জগন্নাথপুরে বন্যাদুর্গতদের দুর্ভোগ

আলী আহমদ. জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুরে বন্যার পানি কমেছে। তবে প্লাবিত এলাকারগুলোর মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। ঘরবাড়ির চারপাশে এখনও পানি থাকায় কার্যত পানিবন্দি হয়ে আছেন হাজারো পরিবার।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাতে ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার হাওর বেষ্টিত চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের ভুরাখালি, দাসনাগাঁও, হরিণাকান্দি, কলকলিয়া ইউনিয়নের শ্রীধরপাশা, জগদ্বীশপুর, কামারখাল, গলাখাই, কান্দারগাঁও, নোয়াগাঁও, পাড়ারগাঁওসহ ইউনিয়নের নিম্মাঞ্চলের ১০ থেকে ১২টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। এছাড়া জগন্নাথপুর পৌরসভার যাত্রাপাশা ও শেরপুর এলাকার একাংশ বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে। এসব এলাকার গ্রামীণ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। এসব এলাকায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
হাওরাঞ্চলের দাসনাগাঁও গ্রামের কৃষক গ্রেমানন্দ দাস জানান, বন্যায় বসতবাড়িতে পানি ওঠে যাওয়াতে পরিবার পরিজন ও চারটি গবাদিপশু নিয়ে আমি আমার এক আত্মীয় উচুঁ বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। বসতঘরের ভেতর থেকে পানি কমলেও বাড়ির চারপাশে এখনও পানি রয়েছে। তাই আশ্রায়নে আছি। শয়নকক্ষের একপাশে গবাদিপশু আরেকপাশে পরিবারের লোকজনকে নিয়ে কষ্টে করেই রাত্রিযাপন করছি আমরা। তিনি জানান, সরকারি কোন ত্রাণ পাইনি আমরা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রনধীর কান্ত দাস নান্টু বলেন, আমাদের ওয়ার্ডের তিন গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। এরমধ্যে ৫০টি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েন। তাঁরা আত্মীয় স্বজনদের বাড়ীতে আশ্রয় নেন। গত কয়েকদিন ধরে ধীরে ধীরে বন্যার পানি কমতে শুরু করায় কেউ কেউ বসতবাড়িতে ফিরেছেন। বন্যায় কাঁচা ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকেই পবাদিপশু নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। দুর্গতরা এখনও সরকারি ত্রাণ পাননি। তবে স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
কলকলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হাসিম জানান, আমাদেদর ইউনিয়নের প্রায় ১২শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েন। দুর্গতদের তালিকা প্রস্তুুত করছি আমরা।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুল আলম মাসুম বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরীর কাজ চলছে।