স্টাফ রিপোর্টার
সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিনের মতো বাড়ির কাজ করছিলেন সিরাজ নূর। বেলা ১১টার দিকে ছেলে সৌরভের এক সহকর্মীর ফোন আসে। ফোন ধরতেই বাকরুদ্ধ হয়ে যান সিরাজ নূর। মাথায় যেনো আকাশ ভেঙে পড়ে। ফোন হাতে নিয়ে তার অসহায় অবস্থা দেখে পরিবারের অন্য সদস্যরাও বিপদের আঁচ করেন। এক পর্যায়ে কাঁদতে কাঁদতে সিরাজ নূর বললেন, ‘আমার ছেলে আর নেই।’ এরপর থেকে বাড়ির উঠানে ছেলের লাশের অপেক্ষায় একটানা বিলাপ করছিলেন তিনি। কেউই সামলাতে পারছিলো না। বিকালের দিকে গলার স্বর আর বের হচ্ছিল না তার। কেবলই বুক চাপড়াচ্ছিলেন তিনি। অবশেষে বিকাল ৫টার কিছুক্ষণ পর প্রিয় ছেলে সৌরভের লাশ নিয়ে আসে অ্যাম্বুলেন্স। লাশ নামানোর পর পরম মমতায় তিনি দেখছিলেন ছেলের মুখ। এসময় উপস্থিত কেউই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। নিদারুন শোকে কাতর ছিলেন সকলেই।
এরকম দৃশ্য শুধু ভাটিপাড়া গ্রামের সিরাজ নূরের পরিবারের নয়, সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া সকল পরিবারের। মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় কেউ স্বামী, কেউ হারিয়েছেন বাবা, কেউ হারিয়েছেন ছেলেকে। কে কাকে শান্তনা দেবে, সকলের চোখেই জল।
জানা যায়, সিরাজ নূরের ৪ ছেলে ও ১ মেয়ের মধ্যে সৌরভ ছিল ৩য়। সংসার হাল ফেরাতে মাস খানেক আগে ঢালাই শ্রমিকের কাজ নিয়ে সিলেটে যায় সে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সামিন নূর বলেন, সৌরভ ও তার ভাইয়েরা কৃষিকাজ এবং হাঁস পালন করে পরিবার চালাতো। তবে, শুধু কৃষিকাজ করে পরিবারের খোরাকি না হওয়ায় সিলেটে গিয়ে শ্রমিকের কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রায় মাসখানেক হলো সে সিলেটে গেছে।


