জগন্নাথদেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টায় শ্রীশ্রী জগন্নাথ বাড়ি মন্দির প্রাঙ্গণে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বন্যা পরিস্থিতির কারণে অন্যবারের ন্যায় শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে মন্দির আঙ্গিনার মধ্যে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথ প্রদক্ষিণ করে।
সুনামগঞ্জ জগন্নাথ বাড়ি মন্দির পরিচালনা কমিটির আয়োজনে আজ শনিবার থেকে আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত উৎসব উপলক্ষে প্রতিদিন দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে। এছাড়াও প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আরতী কির্তন, প্রার্থনা, পাঠ ও নাম কির্তন অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত্রি ৯টা ১ মিনিটে জগন্নাথদেবের দ্বার উন্মোচন ও নবযৌবন উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
জগন্নাথ বাড়ি মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজয় তালুকদার বিজু বলেন, এ বছর ভয়াবহ বন্যার কারণে আনুষ্ঠানিকতা পরিহার করে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসব উৎযাপিত হচ্ছে। অন্যবারের মতো বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়নি। শাস্ত্রীয় বিধি বিধান অনুসারে ১০দিন ব্যাপী মহোৎসব আমরা মন্দির আঙ্গিনার মধ্যেই করবো। ২ জুলাই থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত প্রসাদ বিতরণ করবো। উৎসবে সকলের উপস্থিতি ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।
এদিকে রথযাত্রা উপলক্ষে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) ষোলঘর শ্রীশ্রী কালাচাঁন ও গোপাল জিউর আখড়া থেকে বর্ণাঢ্য সাজে শোভাযাত্রা বের হয়। রথযাত্রা উপলক্ষে আলোচনা সভা, সেমিনার, শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের মহিমা কীর্তন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ভজন সংগীতানুষ্ঠান, কীর্তন মেলা, বৈদিক নাটক, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান, মহা ভোগরাগ ও মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে।
আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে অনুষ্ঠিত হয় রথযাত্রা উৎসব। জ্যৈষ্ঠ মাসের দেবস্নানা পূর্ণিমাতে স্নানের পরে অসুস্থ হয়ে পড়েন জগন্নাথদেব। ১৫ দিন যাবৎ (অনাসর কাল) রাজ বৈদ্যের চিকিৎসা এবং সেবায় সুস্থ হয়ে, জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রার মাসির বাড়ি যাত্রার উৎসবই রথযাত্রা। বিষ্ণুদেবের পরম ভক্ত রাজা ইন্দ্রদুম্ন রথযাত্রার প্রবর্তক বলে মনে করা হয়। রাজা স্বপ্নাদেশে প্রভু জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রার মূর্তি নির্মাণ করেন এবং পরবর্তী কালে রথযাত্রার প্রবর্তন করেন। কথিত আছে, জগন্নাথদেবের রথযাত্রা দেখলে এবং রথের দড়ি ধরলে (রথ টানলে) পাপ খ-ন হয়।
প্রবাহমানতা, নির্মলতা, গতিময়তা, সুস্বাস্থ্য এবং অনন্য অনাবিল সুন্দরের প্রতীক রথযাত্রা। যেখানে জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার মঙ্গল স্পর্শে মানবকূলের পূর্ণতা প্রাপ্তি হয়। মূলত উন্নতি, গতি ও রূপান্তরের আলেখ্যে সুষম সন্নিধান ঘটে মানুষের প্রদীপ্তময় উজ্জ্বলতার তীর্থে। যেখানে রথযাত্রা জগন্নাথদেব, বলদ্র এবং সুভদ্রার সংসর্গে অর্থ, সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তির প্রতীক হয়ে প্রতীয়মান রয়।