এনামুল হক, ধর্মপাশা
সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলার মধ্যে ১০টি উপজেলাতে নেই ছাত্রলীগের কমিটি। দীর্ঘ বছর ধরে ওই সকল উপজেলাতে ছাত্রলীগের নতুন কোনো কমিটি না হওয়ায় নেতৃত্ব শূন্য হচ্ছে ছাত্রলীগ। সৃষ্টি হচ্ছে না নতুন কোনো নেতৃত্ব। কোনো কোনো উপজেলা ছাত্রলীগে রয়েছে দ্বিধা বিভক্তি। নির্ধারিত সময়ে সম্মেলন করতে না পারায় চলতি বছরের ১১ মার্চ সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। জেলা ছাত্রলীগের সম্ভাব্য পদপ্রার্থীরা ইতোমধ্যে জীবনবৃত্তান্ত কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে জমা দিয়েছেন। কিন্তু ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত জেলা ছাত্রলীগের কমিটি হয়নি।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালের ২১ ডিসেম্বর ধর্মপাশা উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হয়। এর আট বছর পর ১৯৯৯ সালের ১০ জানুয়ারি স্থানীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এক সভায় জুবায়ের পাশা হিমুকে আহ্বায়ক করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এ আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে দীর্ঘ ১০ বছর উপজেলা ছাত্রলীগের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরে ২০১০ সালের ২ জানুয়ারি জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অনুপস্থিতিতে ধর্মপাশা জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জাঁকজমক সম্মেলনের মাধ্যমে স্থানীয় এমপি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের ছোট ভাই মোজাম্মেল হোসেন রোকনকে সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনীন্দ্র চন্দ্র তালুকদারের ছেলে মুহিত লাল তালুকদার মুনকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়। তবে এ কমিটি অনুমোদন দেয়নি জেলা ছাত্রলীগ। গেল বছরের ২৮ অক্টোবর ধর্মপাশা উপজেলা যুবলীগের কমিটিতে মোজাম্মেল হোসেন রোকন সভাপতি নির্বাচিত হলে অঘোষিতভাবে উপজেলা ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। ফলে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে ধর্মপাশা উপজেলা ছাত্রলীগের কার্যক্রম নামে মাত্র পরিচালিত হচ্ছে। ধর্মপাশা ছাড়াও জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, দিরাই, শাল্লা, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, , ছাতক, দোয়ারাবাজার, জগন্নাথপুর উপজেলা ছাত্রলীগের কার্যক্রম চলছে কমিটি ছাড়াই। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা, মধ্যনগর থানা ও ধর্মপাশা ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের অনুমোদিত কমিটি রয়েছে। তবে মধ্যনগর থানা ও ধর্মপাশা ডিগ্রি কলেজের শুধুমাত্র সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়নি।
ধর্মপাশা উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা আবু সাদাত তিতাস বলেন, ‘যদি যথা সময়ে কমিটি না করা হয় তাহলে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হয় না। নতুনেরা কাজ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। তাই অচিরেই জেলা কমিটিসহ উপজেলা কমিটিগুলো গঠন করা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’
জামালগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা কামরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘জামালগঞ্জে ১৯৯৬ সালে উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। পরে ২০০৪ সালে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়। পরে আর কোনো কমিটি করা হয়নি। ২০১৫ সালে সম্মেলনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও সম্মেলন হয়নি। জেলা কমিটির সাবেক সভাপতির স্বাক্ষরিত একটি কমিটি রয়েছে এখানে তবে সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর নেই তাতে।’
জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বরুণ কান্তি দে বলেন, ‘আমাদের সিভি জমা দেওয়া হয়েছে। আমাদের সময়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা, মধ্যনগর থানা ও ধর্মপাশা ডিগ্রি কলেজের কমিটি দেওয়া হয়েছে। অন্য কোনো ইউনিটের অনুমোদিত কমিটি নেই। ফলে ছাত্রলীগ এখন নেতৃত্ব শূন্য হচ্ছে এবং নতুন নেতৃত্ব বেরিয়ে আসছে না।’
সুনামগঞ্জ জেলার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দারুস সালাম শাকিল বলেন, ‘যেহেতু জেলা কমিটি সম্মেলন করতে ব্যর্থ হয়েছে সেহেতু এখন স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে পরামর্শ করে প্রেস রিলিজের মাধ্যমে চলতি মাসেই জেলা কমিটি ঘোষণা দেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যহত রয়েছে। জেলা কমিটি গঠন হলে জেলা কমিটিকে দিয়ে উপজেলা কমিটিগুলো করা হবে।’
এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের সাথে কথা বলতে মুঠোফোনে চেষ্টা করা হলে ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
- জগন্নাথপুরে সড়ক কেটে ড্রেন
- বিশ্বম্ভরপুরের মাছ চাষে সরকারি রাস্তাকে ব্যবহার ও ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ


