জগন্নাথপুরে ফসল তোলতে কৃষকের পাশে সবাই

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
কষ্টার্জিত ফসল হারানোর দুশ্চিতায় যখন কৃষক দিশেহারা তখনই কৃষকের পাশে হাতে কাঁচি নিয়ে মাঠে নেমেছেন শিক্ষক-ছাত্র-কর্মহীন ও স্থানীয় ধান কাটার শ্রমিকরা। মঙ্গলবার দুপুরে জগন্নাথপুরের পিংলার হাওরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
স্থানীয় কৃষক জানান, শ্রমিক সংকট এড়াতে উপজেলার রতিয়ারপাড়া বাদশাহ মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক গনেশ চক্রবর্র্তীর সহায়তার স্থানীয় শ্রমিক, কর্মহীন মানুষ, স্বেচ্ছাশ্রমী ছাত্রসহ ৩৩ জন শ্রমিক হাওরে কৃষকের পাকা ধান কাটছেন। ওই ৩৩ জনের মধ্যে ২৩ জন শ্রমিক হিসেবে আব্দুল বারিক নামে এক দরিদ্র কৃষকের ক্ষেতের ধান কাটেন। অপর ১০ জন কৃষক সৈয়দ মিয়ার জমির ধান কেটেছেন।
কলেজ পড়ুয়া ছাত্র মামুন আহমদ জানান, শ্রমিক সংকটের কারণে পাকা ধান নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষক। আমরা ১১জন শিক্ষার্থী আমাদের স্যারের সহযোগিতায় কৃষক আব্দুল বারিকের ধান স্বেচ্ছাশ্রমে কেটেছি। হাওরে ফসল ওঠার আগ পর্যন্ত ধান কাটব আমরা।
কৃষক আব্দুল বারিক জানান, শ্রমিকের অভাবে জমির পাকা ধান নিয়ে হতাশায় ভোগছিলাম। হঠাৎ করে সকালে হাওরে শিক্ষক, ছাত্রসহ ৩৩ জন এসে জানালেন তাঁরা ক্ষেতের পাকা ধান কাটবেন। পরে ৩৩ জনের মধ্যে শিক্ষক ও ছাত্র মিলে ২৩ শ্রমিক হিসেব আমার তিন কেদার জমির ধান কেটেছেন। তাদের সহায়তায় ধান কাটতে পেরে আমি আনন্দিত। তিনি জানান, ছাত্র শিক্ষক কোন পারিশ্রমিক নেন নি।
উপকৃত আরেক কৃষক সৈয়দ মিয়া জমির পাকা কাটতে তিনিও খুশি বলে জানিয়েছেন। তিনি জানান, এবার ২৪ কেদার জমিতে বোরো আবাদ করেছি। জমির ধানও পেকে গেছে। কিন্তুু শ্রমিক সংকটের কারণে বিঘ্নিত ঘটছিল ধান কাটা। এখন ধান কাটার লোকজন পেয়ে যাওয়ায় সংকট দূর হয়ে গেছে। তিন কেদার জমির ধান দুপুর পর্যন্ত কাটা শেষ হয়েছে। আশা করছি দুই তিন দিনের মধ্যে সব ফসল কাটা যাবে।
শিক্ষক গনেশ চক্রবর্তী জানান, এক দিকে করোনার ভয় অন্য দিকে আগাম বন্যায় শঙ্কায় শঙ্কিত কৃষকরা। এঅবস্থায় হাওরে পাকা ধান নিয়ে শঙ্কায় তারা। আমাদের ইউএনও ও কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে জগন্নাথপুর পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের জগন্নাথপুর এলাকার স্কুল কলেজের ছাত্রসহ স্থানীয় শ্রমিক, কর্মহীন ৩৩ জন লোক সংগ্রহ করে মাঠে গিয়ে আমরা কৃষকের ধান কাটতে পেরে খুবই ভালো লাগছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার শ্রমিক সংকটের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আজ থেকে জগন্নাথপুরের প্রতিটি হাওরে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের প্রচেষ্ঠায় শিক্ষক, ছাত্র, ব্যবসায়ী,স্বেচ্ছাসেবক, শ্রেচ্ছাশ্রমীসহ বিভিন্ন শ্রেণীর পেশার মানুষ ধান কাটছেন। আশা করছি এক সপ্তাহের মধ্যে ফসল তোলা সম্ভব। এবার এ উপজেলায় ২০ হাজার ৫শত হেক্টর ফসল চাষাবাদ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুল আলম মাসুম বলেন, আগাম বন্যার শঙ্কায় দ্রুত পাকা ধান কাটতে হাওরজুড়ে মাইকিং করা হচ্ছে। গতকাল থেকে ছোট বড় ১৫টি হাওরে কৃষকের পাশে ধান কাটতে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ হাওরে নেমেছেন। আমরা প্রতিনিয়ত পরিস্থিত পর্যবেক্ষণ করছি।