জগন্নাথপুরে চাষাবাদ নিয়ে সংশয়ে ভুগছেন কৃষকরা

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরে বোরো মৌসুমের শুরু থেকেই চাষাবাদ নিয়ে শংকিত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। গত কয়েকদিনের অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে ফসলের আবাদ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, বোরো ফসলের চাষাবাদের উপযুক্ত সময় হচ্ছে এখন। কিন্তু হাওর থেকে এখনো পুরাপুরি পানি নামেনি। যে সব অঞ্চলে পানি নেমেছে সে সব এলাকায় কৃষকরা বোরো ফসলের চারা রোপন করেছেন। কিন্তুু গত শনি, রবি ও সোমবারের অব্যাহত বৃষ্টিপাতে রোপনকৃত চারা বিনষ্ট হওয়ায় আশংকা করছেন কৃষকরা।
উপজেলার নলুয়া হাওরপাড়ের কৃষক ভূরাখালি গ্রামের বাসিন্দা দিলদার হোসেন জানান, গত বছর দুই হাল (২৪ কেদারা) জমিতে বোরো ফসল আবাদ করেছিলাম। সব ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। এবারও আবাদের প্রস্তুুতি নিয়েছি। এখনো হাওরের পুরো পানি নামেনি। ৫/৬ দিন আগে ১০ কেদারা জমিনে ২৮ জাতের বীজধান ৫০ কেজি রোপন করেছি। এর মধ্যে গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে অর্ধেক (৫০ ভাগ) বীজতলা (চারাগাছ) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
একই গ্রামের আরেক কৃষক মাসুক মিয়া জানান, এবার তিনি ১৬ কেদারা জমিনে আবাদ করছেন। এরই মধ্যে তিনি ৯ কেদারা জমিনে ৪৫ কেজি ২৮ জাতের বীজধান ক্ষেতে ফেলেছেন। অব্যাহত বৃষ্টিতে বীজতলার ৪০ ভাগ ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
জগন্নাথপুরে নলুয়ার হাওরপাড়ের কৃষক নেতা হাওর বাচাঁও সুনামগঞ্জ বাচাঁও            
আন্দোলনের জগন্নাথপুর উপজেলা শাখার যুগ্ম আহবায়ক সিদ্দিকুর রহমান জানান, জেলার মধ্যে অন্যতম নলুয়া হাওর থেকে এখনো হাওরের পানি পুরোপুরি নামেনি। যে সব স্থান থেকে পানি নেমে গেছে সেসব এলাকায় কৃষকরা আবাদ শুরু করেছেন। কিন্তুু চাষাবাদের শুরুতে বৃষ্টিপাতে বীজতলার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় শংকিত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাচাঁও আন্দোলন কমিটির জগন্নাথপুর উপজেলা শাখার আহবায়ক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম জানান, গত  বছর বেড়িবাঁধ ভেঙে হাওরের ফসল ডুবির পর আবারও কৃষকরা নেমে পড়েছেন মাঠে। কিন্তু গত ৩/৪ দিনের বৃষ্টিতে হাওরের বীজতলা ক্ষতি সাধিত হওয়ায় এখন ফসল নিয়ে সংশয় ভুগছেন কৃষকরা।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার জানান, বৃষ্টিতে হাওরের বীজতলায় কিছু ক্ষতি হয়েছে। পানি কমলে নির্ণয় করা যাবে কী পরিমাণ ক্ষতিক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্র  জানায়, এবার জগন্নাথপুর উপজেলায় নলুয়া, মইয়ার হাওরসহ ছোট বড় ১৫টি হাওরে প্রায় ২০ হাজার হেষ্টর জমিন বোরো আবাদের আওতায় আনা হয়েছে।