জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের আধুয়া গ্রামে সালিশী ব্যক্তির মৃত্যু নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। মৃত ব্যক্তির পরিবারের দাবি মারধর করার কারণে ফজর উদ্দিনের মৃত হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার গ্রামের আরেক গ্রাম্য সালিশী ব্যক্তির বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার ওই গ্রামের ওয়াহিদ মিয়া ও সুনু মিয়ার মধ্যে পূর্ব বিরোধ নিস্পত্তির লক্ষ্যে গ্রামে সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠক চলাকালে সালিশী বিচারক ওই গ্রামের ফজর উদ্দিন (৭৫) ও ফয়জুর রহমানের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে উপস্থিত লোকজনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যে ফজর উদ্দিন অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার কর্মরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সালিশ বৈঠকে উপস্থিত অধিকাংশ লোকজন মনে করছেন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ফজর উদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে সালিশ বৈঠকে ফয়জুর রহমানের পক্ষে গ্রামের জাহির আলী সমর্থন দেয়ার অভিযোগে রবিবার সকালে গ্রামের ফজর উদ্দিনের পক্ষের লোকজন জাহির আলীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে।
এদিকে দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে ফজর উদ্দিনের লাশ গ্রামের নিয়ে আসা এলে স্বামীর মরদেহ দেখে স্ত্রী আছিয়া বেগম (৬০) গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে সঙ্গে সঙ্গে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
জগন্নাথপুর থানার এসআই হাবিবুর রহমান জানান, অধিকাংশ লোকজন জানিয়েছেন বৃদ্ধ ফজর উদ্দিন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
আবার কেউ কেউ বলেছেন, হাতাহাতির ঘটনায় মৃত্যু হতে পারে। ময়না তদন্ত শেষে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।
জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হারুনুর-অর-রশিদ জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। মৃতে্যুর ঘটনায় থানায় কেউ কোন লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।


