জগন্নাথপুরে শ্রমিক সংকটে দিশেহারা কৃষক

জগন্নাথপুর অফিস
করোনাভাইরাসের কারণে পরিবহন ব্যবস্হা বন্ধ থাকায় জগন্নাথপুর উপজেলায় বোরো ধান কাটার শ্রমিক সংকট নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ছেন কৃষকরা।
কৃষকরা জানান, জগন্নাথপুর উপজেলার মানুষ একমাত্র বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল। প্রতি বছর বোরো মৌসুমে ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কৃষি শ্রমিকরা জগন্নাথপুরে এসে ধান কেটে কৃষকদের গোলা পরিপূর্ণ করে। ধান কাটা শেষ হলে বাড়ি ফেরার সময় নিজেরা ধান ভর্তি ট্রাক নিয়ে যান। এবার করোনাভাইরাসের কারণে সব ধরনের পরিবহন বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা আসতে পারছে না বলে কৃষকদের জানিয়ে দিয়েছেন। ফলে ধান কাটার শ্রমিক সংকটে দিশেহারা কৃষক।
জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়ার হাওর পাড়ের চিলাউড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মন্নান জানান, প্রতি বছর সিরাজগঞ্জ থেকে ২০ জনের একদল শ্রমিক ধান কাটার জন্য আমার বাড়িতে আসে। এবার আসার কথা থাকলেও (বেপারি) ধান কাটা শ্রমিকের সর্দার করোনাভাইরাসের কারণে আসতে পারবে না বলে জানিয়েছেন। তিনি এবার তিন হাল ১২ কেদারে এক হাল জমিতে বোরো আবাদ করেছন। এক সপ্তাহের মধ্যে বোরোধান কাটা শুরু হবে। শুধু আব্দুল মন্নানই নয় তাঁর মতো আরো অনেক কৃষক কৃষি শ্রমিক সংকটে এখন দুশ্চিন্তায় পড়ছেন।
উপজেলার নাদামপুর গ্রামের বাসিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাজ্জাদ মিয়া জানান,সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা থেকে ২৫ জন ধান কাটার শ্রমিক আমার বাড়িতে আসার কথা থাকলেও যান চলাচল বন্ধ থাকায় তারা আসতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন কৃষকদের কথা চিন্তা করে শ্রমিকদের যাতায়াতের ব্যবস্হা করা দরকার।
নলুয়া হাওরপাড়ের কৃষক নেতা সিদ্দেকুর রহমান জানান, নলুয়া হাওরের মাঠ জুড়ে আধা পাকা ধানের সমারোহ। করোনাকালে পরিবহন বন্ধ থাকায় বাহিরের শ্রমিকের তীব্র সংকট। হাওরের পাড়ের কৃষকদের মধ্যে ফসল নিয়ে এখন শঙ্কা বিরাজ করছে।
চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরশ মিয়া বলেন, প্রতিদিন কৃষকরা ধান কাটার শ্রমিক আনার জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করছেন আমরা বিষয়টি কৃষি কর্মকর্তা কে জানিয়েছি।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের জগন্নাথপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম বলেন, জগন্নাথপুরের কৃষকরা বোরোধানের ওপর নির্ভরশীল। অকালবন্যা কিংবা প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে ধান পাকার সাথে সাথে তা কাটার ব্যবস্হা করতে হবে। এজন্য কৃষি শ্রমিকদের আসার পদক্ষেপ নিতে হবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন, জগন্নাথপুর উপজেলায় এবার ২০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে ধান কাটা শুরু হবে। করোনাভাইরাসের কারণে দেশের বিভিন্ন স্হান থেকে ধান কাটার শ্রমিক আসা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে এতে করে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় ভূগছেন। আমরা কৃষকদের কাছ থেকে ধান কাটার শ্রমিকদের তালিকা সংগ্রহ করে তাদেরকে আসার ব্যবস্হা করে দিতে কৃষি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের লিখিত জানিয়েছি।আশা করছি কৃষি শ্রমিক আসার একটা ব্যবস্হা হবে।