জনদুর্ভোগ চরমে অভিভাবকহীন ঐতিহ্যবাহী সাচনাবাজার

আকবর হোসেন, জামালগঞ্জ  
জামালগঞ্জের সাচনা বাঁধ বাজার, বেহেলী রোড, নতুন বাজার, তালপট্রি, কাঁচামাল বাজারসহ মোরগ পট্টি কয়েক মিনিটের বৃষ্টিতেই হাটুজল হয়। এই জল জমে থাকে সপ্তাহব্যাপী। এই দুটি রোডের পাশাপাশি অন্যান্য স্থানগুলোও  ময়লা আর নোংরা স্থানে পরিণত হয়েছে। সাচনা বাজারে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় ও ময়লা আর্বজনা নিয়মিত পরিস্কার না করার কারণে নোংরা বাজার হিসেবে এখন পরিচিতি পাচ্ছে। সাচনা বাজারের সব গুলি রাস্তার পাশের দোকানদাররা রাস্তা দখল করেও পথচারীদেরও বিঘœ ঘটাচ্ছেন। যত্রতত্র রাস্তা দখল হচ্ছে। শুধু নোংরা নয় মলমূত্রের বাজার হিসেবেও স্বীকৃতি পাচ্ছে। দীর্ঘ দিনের পুরাতন বাজারটিতে টয়লেট না থাকায় বাজারে আগত লোকজন যত্রতত্র মলত্যাগ করছেন। বাজারের ছোট ছোট গলিগুলি দিয়ে লোক চলাচলের কোন উপায় নেই, দুর্গন্ধের জন্য পথচারীরা নাকে রুমাল চেপে চলাফেরা করে থাকেন। বাজারের ব্যবসায়ীরা বার বার টয়লেটের জন্য আবেদন করেও ব্যর্থ হচ্ছেন। সাচনাবাজারের ব্যবসায়ীরা এই নিয়ে বার বার অভিযোগ করেও কোন সুফল পাচ্ছেন না। পাশাপাশি সাচনা বাজারের ব্যবসায়ী সমিতি এসব বিষয় দেখেও না দেখার ভান করার মত আছেন। না পারি কইতে, না পারি সইতের মধ্যে আছেন সাচনা বাজারের ব্যবসায়ীরা। এই সমস্যাগুলো একদিনের নয় কয়েক বছরের। সাচনাবাজারের এই রাস্তাগুলো দিয়ে ভালো কাপড় চোপড় পড়ে যাওয়াও নিরাপদ নয়। হঠাৎ করে কোন যানবাহন এলে বাহনগুলোর চাকার ছিটকানো পানি দিয়ে নোংরা হন পথচারীরা। সাচনা বাজারের ব্যবসায়ীদের জোড়ালো দাবি দ্রুত ড্রেনেজ ও টয়লেট নির্মাণ সহ বাজারের রাস্তার মাঝে স্থাপিত দোকান গুলোকে দ্রুত উচ্ছেদের। রাস্তাটি সাচনাবাজারের ভিতরে হলেও এর সীমানা জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের অভ্যন্তরে। তাই এই রাস্তা সংস্কারের দায়িত্ব নিয়েও রশি টানাটানিও রয়েছে। সাচনাবাজারের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রকৌশল বিভাগের মাধ্যমে গত অর্থবছরে একাংশ সংস্কার করা হলেও এটি খুব একটা কাজে আসেনি। উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে রাস্তা সংস্বারের উপযুক্ত পরিকল্পনা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আসতে হবে, তারপর বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে। বুধবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,সাচনা বাজার বেহেলী রোডের কোথাও নোংরা  জল, কোথাও পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত জল, কোথাও আবার ভাঙ্গা দেখা গেছে। জামালগঞ্জ সদরের সাচনা রামপুর, আলীপুর,শরীফপুর, বেহেলীর গুচ্ছগ্রাম রহিমাপুর, রাজাপুর, ইনাতনগর, বেহেলী বদরপুর, মশালঘাট শিবপুরসহ অন্তত ৩০ টি গ্রামের প্রায় কয়েক হাজার লোকজন প্রতিদিন এই রাস্তায় যাতায়াত করে। শুধু জামালগঞ্জ উপজেলার নয় এই রাস্তা দিয়ে তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ১০-১৫ টি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। এই রাস্তা দিয়ে কেউ না ভিজে যেতে পারেন না। ছেলে মেয়ে প্রাপ্ত বযস্ক নারী পুরুষেরা হাটু পর্যন্ত কাপড় তুলে চলাচল করতে হয়।
স্থানীয় কালীবাড়ীর বাসিন্দা কামরুল ইসলাম জানান, আমরা যেমন তেমন মেয়ে ছেলেদের খুব কষ্ট করে এই রাস্তা দিয়ে যেতে হয়।
সাচনা বেহেলী রোড ও বাধবাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েক মিনিট বৃষ্টি হলেই আমরার দোকানের সামনে পানি জমে যায়, ময়লা আর ময়লা, অভিযোগ করেও কোন ফল পাচ্ছি না আমরা, কবে যে আমরা এই দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ পাব কে জানে।
সাচনাবাজার বনিক সমিতির সভাপতি ইউসুফ আল আজাদ জানান,আমি বার বার উপজেলা প্রশাসন সহ স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও জানিয়েছি কেউই সাচনাবাজারের দিকে মুখ তুলে তাকায় না,আমাদের কথা শুনেও না শোনার ভান করেন তারা। আমাদের ব্যবসায়ীদের ভালো মন্দ দেখারও কেউ নেই মনে হচ্ছে।
সাচনাবাজারের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম করিম শামীম জানান, যতদিন না বাজার বেদখলমুক্ত হবে, যত্রতত্র দোকান সহ দখল হওয়া রাস্তাগুলো উচ্ছেদ না হবে, ততদিন পর্যন্ত এই রাস্তা সংস্কার করা কষ্টকর হবে। তার পরও আমার পরিষদ সহ উপজেলা প্রশাসন থেকে ড্রেনেজ ও টয়লেটের জন্য চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে জামালগঞ্জের উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার জানান, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পরিকল্পনা ও চাহিদা পেলে আমরা চলতি অর্থ বছরই প্রকল্প হাতে নিতে পারবো।  
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিটন খীসা জানান, সাচনা বাজারের ড্রেনেজ সহ জনদুর্ভোগের বিষয়গুলি আমার জানা আছে, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সহ ব্যবসায়ীদের সাথে নিয়ে দ্রুত এই ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।