জগন্নাথপুরে আজ থেকে পরিবহন ধর্মঘট

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মিনিবাস মালিক গ্রুপের ডাকা ৭২ ঘন্টার পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত করার একদিনের মধ্যেই আজ বৃহস্পতিবার থেকে অনিদিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে জগন্নাথপুর মিনিবাস মালিক গ্রুপ।
মালিক গ্রুপের নেতারা জানান, মঙ্গলবার প্রশাসনের উদ্যোগে পরিবহন সংগঠনগুলোকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত করা হয়। কিন্তু ইমা,লেগুনা,সিএনজি,এইচ পাওয়ার সিদ্ধান্ত অমান্য করে যাত্রী উঠাতে গেলে জগন্নাথপুর মিনিবাস মালিক গ্রুপের ম্যানেজার ফজলু মিয়া পাগলা-জগন্নাথপুর সড়কের ভমভমি বাজারে যাত্রী উঠানোর ছবি তুলে রাখেন। এনিয়ে দুই শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে ইমা,লেগুনা,সিএনজি,এইচ পাওয়ার শ্রমিক সংগঠনের কর্মীদের হামলার শিকার হন ফজলু মিয়া। খবর পেয়ে জগন্নাথপুর মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি নিজামুল করিম ঘটনাস্থলে গেলে তিনিও তাদের হাতে অপদস্থ হন। হামলায় আহত ফজলু মিয়াকে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  ভর্তি করা হয়েছে। এঘটনায় বুধবার বিকেলে জগন্নাথপুর মিনিবাস মালিক গ্রুপের নেতারা আজ বৃহস্পতিবার থেকে জগন্নাথপুর-সুনামগঞ্জ,জগন্নাথপুর-সিলেট সড়কে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেন।
জগন্নাথপুর মিনিবাস মালিক সমিতির চেয়ারম্যান নিজামুল করিম জানান, প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অমান্য করে ইমা, লেগুনা, সিএনজি, এইচ পাওয়ার শ্রমিকরা বুধবার আমাদের ম্যানেজারকে মারধর করে। বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গেলে আমার সাথেও দুর্ব্যবহার করা হয়। তাই বাধ্য হয়ে আমরা পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছি।
ইমা, লেগুনা,সি,এনজি এইচ পাওয়ার শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি জুয়েল মিয়া জানান, মিনিবাস মালিক সমিতির সদস্যরা শ্রমিকদের নিয়ে ভমভমি বাজারে আমাদের গাড়ি থামিয়ে ছবি তুলতে গেলে স্থানীয় শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে সবাইকে  নিয়ে আসি।
তিনি বলেন, আমরা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মেনেই ৯৩ সাল থেকে ছয়হারা পর্যন্ত লেগুনা সিএনজি নিয়ে যাত্রী পরিবহন করে আসছি। হঠাৎ করে আমাদের চলাচলে অযৌক্তিকভাবে বিধি নিষেধ করা হচ্ছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ বলেন, শ্রমিক সংগঠনগুলোকে নিয়ে সভা করে আমরা যে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলাম আশা করেছিলাম দু’পক্ষই তা মেনে যান চলাচল করবে। এখন কি হয়েছে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করছি।
জগন্নাথপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তদন্ত খান মোহাম্মদ মাইনুল জাকির বলেন, কোন পক্ষ সিদ্ধান্ত অমান্য করেছে এসব খোঁজ খবর নিয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে।