এনামুল হক এনি, ধর্মপাশা
নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হওয়ায় এবং শ্রেণি কক্ষের দরজা খোলা না থাকায় শিশু শ্রেণিসহ প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরকে কখনো কখনো বিদ্যালয়ের সামনে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়। ফলে শিশু শ্রেণিসহ প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাসের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যায় কখনো কখনো। মাঝে মাঝে ওই সকল শিক্ষার্থীর নাম ডেকে বিস্কুট দিয়েই ছুটি দেওয়া হয়। আবার পরবর্তীতে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি দেওয়া হয়। এতে ওই বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর পাঠদান মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে। এমনটি ধর্মপাশা উপজেলার হাওরবেষ্টিত সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের জাড়ারকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র।
জানা যায়, এ বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১৩২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে মো. সিরাজুল ইসলাম ও গুপী রঞ্জন, শারমিন আক্তার এবং রুবি রাণী সহকারি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। প্রধান শিক্ষকসহ সহকারি শিক্ষকেরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না। একেক জন সপ্তাহে তিন থেকে চারদিন করে পাঠদানে অংশগ্রহণ করেন। তবে বিদ্যালয়ের ক্লাস শুরুর নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয়ে আসতে পারেন না তাঁরা। ফলে ক্লাস করতে আসা শিক্ষার্থীরা শিক্ষক না আসা পর্যন্ত বিদ্যালয়ের ভবনের বারান্দায় অপেক্ষা করতে থাকে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম ধর্মপাশা থেকে নৌপথে মাঝে মাঝে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করেন এবং তিনি যেদিন বিদ্যালয়ে যান দুপুর দুইটার পরই বিদ্যালয় থেকে চলে আসেন। তবে সহকারি শিক্ষক শারমিন আক্তার পার্শ্ববর্তী মোহনগঞ্জ উপজেলা থেকে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করলেও তিনি দু’একদিন সপ্তাহে যতদিন ক্লাস নেন ততদিন জাড়ারকোনাতেই অবস্থান করেন।
গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে এগারটার দিকে বিদ্যালয়ের একজন সহকারি শিক্ষক বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষের দরজা খুলে দেন। এমন সময় শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয়ের দরজা খুলে দেওয়ার এমন চিত্র স্থানীয় কয়েকজন তরুণ মুঠোফোনে ধারণ করেন। এমনকি গত বুধবার সকাল ১১টা ২০ মিনিটের সময় বিদ্যালয়ে দরজা না খোলায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ওই তরুণেরা এই চিত্রটিও মুঠোফোনে ধারণ করেন। পরে তরুণেরা তাঁদের ধারণকৃত স্থীরচিত্রগুলো ফেসবুকে আপলোড করেন।
বিষয়টি জানাজানি হলে বৃহস্পতিবার চারজন শিক্ষকের মধ্যে তিনজন শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। কিন্তু তাঁরা নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারেননি বলে জানান কয়েকজন অভিভাবক। সহকারি শিক্ষক রুবি রাণী ছুটিতে থাকায় বিদ্যালয়ে আসেননি বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
জাড়ারকোনা গ্রামের তরুণ সিলেট মদন মোহন কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষার্থী এজাজুল হক জানান, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি না থাকায় এবং শিক্ষকেরা বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান না করায় শিক্ষার্থীদের চরম ক্ষতি হচ্ছে। তীলে তীলে এ বিদ্যালয়টি ধ্বংসের ধারপ্রান্তে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী নাহিমা আক্তার ও শিশু শ্রেণির ছাত্র শরিফ মিয়ার অভিভাবক জাড়ারকোনা গ্রামের গোলাম জিলানী জানান, শিক্ষককেরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। ফলে তাঁর ছেলে মেয়ের লেখাপড়া মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে।
আবু সাঈদ নামের জাড়ারকোনা গ্রামের একজন সচেতন তরুণ বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষকেরা নিয়মিত আসেন না এমনকি শিক্ষকেরা আসলেও সকাল এগারটা কিংবা সাড়ে এগারটার পরে আসেন। অনেক সময় শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষকের অপেক্ষায় বসে থাকতে হয়।
তিনি আরো জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম ধর্মপাশা থেকে নৌপথে মাঝে মাঝে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করেন এবং তিনি যেদিন বিদ্যালয়ে যান দুপুর দুইটার পরই বিদ্যালয় থেকে চলে আসেন। তবে সহকারি শিক্ষক শারমিন আক্তার পার্শ্ববর্তী মোহনগঞ্জ উপজেলা থেকে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করলেও তিনি দু’একদিন সপ্তাহে যতদিন ক্লাস নেন ততদিন জাড়ারকোনাতেই অবস্থান করেন।
জাড়ারকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক শারমিন আক্তার জানান, তিনি জাড়ারকোনাতেই থাকেন। নিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে সঠিকভাবেই ক্লাস নেন।
নিয়মিত বিদ্যালয়ে থাকেন এমনটি দাবি করে জাড়ারকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, যারা অভিযোগ দিয়েছে তাঁদের জিজ্ঞেস করেন বিদ্যালয়ে থাকি নাকি থাকিনা। আমরা বিদ্যালয়ে নিয়মিতভাবে থেকে পাঠদান করাই। আপনারা অভিভাবকদের জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন। সহকারি শিক্ষক রুবি রাণী ছুটিতে থাকায় বিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার আসেননি বলে জানান তিনি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকেয়া আক্তার খাতুন জানান, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হযরত আলী বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানোর জন্য বলেন এবং অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
- ছাতকে শিক্ষার্থী পেটানোর ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত
- জেলায় দ্বৈত গেজেটধারী মুক্তিযোদ্ধা ২০ জন- কেউ কেউ দুই স্থান থেকে ভাতা তুলছেন


