বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের দিঘলবাকের একটি বাড়ি ঘিরে রোববার দিনভর ছিল রূদ্ধশ^াস অবস্থা। জেলাজুড়ে প্রচার হয় ওই বাড়িতে বিপূল পরিমাণ বোমা তৈরি বিস্ফোরক আছে। সেনাবাহিনী, র্যাব-পুলিশ ওই বাড়ি ঘিরে রাখে। সন্ধ্যায় পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জামাদি ও অস্ত্র উদ্ধারের প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেবার পর জগন্নাথপুরের শেষ সীমানা দিঘলবাক এলাকায় থম থমে ভাবের কিছুটা অবসান হয়। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রোববার সন্ধ্যা সাতটা) ওই বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন ছিল।
সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় ষাট কিলোমিটার দূরে সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার মধ্যবর্তী এলাকা দিঘলবাক গ্রাম। শনিবার সকাল থেকেই ওই গ্রাম বিপূল সংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি দেখে এলাকায় সুনসান নিরবতা তৈরি হয়। রোববার সকালে ওই গ্রামের আখলাকুর রহমানের বাড়িতে রাজধানী ঢাকা ও সিলেট থেকে বোম ডিসপোজাল ইউনিট, স্পেশাল একশন গ্রুপ, ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম, এন্টিটেরোরিজম ইউনিট ও সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ টিমের সদস্য দল পৌঁছায়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অভিযান চলে বাড়ির ভেতর।
বিকাল সাড়ে তিনটায় জগন্নাথপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান উপস্থিত গণ-মাধ্যম কর্মীদের জানান, এখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ শেষ। আপনারা পুলিশ সুপারের কার্যালয় বাকী তথ্য নিতে হবে। এর বেশি কিছু জানাতে অপরাগতার কথা জানান তিনি।
এসময় বাড়ির বাইরে উপস্থিত গ্রামবাসী জানান, শুক্রবার বিকাল থেকেই এ বাড়ি ঘিরে রেখেছে পুলিশ। গ্রামের কাউকে এখানে আসতে দেওয়া হচ্ছে না।
গ্রামের তরুণ রুমান আহমদ বললেন, আখলাকুর রহমানের ছয় ছেলে। পরিবারের সকলকে নিয়ে সিলেটে থাকেন তিনি। তার ছেলে আফজল হোসেনকে ঘিরে সকল রহস্য। সে প্রায়ই এসে এই বাড়িতেই থাকে। সে বাড়িতে থাকলে এখানে মোবাইলের নেট ওয়ার্কই থাকে না। এলাকায় সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত সে। তার কাছে এমন যন্ত্রও আছে কারো শরীরে লাগালে নিস্তেজ হয়ে যায় শরীর।
গ্রামের ফুয়াদ আহমদ, তজম্মুল হোসেন, শাওন মিয়া বললেন, গ্রামের নিরীহ কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলবে না। তাকে ভয় পায়, এড়িয়ে থাকে সকলে।
গ্রামের মধ্য বয়সি একজন পরিচয় প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বললেন, গেল শুক্রবার পুলিশের পক্ষ থেকে সমন জারির জন্য তার বাড়িতে আসলে। সে পুলিশকে গুলি করার জন্য অস্ত্র থাক করে পালিয়ে যায়। এরপর পুলিশর একটি দল এসে তার বাড়িতে বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম দেখতে পেয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানায়। এরপর থেকেই এই বাড়িতে অভিযান চলছে।
রোববার বিকাল পাঁট টা ১৭ মিনিটে পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জগন্নাথপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘিরে রাখা বাড়িটি থেকে বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জামাদি ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসময় বাড়ি থেকে কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গেল শুক্রবার জগন্নাথপুর থানার এএসআই মোহাম্মদ নুরে আলম সিদ্দিক নন-এফআইআর মামলার আসামী আখলাকুর রহমানের ছেলে আফজাল হোসেনকে (৩৫) আদালতের ইসূকৃত সমন জারী করতে পুলিশ বাড়িতে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌঁড়ে আফজল দৌড়ে পালিয়ে যায়। আসামীর বসত ঘরের বিভিন্ন কক্ষে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস, সাদা পাউডার ও যন্ত্রপাতি দেখতে পান পুলিশ সদস্যগণ। বিষয়টি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পর অভিযান পরিচালনা করে এসব বিষ্ফোরক তৈরির সরঞ্জামাদি ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে একটি রিভোলভার, একটি লেপটপ, নয়টি টি মোবাইল ফোন, বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৈরীর সরঞ্জাম ও পাউডার, দুইটি ওয়াকিটকি সাদৃশ্য বস্তু ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা করা হয়। দিনভর অভিযান শেষে বিকেল সোয়া ৫ টায় প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব উদ্ধারের তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও মিডিয়া) রিপন কুমার মোদক। উদ্ধার পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।


