জগন্নাথপুরের কাকবলি প্রাথমিক বিদ্যালয়- ২৮৭ শিক্ষার্থীর কেউ উপস্থিত নেই, ৫ শিক্ষকের তিন জন অনুপস্থিত

অমিত দেব ও আলী আহমদ
বিদ্যালয়ের সামনে উড়ছে জাতীয় পতাকা,সবকটি শ্রেণীকক্ষ খোলা কিন্তুু শিক্ষার্থীদের নেই কোন কোলাহল।  বুধবার দুপুর ১২ টা ১০ মিনিটে বিদ্যালয়ে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। বিদ্যালয়টি হলো জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের কাকবলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।  সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে এমন চিত্র দেখে জানা যায়, বিদ্যালয়ের ২৮৭ শিক্ষার্থীর কেউ বুধবার বিদ্যালয়ে আসেনি। ৫ জন শিক্ষকের মধ্যে দুই জন শিক্ষক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে নিয়ে খোশগল্প করছেন। অপর  তিন জন শিক্ষকও  ছিলেন অনুপস্থিত।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক  অজিত কান্তি বিশ্বাস জানান, মঙ্গলবার বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। তাই বুধবার বিদ্যালয়ে কোন শিক্ষার্থী আসেননি। তিনি এক শিক্ষক নিয়ে বিদ্যালয় খুলে বসে আছেন। অপর তিন শিক্ষক বিদ্যালয়ে এসে চলে গেছেন। এলাকাবাসী ও  বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ১৯৬৮ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। জাতীয়করণ হয় ১৯৭৩ সালে। বিদ্যালয়ে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৫ জন শিক্ষক ।  তন্মেধ্যে সহকারী শিক্ষক ইতি হালদার ও রাফিয়া বেগম বুধবার সকালে বিদ্যালয়ে এসে অসুস্থ হওয়ায় হাজিরা দিয়ে বাড়ি চলে গেছেন। অপর শিক্ষক রহমত আলী বেতন উত্তোলন ও একদিনের ছুটির আবেদন করে চলে গেছেন। প্রধান শিক্ষক অজিত কান্তি বিশ্বাস ও সহকারী শিক্ষক সমীরন দাস উপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সমীরন দাস জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের না আসা ও উপস্থিতি বাড়ানো নিয়ে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে ডেকে এনে তাঁর সাথে কথা বলছেন। পরীক্ষার ফলাফল বের হওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসেনি।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিরন মিয়া  
বলেন, বিদ্যালয়ের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমি দায়িত্ব নিলেও আমার মা মারা যাওয়ায় বিদ্যালয়ের প্রতি নজর দিতে পারনি। এখন থেকে নিয়মিত নজর দেব। বিদ্যালয়ে কোন শিক্ষার্থীর উপস্থিত না থাকায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। এবিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জয়নাল আবেদীন বলেন, বিদ্যালয়ের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।