বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বোরো ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনে এবারও বিলম্ব হচ্ছে। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পিআইসি গঠনের কথা থাকলেও এখনো (৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত) জেলার কোনো হাওর রক্ষা বাঁধের পিআইসি গঠন হয় নি। কোথাও কোথাও উপজেলা কাবিটা বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটি’র কার্যক্রমেও অসন্তুষ্ট স্থানীয় কৃষকরা।
সুনামগঞ্জের ৪৮ টি বড় হাওরের প্রায় ১৪ শ’ কিলোমিটার ফসল বাঁধ মেরামত, কোনো কোনো স্থানে (বিশেষ করে ক্লোজার) নতুন করে নির্মাণের জন্য গত বছর পিআইসি হয়েছিল ৫৭২ টি। এবার ৬৯০ টি পিআইসি গঠনের লক্ষ রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের। নীতিমালা অনুযায়ী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পিআইসি গঠনের কথা। কিন্তু কোথাও বুধবার পর্যন্ত কোনো পিআইসি গঠন হয় নি।
শাল্লার ছায়ার হাওরপাড়ের আনন্দপুরের কৃষক অভিমান্য দাস ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, পিআইসি গঠন নিয়ে কোনো কিছুই করার প্রয়োজন নেই। এক রাতেই পিআইসি গঠন করতে পারবেন সংশ্লিষ্টরা। আগের পিআইসিতে যে সব কৃষকের নাম আছে, তাদের দিয়েই তো পিআইসি হবে। এর আগেও এভাবেই হয়েছে।
শাল্লার বড় কৃষক উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুস ছত্তার বলেন, যাদের হাওরে জমি নেই বা চাষবাস করে না, তারাও পিআইসি’র সভাপতি-সদস্যসচিব হয়। উপজেলা কমিটিতে ২ বছর ধরে কৃষক প্রতিনিধি উপজেলার গিরিধর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কাজল বরণ চৌধুরী। এসব নিয়ে কথা বলে লাভ হয় না।
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মুক্তাদীর হোসেন জানালেন, আগামী দুই দিনের মধ্যেই পিআইসি গঠন শুরু হবে। উপজেলা কমিটির সদস্য কাজল বরণ চৌধুরী শিক্ষকতা করেন, একই সঙ্গে তিনি কৃষকও।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাবিবুর রহমান বললেন, হাওরে গত বছর ৩০ নভেম্বরে পানির উচ্চতা যা ছিল, এই বছর এর চেয়ে এক মিটার অর্থাৎ প্রায় সোয়া তিন ফুট বেশি উচ্চতায় রয়েছে পানি। বাঁধের কাজের জন্য এক হাজার কিলোমিটার অংশ সার্ভে করা হচ্ছে। এরমধ্যে ৭৪০ কিলোমিটার সার্ভে’র কাজ শেষ। গণশুনানী’র কাজও শেষ প্রায়। আমরা আশা করছি, আগামী ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠনের কাজ শেষ হবে। ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বাঁধের কাজ শুরু করা যাবে।
- জামালগঞ্জের সুরমা নদীতে অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধের দাবিতে শ্রমিকদের মানববন্ধন
- জলাশয় দখলমুক্ত কর্মসূচীর সফলতা কামনা করি


