জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরে ওএমসএর চাল অন্যত্র বিক্রির অভিযোগে অভিযুক্ত সেই আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে এবার বিদ্যুৎ কেলেংকারির অভিযোগ উঠেছে। জনসাধারণের সুবিধার্থে বরাদ্দকৃত সরকারি সৌর বিদ্যুতের স্ট্রিট লাইট সড়কে স্থাপন না করে নিজ বাড়িতে বসিয়েছেন তিনি। শুক্রবার সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে এমন দৃশ্য।
জানা যায়, উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাদিপুর গ্রামের বাসিন্দা ফখরুল হোসেন কয়েকদিন পূর্বে সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত সৌর বিদ্যুৎ প্যানেলসহ ২টি স্ট্রিট লাইট (সড়ক বাতি) জনস্বার্থে রাস্তায় স্থাপনের জন্য ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থপনা অধিদপ্তর জগন্নাথপুর উপজেলা অফিস থেকে বরাদ্দ নেন। কিন্তু তিনি জনসাধারণের চলাচলের রাস্তায় এটি স্থাপন না করে নিজ বাড়িতে বসিয়েছেন। ফলে এলাকাবাসী সরকারী বিনামূল্যের এই সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এতে করে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ফখরুল ইসলাম ইউনিয়নের ওএমএস’র ডিলার। তার বিরুদ্ধে সরকারি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ অনেক আগেই উঠেছে। গত ২৪ জুন ফখরুল ইসলাম দরিদ্র লোকজনের মধ্যে ১৫ টাকা দরে চাল বিক্রি না করে অন্যত্র বিক্রিকালে এলাকাবাসী আটক করে স্থানীয় প্রশাসনের নিকট হস্তান্তর করেছিলেন। এ সংক্রান্ত সংবাদ জাতীয় স্থানীয় দৈনিক ও অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে এবার সরকারি বিদ্যুৎ কেলেংকারির অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ক্ষমতাশীল এই নেতা এর আগেই সরকারী ওএমএস’র চালের ডিলারশীল এনে দরিদ্র লোকজনের মধ্যে চাল বিতরণ না করে অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে অন্যত্র বিক্রি করেছেন। এখন আবার সরকারি বিদ্যুৎ নিজ বাড়িতে বসিয়েছেন।
কলকলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা কুতুব উদ্দিন জানান, ‘স্থানীয় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নানের উন্নয়ন কর্মকান্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি হয়েও নিজ বাড়িতে জনগণের জন্য বরাদ্দকৃত সৌর বিদ্যুৎ লাগিয়েছেন। এটা খুবই নেক্কারজনক ঘটনা। ওই নেতা স্থানীয় আওয়ামীলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছেন।’
অভিযুক্ত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফখরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘সরকারি দুইটি লাইট কোথায় স্থাপন করতে হবে আমাকে বলা হয়নি। তাই কোন নির্দিষ্ট স্থান না পেয়ে আমি বাড়িতে স্থাপন করেছি।’
জগন্নাথপুর উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা শহিদুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
- রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রচারে বাধা
- উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আগামী নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিন -ব্যারিস্টার ইমন


