সোহেল তালুকদার, দ.সুনামগঞ্জ
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার মাহমদপুর এলাকার মহাসিং নদীর পূর্বপাড় থেকে ছিনতাই হওয়া সিএনজি গোয়াইনঘাট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার ভোর রাতে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই জয়নাল আবেদীন ও এএসআই সমীরণ চন্দ্র দেব সিলেটের গোয়াইনঘাটের পূর্ব জাফলং গ্রামের আলা উদ্দিনের বাড়ীর উঠান থেকে ছিনতাই হওয়া সিএনজি উদ্ধার করেন। সে ছিনতাইকারী আসামী মোহাম্মদ আলীর ফুফাতো বোন জামাই।
এ ঘটনায় জড়িত ছিনতাইকারী সিলেটের বিশ^নাথ থানার রহমাননগর এলাকার সোনাফর আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী (২৩), একই জেলার গোয়াইনঘাট থানাধীন নোয়াগ্রাম উত্তর গ্রামের ফয়জুল ইসলামের ছেলে আলিম উদ্দিন ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল মতলিবের ছেলে নাজমুল হাসান খসরুকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট বিকালে বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার কাইতকোনা গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে ফরহাদ মিয়া সিএনজি নিয়ে সদর উপজেলার সুরমা ব্রীজের উপর অবস্থান করে। এসময় গাড়ী চালক ফারহাদ মিয়াকে মোবাইল ফোনে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ওয়েজখালী পয়েন্ট থেকে জাউয়া বাজারে যাবে বলে সিএনজি ভাড়া করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার সময় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার মাহমদপুর এলাকার মহাসিং নদীর পূর্ব পাড় দিয়ে যাওয়ার সময় সিএনজি গাড়ীতে থাকা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি প্র¯্রাবের কথা বলে গাড়ী থামায়।
সেখানে ওৎপেতে থাকা আরো দুই অজ্ঞাতনাম ব্যক্তি গাড়ী চালক ফরহাদ মিয়াকে অস্ত্রের মুখে গাড়ী থেকে নামিয়ে দেয়। তার দুই হাত রশি দিয়ে বেঁধে মাটিতে ফেলে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে জখম করে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ নিয়ে যায়।

ঘটনার পর গাড়ী চালক ফরহাদ মিয়ার মোবাইলে ফোন দেওয়া নাম্বারের সূত্রে ধরে তদন্তে নামে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা পুলিশ। প্রথমে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই জয়নাল আবেদীন সিলেট জেলার জৈন্তা থানা পুলিশের সহায়তায় ছিনতাইকারী মোহাম্মদ আলীকে আটক করেন। পরে মোহাম্মদ আলীর স্বীকারোক্তির মতে গোয়াইনঘাট থানাধীন পূর্ব জাফলং গ্রামে অভিযান চালিয়ে অপর ছিনতাইকারী আলীম উদ্দিনকে আটক করেন। পরবর্তীতে উল্লে¬খিত ছিনতাইকারীরে দেয়া তথ্যেমতে পূর্ব জাফলং গ্রামের জনৈক আলা উদ্দিনের বসত বাড়ীর উঠান থেকে ছিনতাইকৃত সিএনজি সিএনজি অটোরিক্সা উদ্ধার করেন। এরপর সিলেট জালালাবাদ থানাধীন কালীবাড়ী এলাকা হইতে থেকে অপর ছিনতাইকারী নাজমুল হাসান খসরুকে আটক করা হয়।
এ ঘটনায় ভিকটিম ফরহাদ মিয়ার পিতা দুলাল মিয়া বাদী হইয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। ভিকটিম ফরহাদ মিয়া জানান, আমাকে ফোন দিয়া ছিনতাইকারীরা ভাড়ায় নিয়া জাউয়া বাজার যাইতেছিল। পতিমধ্যে আমাকে ডাবর পার হওয়ার পর গাড়ী থামানোর জন্য বলে। আমি গাড়ী থামাইলে আমার হাত-পা রশি দিয়া বাঁধিয়া ফেলে দেয়।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী মুক্তাদির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বাদীর মৌখিক সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে নামে পুলিশ এবং ছিনতাই হওয়া সিএনজি গাড়ী উদ্ধার সহ ৩ ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়েছে। অন্যান্য অপরাধীদেরকেও আটকের চেষ্টা অব্যাহত আছে। এদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।


