২৩ ডিসেম্বর থেকে খাল, ছড়া, নদ-নদী, বিল, হাওর ও অন্যান্য জলাধার থেকে অবৈধ স্থাপনা উদ্ধার শুরু করবে প্রশাসন। সারা দেশেই ওই তারিখ থেকে এসব অবৈধ দখলদারিত্ব থেকে জলাধার মুক্ত করার অভিযান শুরু করা হবে। বলা বাহুল্য সারা দেশে বিভিন্ন প্রকারের জলাধার এখন গণদখলদারিত্বের শিকার হয়ে আছে। সরকারি জায়গা দখলের মতো অপকর্মের বাইরেও এই দখলদারিত্ব সবচাইতে বেশি ক্ষতি করছে পরিবেশের। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ, গতিপথ পরিবর্তন, পানি ধারণ ক্ষমতার সংকোচন প্রভৃতি ঘটিয়ে এই দখলদারিত্ব মানুষের স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার পথকে রুদ্ধ করে দিয়েছে। যারা বিভিন্ন শহরে বসবাস করেন তারা প্রতি সেকেন্ডে জলাশয় দখলিকরণের ফলে সৃষ্ট পরিবেশ বিপর্যয় মোকাবিলা করে চলেছেন। এমন প্রেক্ষাপটে যাবতীয় জলাধার দখল মুক্ত করার জন্য সরকারের এই বিশেষ অভিযান অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ। এই অভিযান কাগুজে কর্মকা-ে পরিণত না হয়ে প্রকৃত অর্থেই দখলদারিত্ব মুক্ত করতে ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
সারা দেশের মত সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনও ২৩ ডিসেম্বর থেকে জলাধার মুক্ত করার অভিযান শুরু করার প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন। সুনামগঞ্জ শহরের বাস্তবতা বিবেচনায় নিলে আমরা দেখতে পাই এই শহরের কামারখালসহ প্রধান চারটি খাল সহ অসংখ্য ছোট-বড় খাল এখন দখল হয়ে আছে। এসব খালের উপর স্থায়ী ও স্পর্শকাতর স্থাপনা পর্যন্ত গড়ে উঠেছে। শহরের খালগুলো দখল হয়ে পড়ায় পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক উপায়ের বিলুপ্তি ঘটেছে। এখন অল্প বৃষ্টি হলেই সারা শহর পানিতে ডুবে যায়। পৌরসভা শহর জুরে যে ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ করেছে তা যথেষ্ট নয়। শহরবাসী মনে করেন, শহরের পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক উৎসগুলোকে পুনরায় ফিরিয়ে আনতে পারলে পুরো শহর জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে। তাই এই অভিযানের আওতায় শহরের প্রধান ও ছোট খালগুলো উদ্ধার করা সমুচিত গুরুত্ব পাবে বলে শহরবাসী আশা করেন।
ঘোষিত অভিযান সফল করতে প্রশাসনের পূর্বপ্রস্তুতি কেমন তা আমরা জানি না। তবে এমন জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ কাজের প্রাক-প্রস্তুতি অতিমাত্রায় আবশ্যকীয়। কামারখাল দখলবাজদের তালিকা প্রশাসনের হাতে আছে। অপরাপর খালের দখলদারদের তালিকা প্রণয়ন করা জরুরি। তবে সবার আগে দরকার শহরের কোথায় কোথায় খালের অস্তিত্ব ছিল, পুরাতন নকশা ও রেকর্ড দেখে তা নিশ্চিত হওয়া। দখলবাজদের তালিকা তৈরি হলে উদ্ধার কাজ শুরু করা অনেক সহজ হয়ে যায়। শহরের খাল ছাড়াও জেলার সর্বত্রই এমন জলাধার দখল হয়ে পড়ার বাস্তবতা বিদ্যমান। নদীর তীরগুলো অবৈধ বালু-পাথর ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গেছে। খাল ও নালা সহ ছোট-খাট নদী, যেগুলো সময়ের ব্যবধানে বিলীন হয়ে গেছে, সেসবের বেশিরভাগই এখন অবৈধ দখলদারিত্বের শিকার। তাই বলা যেতে পারে, ঘোষিত জলাশয় উদ্ধার কাজ মুখে বলা যতটা সহজ, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ততটাই কঠিন। এই কঠিন কাজটি করতে সফল হলে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন সর্বমহলের প্রশংসাধন্য হবেন নিঃসন্দেহে। জীব ও জীবন, পরিবেশ ও প্রকৃতি, জলবায়ু ও বায়ু দূষণ; প্রভৃতি রোধ করতে সরকারের এই কাজকে সমাজের সকল স্তরের মানুষ অব্যাহতভাবে সমর্থন ও সহায়তা জুগিয়ে যাবেন। এখন দরকার সরকারের সঠিক কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ ও প্রয়োগ করা।
আমরা কিছুতেই চাই না, সরকারের এই জনহিতকর অভিযানটি কাগজ, ফাইল, সভা আর কার্যবিবরণীর মধ্যে আটকে না থাকুক। ২৩ ডিসেম্বর থেকে আমরা দৃশ্যমানভাবে দেখতে চাই জলাশয়গুলো ক্রমান্বয়ে দখলমুক্ত হওয়া শুরু করেছে। এই কামনায় আমরা ঘোষিত জলাশয় দখলমুক্ত করার এই কর্মসূচীর সর্বতো সফলতা কামনা করি।

