জগন্নাথপুরে কলেজ ছাত্রী রুমেনার ধর্ষক ইউনুস লাপাত্তা

আলী আহমদ
জগন্নাথপুরে ধর্ষণের শিকার কলেজছাত্রী বিষপানে আত্মহত্যার ঘটনায় থানায় দায়েরকৃত মামলার কোন আসামী ধরা পড়েনি প্রায় ৫ মাসেও। পুলিশ ব্যাপক অভিযান চালিয়েও ধর্ষককে গ্রেফতার করতে পারেনি । কলেজছাত্রী রুমেনার মৃতে্যুর ঘটনাটি দেশে বিদেশে অবস্থানরত জগন্নাথপুরের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের চাঁনপুর (কবিরপুর) গ্রামের কৃষক আখলুছ মিয়ার মেয়ে জগন্নাথপুর ডিগ্রী কলেজের দ্বাদশ শ্রেনীর ছাত্রী রুমেনা গত ২৫ জুলাই কলেজে থেকে বাড়ি ফেরার পথে তারই খালাত ভাই
একই ইউনিয়নের চকাছিমপুর গ্রামের আবু মিয়ার ছেলে অটো রিকশা চালক ইউনুস মিয়া (২৮)সহ ২/৩ বখাটে রাস্তা থেকে কলেজছাত্রীকে জোরপূর্বক অটোরিকশায় তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে।
এ ঘটনাটি পরিবারের লোকজন জানতে পেরে ধর্ষণের শিকার কলেজ ছাত্রীর বাবা কৃষক আখলুছ মিয়া গ্রামের কয়েকজন লোক নিয়ে ওই রাতে ধর্ষক ইউনুসের পরিবারের লোকজনকে বিষয়টি জানিয়ে বিচার দাবি করেন। এ সময় অভিযুক্ত     ধর্ষকের বাবা আবু মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন তাদেরকে অপমান করে তাড়িয়ে দিলে পর দিন মেয়েটি অপমান আর লজ্জায়  বিষপান করে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে।
এ ঘটনায় কলেজছাত্রী রুমেনার ভাই বাদী হয়ে জগন্নাথপুর থানায় ইউনুস মিয়াকে প্রধান আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। এ মামলা ইউনুসসহ ৬ জনকে আসামী করা হয়েছে। কিন্তু ঘটনার প্রায় ৫ মাস অতিবাহিত হলেও পুলিশ মামলার আসামীদের ধরতে ব্যর্থ হয়েছে।
ওই সময় কলেজছাত্রী মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের মাধ্যমে ফাঁসি দাবী করে জগন্নাথপুর ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সভা-সমাবেশ, মিছিল, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসুচী পালন করে। ধর্ষণকারী ইউনুস মিয়াকে পুলিশে ধরিয়ে দিতে পাটলী ইউনিয়নের যুক্তরাজ্য প্রবাসী আনা মিয়া নামে এক লন্ডনপ্রবাসী ২০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন। পুলিশের পক্ষ থেকেও পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। তারপরও ধরা পড়েনি রুমেনার ঘাতক।