ছাতক প্রতিনিধি
ছাতক-গেবিন্দগঞ্জ সড়কে পৌর ট্যাক্স ধার্য করার প্রতিবাদে দুই দিন ব্যাপি সড়ক অবরোধের বিপক্ষে ফুসে উঠেছে জনতা। শুক্রবার দুপুরে কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারের সামনে স্থানীয় লোকজন বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। পৌর ট্যাক্স প্রত্যাহারের নামে যাত্রী হয়রানী ও ফোরষ্ট্রোক কর্তৃক অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদে স্থানীয় লোকজন এই প্রতিবাদ জানায়।
শুক্রবার দুপুরে লেগুনা দিয়ে যাত্রী পরিবহন করার সময় ফোরষ্ট্রোক শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বাঁধা দিলে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে স্থানীয় লোকজন। এসময় ফোরষ্ট্রোক শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যেতে দেখা গেছে। স্থানীয় লোকজনের দাবি, ভাঙ্গা সড়কের অজুহাতে ফোরষ্ট্রোক চালকরা বিভিন্ন সময়ে তাদের ইচ্ছেমত অবৈধভাবে মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে নিচ্ছে। এছাড়া স্ট্যান্ডের নামে শহরের ছাতক মডেল হাইস্কুল মার্কেট থেকে কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ পর্যন্ত সড়ক দখল করে অনাকাংখিত যানজট সৃষ্টি করে যাচ্ছে। যানজটে কারণে ছাতক মডেল হাইস্কুল ও চন্দ্রনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরায় বাধাগ্রস্থ হয়। ফোরষ্ট্রোক ভাড়া কমিয়ে আনার জন্য ছাতক অনার্স ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থীরা বারবার মৌখিক ও লিখিতভাবে স্ট্যান্ড কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানালেও বিষয়টি তারা আমলে নেয়নি।
স্থানীয়রা ছাতক থেকে সিলেট পর্যন্ত ৫০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ ও স্ট্যান্ড স্থানান্তর করার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবী জানান। দুপুর ১২টা থেকে লেগুনার মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন স্বাভাবিক ছিল। এদিকে দু’দফা বৈঠক করেও সিএনজি-ফোরষ্ট্রোক চালকদের ডাকা ধর্মঘটের কোন সুরাহা করা সম্ভব হয়নি।
জানা যায়, পৌরসভা কর্তৃক সিএনজি-ফোরষ্ট্রোক স্ট্যান্ড লিজ প্রদানের প্রতিবাদে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার থেকে ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কে ধর্মঘটের ডাক দেয় অটোটেম্পু শ্রমিক ইউনিয়ন ছাতক শাখার নেতৃবৃন্দ। যাত্রী দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে সমস্যা নিরসনের লক্ষে পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরীসহ পৌর কর্তৃপক্ষ ও অটোটেম্পু শ্রমিক ইউনিয়ন ছাতক শাখার নেতৃবৃন্দকে নিয়ে একটি বৈঠক করেন। কিন্তু বৈঠকে কোন সুরাহা হয়নি।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার(ভুমি) শেখ হাফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে অপর বৈঠকেও বিষয়টি অমিমাংসিত অবস্থায় থেকে যায়।
সিএনজি চালিত অটোটেম্পু শ্রমিক ইউনিয়ন ছাতক শাখার সভাপতি বোরহান উদ্দিন জানান, যুগ-যুগ ধরে এখানে স্ট্যান্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। পৌরসভা গঠনের পর কখনো স্ট্যান্ড ইজারা দেয়া হয়নি। গরীব শ্রেণীর গাড়িচালকরা পৌর ট্যাক্স প্রদানে অসম্মতি জানিয়েছে বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভুমি) শেখ হাফিজুর রহমান জানান, পৌরসভার টোল আদায়ের বিষয় নিয়ে আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে নিস্পত্তির চেষ্টা করা হবে। মঙ্গলবার পর্যন্ত সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করতে তিনি শ্রমিক নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানান।
ছাতক পৌর সভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী জানান, পৌর করের উপর চলে পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন। উন্নয়নের স্বার্থে কর প্রদান পৌরসভায় অবস্থানরত সকলের নৈতিক দায়িত্ব। পৌর শহরে অবস্থিত স্ট্যান্ড ইজারার টাকা পৌরসভার উন্নয়নের খাতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
- বিশ্বম্ভরপুর ব্রীজ নির্মাণের স্থানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত অর্ধশত
- চপলকে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের অভিনন্দন


