বিজয় রায়, ছাতক
তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়নের মূল ধারক ও বাহক হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ। গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়নে ইউনিয়ন পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অনস্বিকার্য। স্থানীয় সরকার কাঠামো মজবুত রাখতেই সরকার যথা সময়ে ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষেই আগামী ১১ নভেম্বর সারাদেশে ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ছাতক উপজেলা ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ১ম দফায় সিংচাপইড় ও নোয়ারাই ইউনিয়নের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে ২১ জুন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২য় দফায় ১১ নভেম্বর বাকী ১০টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তফসিল ঘোষণার সাথে সাথেই চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীরা মাঠে নেমে পড়েছেন ভোট যুদ্ধ মোকাবেলা করতে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে নিজের প্রার্থীতার কথা জানান দিচ্ছেন প্রার্থীরা। এছাড়া কর্মী-সমর্থকরাও স্ব-স্ব প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন ফেইসবুকের মাধ্যমে। তফসির ঘোষণার আগেই অনেক প্রার্থীই পোস্টারে নিজের ছবি বড় করে ছাপিয়ে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দোয়া প্রার্থনা করেছেন। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে কাঙ্খিত-অনাকাঙ্খিতভাবে উপস্থিত হয়ে কুশল বিনিময় করে তারা নিজেদের প্রার্থীতার কথা বলেছেন। দান-দক্ষিণা করেও নিজের পুঁজি মজবুত করার চেষ্টা করেছেন প্রার্থীরা। পাশাপাশি দলীয় সমর্থন নিজের দখলে রাখতে লবিংয়েও পিছিয়ে ছিলেন না তারা। প্রায় এক বছর ধরে প্রার্থীরা এলাকা ভিত্তিক নীরব প্রচারণায় করে গেছেন। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সম্ভাব্য প্রার্থীরা সরব হয়ে উঠেছেন। স্ব স্ব এলাকায় শুরু করেছেন নির্বাচনী মতবিনিময়, উঠান বৈঠক ও ভোটাদের সাথে কুশল বিনিময়। ভোটারদের কাছে দোয়া এবং সহযোগিতাও প্রার্থনা করছেন প্রার্থীরা। সব মিলিয়ে ইউনিয়নের সবকটি গ্রাম ও গ্রাম্য হাট-বাজারে এখন নির্বাচনী হাওয়া জোরে-সুরেই বইতে শুরু করেছে। ১ম দফায় ৩টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ভাতগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী গিয়াস মিয়ার মৃত্যুতে ওই ইউনিয়নে নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এ স্থগিত ইউনিয়নে আগামী ২ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। বাকী ১০ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যানরা আবারো প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত করেছেন।
এছাড়া চেয়ারম্যান পদে প্রতি ইউনিয়নে রয়েছেন আরো একাধিক প্রার্থী। ১০ ইউনিয়নে অন্তত অর্ধশতাধিক প্রার্থী বর্তমানে প্রচারণায় রয়েছেন। পাশাপাশি দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীকে নির্বাচন করতে প্রার্থীদের দৌঁড়-ঝাপও শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত যে সকল প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে সিংহভাগই সরকার দলীয়। এখানে আওয়ামী লীগ দু’টি বলয়ে বিভক্ত থাকায় প্রার্থীরা উভয় বলয়ের নেতাদের হাত ধরে দলীয় মনোনয়ন লাভের চেষ্টায় রয়েছে।


