জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের সাদিপুর গ্রামে এক প্রতিবন্ধী পরিবারের বসতঘর জোরপূর্বক ভেঙ্গে দিয়ে তাকে তাড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে বুধবার প্রতিবন্ধী মনর উদ্দিনের স্ত্রী মোছা. সাহেনা বেগম জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ বরাবরে একটি লিখিতভাবে অভিযোগ দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জগন্নাথপুর থানার ওসিকে সরেজমিন তদন্ত পূর্বক আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন।
এলাকাবাসী ও নির্যাতিত প্রতিবন্ধীর স্ত্রীর অভিযোগ থেকে জানা যায়,ওই গ্রামের হতদরিদ্র প্রতিবন্ধী মনর উদ্দিনের স্ত্রী মোছা. সাহেনা বেগম সাদিপুর দারিদ্র
বিমোচন কমিটির সদস্য হিসেবে গরু ছাগল হাঁস মুরগি পালন ও অন্যর বাড়িতে কাজ করে চার সন্তান নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে। গত ৬ নভেম্বর একই গ্রামের সাবেক মেম্বার কলেন মিয়া শিব্বির মিয়া ও প্রতিবেশী ফেরদৌস মিয়া গংরা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মারধর কে করে বাড়িঘর ভেঙ্গে দিয়ে তাদেরকে তাড়িয়ে দিয়েছে। নিরাপত্তাহীতায় চার সন্তান নিয়ে গ্রামে তার এক আত্মীয় বাড়িতে বসবাস করলে দুর্বৃত্তরা সেখানে গিয়েও তাদেরকে হুমকি দিয়ে গ্রাম ছাড়তে বলছে।
নির্যাতনের শিকার দরিদ্র মহিলা সাহেনা বেগম জানান, আমি গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি বাড়ি কাজ করে প্রতিবন্ধী স্বামী ও বিবাহ উপযুক্ত কন্যা সন্তানসহ ছয় সদস্যর পরিবারের ভরন পোষন চালিয়ে আসছিলাম। এছাড়াও ব্র্যাকের সহায়তায় দারিদ্র বিমোচন কমিটির সদস্য হিসেবে কিছু সুবিধা নিয়ে সংসার চালিয়ে যাচ্ছি। আমার বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপের অপবাদ এনে কলেন মেম্বার, শিব্বির ও ফেরদৌস আমাকে মারধর করে আমার বাড়িঘর ভেঙ্গে দিয়ে আমাকে তাড়িয়ে দিয়েছে। তারা আমরা সকল মালামাল নদীতে ফেলে দিয়ে আমরা গরুটি নিয়ে গেছে। তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, বর্তমানে এক আত্মীয় বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিলে সেখান থেকে তাড়িয়ে দিতে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য কলেন মিয়া ও ফেরদৌস মিয়া বলেন,‘সাহেনা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কাজ করে আসছিল। তাই আমরা তাকে তাড়িয়ে দিয়েছি।’
ব্র্যাকের কলকলিয়া ইউনিয়ন শাখা ম্যানেজার আব্দুল মন্নান বলেন,‘সাদিপুর গ্রামের ৪০ জন নারীদের নিয়ে আমাদের সাদিপুর দারিদ্র বিমোচন প্রকল্প রয়েছে। ওই মহিলা এ প্রকল্পের একজন উপকারভোগী। তাঁর সাথে দুর্বৃত্তরা অমানবিক আচরণ করেছে। বিষয়টি জানতে পেরে কমিটির সভাপতি ফখরুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাইয়ুমকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে দুর্বৃত্তরা আমার সাথেও দুর্ব্যবহার করে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ জানান,‘ঘটনার সত্যতার খোঁজ খবর নিয়ে আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে জগন্নাথপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত মহিলার বসতঘর নির্মাণে আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ কবর।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. মুরসালিন জানান, বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ পদক্ষেপ নেয়া হবে।


