ছাতকে সংঘর্ষ আপোষে নিস্পত্তির উদ্যোগ- আতংকে রয়েছেন শহরবাসী

ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে সুন্নী ও কওমী সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা আপোষে নিস্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছেন পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। মঙ্গলবার রাতে উভয় পক্ষের সাথে যোগাযোগ করে সালিশ-বৈঠকের মাধ্যমে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিস্পত্তি করার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী জানিয়েছেন। হত্যাকান্ডের ঘটনায় আইনী বিষয়টি ব্যতিরেকে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও অপ্রীতিকর ঘটনা ফের না ঘটার লক্ষে এবং শহরের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। উভয় পক্ষই আপোষের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে শহরের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় তারা শান্তিভঙ্গের       সব ধরনের কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার নিশ্চয়তা দিয়েছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
উদ্যোগ দাতাদের মধ্যে রয়েছেন, পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী, উপজেলা আ.লীগের আহবায়ক আবরু মিয়া তালুকদার, কেন্দ্রিয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য শামীম আহমদ চৌধুরী, পৌরসভার প্যানেল মেয়র তাপস চৌধুরী, আ.লীগ নেতা শাহীন চৌধুরী, ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান পীর আব্দুল খালেক রাজা, অদুদ আলম, সাইফুল ইসলাম, পৌর কাউন্সিলর আখলাকুল আম্বিয়া সোহাগ, ধন মিয়া, নওশাদ মিয়া, দিলোয়ার হোসেন, সাবেক কাউন্সিলর ইরাজ মিয়া প্রমুখ। একটি নিরপেক্ষ স্থানে জনপ্রতিনিধি ও এলাকার বিচারিক গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সুবিধাজনক তারিখে সালিশ-বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি নিস্পত্তি করা হবে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় শহরবাসীর মধ্যে সৃষ্ট আতংক এখনো কাটেনি। শহর জুড়ে বিরাজ করছে থমথমে অবস্থা। মঙ্গলবার রাত প্রায় ৯ টায় ফের সংঘর্ষের আশংকায় মানুষের মধ্যে হঠাৎ শুরু হয় চাঞ্চল্য । শহরে আসা লোকজন প্রাণের ভয়ে ছুটতে থাকেন। শহরের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। ছোট-বড় যানবাহন শহর থেকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায় চালকরা। তবে ওই রাতে সাংঘর্ষিক কোন ঘটনা ঘটেনি। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন অব্যাহত রয়েছে। গত দু’ দিনের মতোই শহরে লোক সমাগম ছিল খুবই নগন্য। শহরের মাছ বাজার বুধবারও ছিল প্রায় ক্রেতা-বিক্রেতা শূন্য। সংঘর্ষে একটি পক্ষের সিংহভাগ লোক মৎস্য সম্প্রদায়ের হওয়াতে মাছ বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব ছিল লক্ষণীয়। সুন্নী ও কওমী মতাবলম্বীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বুধবার বিকেল পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকেও কোন মামলা দায়ের করা হয়নি বলে ওসি আশেক সুজা মামুন জানিয়েছেন। রবিবার ছাতকের জাউয়াবাজারে সুন্নী সমর্থকদের একটি ব্যানার নামানো ও ছাতকে কওমী সমর্থকদের ওয়াজ মাহফিলে বাধা দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার ছাতকে দুপুর থেকে কওমী ও সুন্নী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।