জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্রে করে হামলা ও সংর্ঘষের ঘটনায় ছয় জন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে দুইজন সিলেট ওসমানিতে ও অপরজন উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
গত সোমবার রাতে জগন্নাথপুর পৌরসভার ইসহাকপুর এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ ১৪ জন কে আটক করে মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
আটককৃতরা হলেন ইসহাকপুর এলাকার মৃত সাবলুছ মিয়ার ছেলে নূর আলম (২৯), মৃত হাজী ফয়জুর রহমানের ছেলে ফারুক আহমদ ফরুখ (৫০), মৃত হাজী আতিক উল্লার ছেলে সুজন মিয়া (৩৫), মৃত জমশেদ আলীর ছেলে আলী নূর (২৩), মৃত সাবলুছ মিয়ার ছেলে শাহ আলম (৩৫), মৃত সালেহ আহমদের ছেলে জাকির আহমদ (২৫), মৃত খালিক উল্লার ছেলে সিজিল উল্লাহ (৩৬), আরব আলীর ছেলে আঙ্গুর মিয়া (২২), মৃত আছদ্দর আলীর ছেলে মো. হেলাল (২৬), নূর মোহাম্মদের ছেলে রুবেল মিয়া (২৩), মৃত ইয়াজ উল্লার ছেলে নজরুল ইসলাম (৫৮), মৃত আলতাব উল্লার ছেলে মনর আলী (৫২), মৃত হাজী তকলিছ উল্লার ছেলে সফু মিয়া (২২), মৃত আকবর আলীর ছেলে আব্দুল আউয়াল (২৭)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ইসহাকপুরের যুক্তরাজ্য প্রবাসী উস্তার গণি ও একই এলাকার যুক্তরাজ্য প্রবাসী সুরুজ আলী পক্ষের লোকজনের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন করে বিরোধ চলছিল। যার জের ধরে সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে দু’পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধসহ ছয়জন আহত হন। এরমধ্যে নোমান আহমদ (২৪) ও আব্দুস সালাম (৪৫) কে সিলেট ওসমানি হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর আহতদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
এদিকে সংঘর্ষ চলাকালে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উভয়পক্ষের ১৪ জনকে আটক করেছে। এসময় সংঘর্ষে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
জগন্নাথপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সত্তার জানান, ইসহাকপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় উন্নয়ন কমিটি নিয়ে উস্তার গণি ও বদরুল ইসলাম পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে রাতে দু’পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের ১৪ জনকে আটক করে মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে আমি বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছি।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।
ইসহাকপুরের বদরুল ইসলাম জানান, রাতের সংঘর্ষের ঘটনায় আমি কিংবা আমাদের পক্ষের কেউ জড়িত নয়। উস্তার গণির পক্ষের লোক অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র সন্ত্রে সজ্জিত হয়ে সুরুজ মিয়ার বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়ী-ঘর ভাংচুর করে লোকজন মারধর করেছে।
অপরদিকে যুক্তরাজ্য প্রবাসী উস্তার গণির পক্ষের সাবেক কাউন্সিলর খলিলুর রহমান জানান, প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের লোকজনের ওপর হামলা করে আহত করেছে।
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহিন আহমদ জানান, রাতের ভাত খাওয়ার সময়ে গোলাগুলির শব্দ শুনতে পেয়েছি। এসময় আমি বাইরে বের হইনি।
জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের ডা. এ টি এম শাফায়াত সামস্ রকি জানান, মারামারির ঘটনায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ছয়জন রোগি এসেছিলেন। এরমধ্যে দুজনের শরীরে গুলির চিহ্ন সন্দেহে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। অপর একজন উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি আছেন। অপরাপর আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, গোলাগুলির কোন খবর পায়নি। সংঘর্ষের ঘটনায় ১৪জনকে আটক করা হয়েছে।


