বিশ্বম্ভরপুরের মাছ চাষে সরকারি রাস্তাকে ব্যবহার ও ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
বিশ্বম্ভরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যক্তি মালিকানাধীন মাছ চাষে সরকারি রাস্তাকে ব্যবহার ও ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জেলা আইন শৃংখলা কমিটির মাসিক সভায় জোরালোভাবে উত্থাপিত হলেও পুকুর মালিক বা মাছ চাষকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
জানা যায়, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ, সলুকাবাদ, ধনপুর ও বাদাঘাট দক্ষিণ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি রাস্তার পাশে ব্যক্তি মালিকানাধীন অনেক মাছ চাষের পুকুর রয়েছে। পুকুর মালিক ও মাছ চাষীরা সরকারি রাস্তার একদম কাছেই পুকুর তৈরি করে রাস্তাকে পুকুরের এক পাড় হিসাবে ব্যবহার করছেন। ফলে অনেক জায়গায় সরকারি রাস্তা পুকুরে ধসে পড়ছে এবং রাস্তা ভেঙ্গে পড়ছে। অনেক এলাকায় চাষের মাছ পুকুর পাড়ের মাটি খেয়ে ফেলছে। বিষয়টি সবার নজড়ে পড়লেও কেউ প্রতিবাদ ও বাধা নিষেধ করছেন না।
তবে গত ১০ সেপ্টেম্বর তারিখে জেলা আইন শৃংখলা কমিটির মাসিক সভায় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ সরকারি রাস্তার পাশের পুকুর তৈরি ও রাস্তাকে পুকুরের পার হিসাবে ব্যবহারের বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করেন।
বিষয়টি সভায় কার্যপত্রে অনুমোদিত ও রাস্তার পাশের পুকুর মালিকদের নোটিশ প্রদান করার জন্য বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু গত একমাসেও সরকারি রাস্তার পাশে মাছ চাষকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। গত ৮ অক্টোবার জেলা আইন শৃংখলা কমিটির মাসিক সভায় উত্থাপিত কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়,‘এ বিষয়ে অগ্রগতির কোন প্রতিবেদন পাওয়া যায় নি’।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ বলেন,‘ সরকারি রাস্তার পাশে পুকুর তৈরি ও মাছ চাষ করে রাস্তার চরম ক্ষতি করা হচ্ছে। এই সমস্যা শুধু বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় নয় এটা সারা জেলায় চলছে। সওজ ও এলজিইডির পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। কারণ কোটি কোটি টাকা খরচ করে সরকারি রাস্তা নির্মাণ করা হলেও রাস্তাকে পুকুরের পার হিসাবে ব্যবহার করার কারণে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। কোথাও কোথাও সরকারি রাস্তাকে পুকুরের তিন পার হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। গত সেপ্টেম্বর মাসের জেলা আইনশৃংখলা সভায় এই বিষয়টি উত্থাপন করেছিলাম। কিন্তু গত এক মাসেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আমরা উপজেলা পরিষদ থেকে শীঘ্রই এই ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন,‘ সরকারি রাস্তার পুকুর তৈরি করে রাস্তার ক্ষতি করা হলে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে এলাকার রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দেয়া হবে।’