত্র ধরেই সাইফুর রহমান চৌধুরী খোকন ছাত্র জীবন থেকেই ছাত্রলীগের সদস্য হওয়ার মধ্য দিয়েই তার রাজনীতির হাতেখড়ি ঘটে। রাজনীতির পাশাপাশি অল্প বয়সেই দক্ষ ও সৎ ব্যবসায়ী হিসেবে ব্যাপক সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছ্নে তিনি। স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা-মসজিদসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দান-দক্ষিণা করে নিজেকে একজন শিক্ষানুরাগী মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আওয়ামী রাজনীতিতে সক্রিয় হন মূলত ২০০৮ সালে। ছাতক-দোয়ারার আওয়ামী লীগ কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত থাকলেও সাইফুর রহমান চৌধুরী খোকন নিজেকে গ্রুপিং রাজনীতি থেকে দূরে রাখার পক্ষেই ছিলেন। দলের পরিচ্ছন্ন রাজনীতির স্বার্থে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে তিনি সব সময়ই নৌকার পক্ষে কাজ করে গেছেন। সে সুবাদেই ছাতক-দোয়ারার নির্বাচিত সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের সাথে হাত মিলিয়ে বিগত ১০ বছর ধরে নিঃস্বার্থভাবে দলের কাজ করে গেছেন তিনি। সম্ভাবনাময় ও সৎ নেতৃত্ব তার মাঝে ফুটে উঠলে পৌর নাগরিকদের চাপে একবার তাকে মেয়র পদে নির্বাচনও করতে হয়েছে। একজন প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সাইফুর রহমান চৌধুরী অফিস-আদালতে কখনই প্রভাব বিস্তার করেননি। দলীয় পদ-পদবীর প্রতি ছিল না তার কোন লোভ-লালসা বা তদবির। জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একজন আদর্শ সৈনিক হিসেবে দলের কাজ করাই ছিল তার নেশা। দলের একজন আদর্শ কর্মী হিসেবে সকলের মনে স্থান করে নেয়ায় ২০১৫ সালের প্রথম দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সাইফুর রহমান চৌধুরী খোকনকে ছাতক উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়। উপজেলা যুবলীগের দায়িত্ব নেয়ার পর এক এক করে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড যুব লীগের কমিটি গঠনও করা হয় তার নেতৃত্বে। কিন্তু রাজনীতির কাদা- ছোঁঁড়া-ছুঁড়ি ও নোংরামী কখনোই তিনি পছন্দ করতেন না। শাসনে দলীয় প্রভাব, মামলা-মোকদ্দমায় তদবীর, প্রশাসনিক কাজে অহেতুক হস্তক্ষেপ, ঘুষ-দুর্নীতি, অনিয়ম, লুটপাট এসবের বিরুদ্ধে ছিল তার অবস্থান। যে কারণে রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
সাইফুর রহমান চৌধুরী খোকন জানান, ‘আওয়ামীলীগ হল একটি গণ-মানুষের দল। মানুষের কল্যাণে এবং মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কাজ করে গেছেন। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনাও পিতার দেখানো পথ ধরেই হাঁটছেন। দেশরতœ শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন সামনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। কিন্তু এখানে রাজনীতির আড়ালে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। এখানের নেতৃস্থানীয়রা গ্রুপিং রাজনীতির নামে গড়ে তুলেছেন স্ব-স্ব লীগ। নেতা-কর্মীরা ব্যক্তিলীগে সম্পৃক্ত হয়ে আলাদা-আলাদা গ্রুপে বিভক্ত হয়ে আছেন। ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করতে একে অন্যের প্রতি কুৎসা রটনা করে বেড়াচ্ছেন। প্রতিনিয়ত চলছে পরস্পরের বিরুদ্ধে কাদা ছোঁড়া-ছুঁড়ি। দল বড় করতে নয় নিজেদের পাল্লা ভারি করতেই দলের নাম ব্যবহার করছেন এসব নেতারা। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন করতে গিয়ে নিজদের শক্তি প্রদর্শন করার বিষয়টি ছিল মুখ্য। সরকারী দলের জাতীয় কর্মসূচী হওয়া সত্ত্বেও ওইদিন গোটা শহর ছিল পুলিশ বেষ্টনীর মধ্যে। হুমকী-ধামকী ও তদরিরের কারণে প্রশাসনের অনেকেই জড়িয়ে পড়েছেন চরম দুর্নীতিতে। ভাল, সৎ অফিসার ছাতকে আসতে চায় না। আসলেও এখানে থাকতে চায় না। এর পেছনে কি কারণ লুকিয়ে থাকতে পারে। আওয়ামী লীগ নেতা পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরীর সরকারী গাড়ি ভাংচুর করা হয় গোবিন্দগঞ্জে। ওই সময় এমপি মুহিবুর রহমান মানিককে ঘোষণা করা হয় অবাঞ্ছিত। প্রশাসনিক চত্ত্বরে দু’গ্রুপের জনপ্রতিনিধিরা জড়িয়ে পড়েন মুষ্টিযুদ্ধে। জনপ্রতিনিধির উপর দ্রুতবিচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়। এসব নোংরামী হচ্ছে কার স্বার্থে। এসব ভেবেই এখানের নোংরা রাজনীতি থেকে নিজেকে দূরে রাখতেই তিনি উপজেলা যুবলীগের পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছি’।


