জামালগঞ্জ অফিস
জামালগঞ্জের নয়াহালট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানের পরির্বতে চলছে রাজনীতির চর্চা। গেল কয়েকদিন ধরে বিদ্যালয়ে পাঠদান রেখে চলছে গ্রুপিং লবিং। গত ১ নভেম্বর নয়াহালট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গাফফার ৫ম শ্রেণীর দুজন ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করেন। আহত ছাত্রদের অভিভাবক আবু আলা রনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট বরাবরে লিখিত অভিযোগ প্রদান করলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করা হয়।
ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুল আলম ভুইয়া,সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মীর আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত করে পরদিন জেলা
শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবরে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
তদন্ত চলাকালে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি আবুল কালামসহ মোট ৭ জন সদস্য স্বাক্ষরিত আরেকটি আবেদন প্রদান করা হয়। আবেদনে তারা দ্রুত প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে অপসারন করার দাবিও জানান। ঘটনার কয়েক দিন যেতে না যেতেই বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে আবারো রাজনীতি শুরু হয়েছে। এর জের ধরে প্রধান শিক্ষক আব্দুল গাফফারের পক্ষে তাকে নয়াহালট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বহাল রাখার দাবিতে গ্রামবাসীর ব্যানারে অভিভাবক সহ বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ক্লাস বন্ধ রেখে মিছিলে অংশ নিয়ে উপজেলা পরিষদের গেইটে অবস্থান নেন।
এ ঘটনার পর থেকে উপজেলা সদরে সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। উপজেলা সদরের অনেকেই মনে করেন শিক্ষক ছাত্রদের পেটালেন আবার শিক্ষকেরই পক্ষে তাকে বাঁচাতে কিছু মানুষ সাফাই গাইছেন।
এবিষয়ে নয়াহালট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গাফফারের সাথে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায় নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূরুল আলম ভুইয়া বলেন,‘ ছাত্র পেটানোর অভিযোগের তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেছে। গেল সপ্তাহে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। আজকে ছাত্রদের দিয়ে মিছিল করানোর জন্য তাকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হজরত আলী বলেন,‘জামালগঞ্জের নয়াহালট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দুজন ছাত্রকে পেটানোর ঘটনাটি অত্যান্ত দু:খজনক। আমি প্রতিবেদন পেয়েছি। ছাত্রদের দিয়ে মিছিল করানোর বিষয়টিও আমাকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করেছি।


