স্টাফ রিপোর্টার
জামালগঞ্জ উপজেলার গজারিয়া এলাকায় সুরমা ও বৌলাই নদীর পাড়ে টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে শ্রমিকরা মানববন্ধন করেছে। বুধবার দুপুরে উপজেলার গজারিয়া বাজার সংলগ্ন সুরমা নদীর তীরে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, গজারিয়া বালুঘাটের শ্রমিক সর্দার মোঃ কামরুল মিয়া, বশির মিয়া, শ্রমিক মিল্লিক বাহাদুর, জসিম মিয়া, বাজারের ব্যবসায়ী মো. প্রবাল মিয়া, মো. পারভেজ মিয়া, মো. শরিফ, এরশাদ মিয়া, নবী হোসেন, জলিল মিয়া, ইয়াসিন মিয়া প্রমুখ।
শ্রমিকরা বলেন, ইজারা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বিআইডব্লিউটিএ প্রতি ফুট বালু হতে ২৫ পয়সা করে টোল আদায়ের নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু ইজাদার ইয়াকবির আফিন্দির নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের টোল আদায়কারী গজারিয়া ঘাটের সুরমা নদীতে এসে বালু বোঝাই বাল্কহেড আটকিয়ে নৌকার মাঝিকে মারধর করে প্রতি ফুটে ১ টাকা ২৫ পয়সা হারে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এ কারণে ঘাটে বাল্কহেডসহ বালু বহনকারী ট্রলার আসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। হাজারো শ্রমিক কর্মসংস্থান হারিয়ে বেকার হয়ে পড়ছেন। প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
মানববন্ধনে বক্তারা আরো বলেন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের (বিআইডব্লিউটিএ) ভৈরব বাজার নদী বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার গজারিয়া বাজার ঘাটে টোল আদায়ের ইজারা আনেন উপজেলার দুর্লভপুর গ্রামের ইয়াকবীর আফিন্দী নামে এক ব্যক্তি। তিনি ওই কাগজ দেখিয়ে নৌ-পথে চলাচলকারী কয়লা, বালু-পাথর বোঝাই বাল্কহেড আটকিয়ে অন্যায়ভাবে লাখ-লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছেন।
ইজারাদার ইয়াকবীর আফিন্দির বলেন, একটি মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে। নিয়মের বাইরে আমার লোকজন টাকা আদায় করছে না।
জামালগঞ্জ থানার ওসি মো. সাইফুল আলম বলেন, কোন ইজারাদার কর্তৃক নির্ধারিত টোলের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করার অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জামালগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা পাল বলেন, নৌ-পথে চাঁদাবজি ও অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে শ্রমিকরা আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন, আমি বলেছি আমার মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিএর নিকট আবেদন করতে। আমি সেই আবেদন জেলা প্রশাসক মহোদয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিআইডব্লিউটি’এর কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে চেষ্টা করবো।


