ছাতকে শিক্ষার্থী পেটানোর ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত

ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে গণহারে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পেটানোর অভিযোগে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আতিকুল ইসলামকে চাকুরি থেকে সাময়িক বরখাস্থ করা হয়েছে। সিলেট বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তাহমিনা খাতুন অভিযুক্ত এ শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেন। বৃহস্পতিবার চাকুরি থেকে সাময়িক বরখাস্তের চিঠি শিক্ষক আতিকুর রহমানের কাছে পৌছে দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, রোববার দুপুরে গোবিন্দগঞ্জ মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতিকুল ইসলাম বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে বসে খোশ গল্প করার সময় বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা শ্রেণীকক্ষ থেকে বের হয়ে খেলাধুলা করছিল। শিক্ষার্থীদের কোলাহলে উত্তেজিত হয়ে প্রধান শিক্ষক লাঠি হাতে নিয়ে শিক্ষার্থীদের সবাইকে একটি রুমের ভেতরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের গণহারে বেপরোয়াভাবে পেটাতে থাকলে ১৫ শিক্ষার্থী আহত হয়। এসময় ছাত্রছাত্রীদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এসে প্রধান শিক্ষক আতিকুল ইসলামের কবল থেকে শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি      হলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ঘটনাস্থল থেকে কৌশলে পলায়ন করেন। এ ঘটনায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে সোমবার সরজমিনে তদন্ত করেন ছাতক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানিক চন্দ্র দাস। তদন্তকালে ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকরা অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করার অভযোগ তুলে এ শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ২৪ ঘন্টার মধ্যে বিদ্যালয় থেকে অপসারনের দাবী জানান। তদন্ত শেষে বুধবার অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মানিক চন্দ্র দাস জানান, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে চাকুরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি শিক্ষক আতিকুল ইসলাম গ্রহণ করেছেন। বৃহস্পতিবার থেকে সাময়িক বরখাস্ত কার্যকরী হবে জানা গেছে।