জসীমউদ্দীন : একালের চোখে

মোস্তাক আহমাদ দীন

সাহিত্যসমাজে জসীমউদ্দীন নানা কারণে আলোচিতÑকবিতা রচনার ক্ষেত্রে সমকাল থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান, লোকস্বভাবী স্বাতন্ত্র্য, ‘গ্রাম্য-গান’ রচনা এবং সেই সব গানের প্রতি তাঁর সংস্কারবাদী মনোভাবের কারণে সেই আলোচনা এখনও চলমান। ব্যক্তিগত কাব্যরুচির প্রশ্নে প্রথম দুটি কারণের প্রতি উদাসীন থাকার আপাতযুক্তি কেউ কেউ দেখাতে পারবেন হয়ত, কিন্তু শেষোক্ত কারণ, যা অভিযোগেরই নামান্তর, এর সত্যতা জসীমউদ্দীনের গানে প্রকটরূপে আছে বলেই তা সমালোচনাযোগ্য। কবিতা রচনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য না থাকলেও, ‘গ্রাম্য-গান’ রচনা-বিষয়ে স্পষ্ট স্বীকারোক্তি আছে তাঁর সাহিত্যচিন্তায় :
আমার আর এক রকমের সাহিত্যকর্ম আছে। এগুলি আমার লেখা গ্রাম্য-গান। এই গানের সাহায্যে আমি দেশের, জনগণের মনে প্রবেশ করিতে চাই। গ্রামদেশে ঘুরিতে ঘুরিতে আমি কোথাও দেখিয়াছি কোন গানের প্রথম কলিটি ভারি সুন্দর। কিন্তু পরবর্তী লাইনগুলিতে জনগণের কুসংস্কারকেই রূপ দেওয়া হইয়াছে। আমি সেই গানের প্রথম লাইনটি গ্রহণ করিয়া বাকি লাইনগুলি নিজেই রচনা করিয়া দেই।  

লেখার শুরুতেই এ-উদ্ধৃতির কারণÑএই নিঃসঙ্কোচ স্বীকারোক্তির মধ্যে তাঁর সাহিত্যচিন্তারÑআরও নির্দিষ্ট করে বললে কাব্যচিন্তারÑষোলো আনাই প্রকাশিত। যাদের মাধ্যমে উত্তররৈবিক কাব্যধারা এগিয়ে গেছে, তাদের সমকালে অবস্থান করেও বিষয় ও আঙ্গিক কোনো ক্ষেত্রেই সেই পথের অনুসারী ছিলেন না জসীমউদ্দীনÑবরং এ-বিষয়ে আলাদা মত ও আত্মগর্ব ছিল তাঁর, ফলে নিঃসঙ্গতা সত্ত্বেও আচরণে কখনো কোনোধরনের হীনম্মন্যতাও প্রকাশ পায়নি। রাশিয়া ভ্রমণকালে সালজনিকের এক প্রশ্নের জবাবে দেশের সাহিত্যের গতি-প্রকৃতি বিষয়ে বলতে গিয়ে তিনি কবিতার ক্ষেত্রে তিনটি ধারার উল্লেখ করেছিলেন, এর মধ্যে একটি হলো ‘পশ্চিম বঙ্গের হিন্দু সাহিত্য হইতে সম্পূর্ণ আলাদা’ তহজিব তমদ্দুনের রূপদানকারী ধারা, যে-ধারার প্রধান কবি ফররুখ আহমদ। জসীমউদ্দীনের ধারণা ছিল, এই ধারা যদি দেশকে অন্ধ গোঁড়ামি আর কূপম-ূকতার দিকে নিয়ে না-যায়, তাহলে তাদের ‘রচনাশৈলী আমাদের সাহিত্যের আসরে একটি গৌরবের আসন গ্রহণ’ করবে। কিন্তু দ্বিতীয় ধারাটি, তাঁর মতে, যার অনুসারীরা মনে করতেন, তাদের সাহিত্যের পিতা মরে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছেন, তাই তাদের ব্যবহৃত উপমা অলঙ্কার প্রকাশভঙ্গি বর্জন করে ইউরোপ আমেরিকার কবিদের মতাদর্শ অবলম্বন করতে হবেÑতাদের প্রতি বেজায় বিরক্ত ছিলেন তিনি। বোঝা যায়, প্রথম ধারার প্রতি সশর্ত সমর্থন থাকলেও দ্বিতীয় ধারার প্রতিÑশামসুর রাহমানের ছন্দোবদ্ধ দু-একটি কবিতার প্রতি আগ্রহ দেখালেও, তাঁর অধিকসংখ্যক কবিতা এবং আহসান হাবীব, হাসান হাফিজুর রহমান ও সৈয়দ শামসুল হকের কবিতার প্রতি ছিল জসীমউদ্দীনের অব্যাহত অসমর্থন। আর, তাঁর মতে, তৃতীয় ধারার কবিদের মনোভাব হলো যেহেতু দেশের অধিকাংশ লোক গ্রামে বাস করে তাই সাহিত্যে থাকবে তাদের সুখ-দুঃখ-আশা-আকাক্সক্ষা ও জীবন-জিজ্ঞাসা, এ-কারণে গ্রামে গিয়ে তাদের শুধু সঙ্গে মিশেই ক্ষান্ত থাকেন না কবি, যুগ-যুগ ধরে যে ‘অপূর্ব লোক-সাহিত্য’ রচিত হয়ে আসছে সেগুলোর মধ্যে তার মনের কথা খুঁজে বেড়ান, তাঁরা নিজেদের লেখায় সেই লোক-সাহিত্যের ‘কোন কোন কথা ভরিয়া দিয়া দেশের পূর্বসূরীদের সঙ্গে তাঁহাদের সাহিত্যের যোগসংযোগ করেন।’ ‘গ্রাম্য-গান’ রচনার ক্ষেত্রে যে গ্রহণ ও বর্জনের কথা বলেছিলেন, কবিতা রচনার ক্ষেত্রেও সেই কথা দেখে কারও না-বোঝার কথা না যে, এই দলের অগ্রণী কবিই হবেন জসীমউদ্দীন। তবে, গানের ক্ষেত্রে [মুহম্মদ নূরুল হক-উত্থাপিত] যে-অভিযোগটি উপস্থাপন করেছিলেন শিল্পী খালেদ চৌধুরী, কবিতার ক্ষেত্রে সেরকম কোনো জোরালো অভিযোগ আমাদের চোখে এখনও পড়েনি। ১৯৪০-৪১ সালে শচীন দেববর্মনের-গাওয়া ‘নিশীথে যাইও ফুলবনে’ গানটি ব্যাপক জনপ্রীতি লাভের পরে আল-ইসলাহ পত্রিকার সম্পাদক মুহম্মদ নূরুল হকের সঙ্গে দেখা হয় খালেদ চৌধুরীর এবং কথায়-কথায় ওই গানের প্রসঙ্গ উঠতেই নূরুল হক উত্তেজিত হয়ে বললেন, সেটি আসল গান নয়, মূল সুরেও গাওয়া হয়নি; জসীমউদ্দীন তাঁর কাছ থেকে উনিশ শতকের মারফতি কবি শেখ ভানুর পা-ুলিপিটি চেয়ে নিয়ে ফেরত তো দেনইনি বরং দেহতত্ত্ব-এর গানটিকে প্রেমের গান বানিয়ে রেকর্ড করালেন। এরপর নূরুল হক তাঁর পত্রিকার একটি সংখ্যা বের করে যে-মুদ্রিত গানটি দেখিয়েছিলেন সেটি উদ্ধৃত করলেন খালেদ। পার্থক্য বোঝার জন্য এখানে সূত্রসহ দুটি গানেরই উল্লেখ করছি, এতে জসীম্উদদীনের পুনর্নির্মাণ-প্রক্রিয়া বিষয়েও সহজ ধারণায় পৌঁছা যাবে:
নিশীথে যাইও ফুলবনে রে ভোমরা
নিশীথে যাইও ফুলবনে
নয় দরজা বন্ধ করি
লইও ফুলের গন্ধ হে
অন্তরে জপিও বন্ধের নাম রে ভোমরা।
জ্বালাইয়া দিলের বাতি
ও মন ফুটা ফুল নানা জাতি হে
কত রঙ্গে ধরবে ফুলের কলি রে ভোমরা।
অধীন শেখ ভানু বলে
ঢেউ খেলাইও আপন দিলে ওহে
পদ্মা যেমন ভাসে গঙ্গার জলে রে ভোমরা।

শেখ ভানু [লোকসংগীতের প্রাসঙ্গিকতা ও অন্যান্য প্রবন্ধ : পৃ. ৫]  

নিশিতে যাইও ফুলবনে
Ñরে ভোমরা।
নিশিতে যাইও ফুল বনে।
জ¦ালায়ে চান্দের বাতি,
আমি জেগে রব সারা-রাতি  গো;
কব কথা শিশিরের সনে
Ñরে ভোমরা।
নিশিতে যাইও ফুলবনে।
যদিবা ঘুমায়ে পড়িÑ
স্বপনের পথ ধরি গো,
    যেও তুমি নীরব চরণে
Ñরে ভোমরা।
(আমার ডাল যেন ভাঙে না,
আমার ফুল যেন ভাঙে না
ফুলের ঘুম যেন ভাঙে না)।
যেও তুমি নীরব চরণে
Ñরে ভোমরা।
নিশিতে যাইও ফুলবনে।

জসীমউদ্দীন [১০ সংখ্যক গান, রঙিলা নায়ের মাঝি, পৃ. ১৪ ]

‘প্রথম লাইনটি গ্রহণ করিয়া বাকি লাইনগুলি নিজেই রচনা’-করার যে-স্বীকারোক্তি করেছিলেন তিনি, তার সমালোচনা যথাসময়ে প্রবল হয়ে ওঠেনি বলে এ-কাজটি প্রায় নির্বিঘেœই করে যেতে পেরেছেন জসীমউদ্দীন এবং এতে তিনি তাঁর উদ্দেশ্য-অনুযায়ী সফলও হয়েছিলেন, কিন্তু পাশাপাশি এর মধ্য দিয়ে আরেকটি বিশেষ ভাবের ক্ষতি করে তার ¯্রষ্টার প্রতি যে-অশ্রদ্ধা প্রকাশ করে গেলেন তা নিয়ে তাঁর কোনো খেদ ছিল বলে মনে হয় না; এমনকি এই গানটির মধ্যেই যে তাঁর এই পুনর্নির্মাণ-প্রবণতার পরোক্ষ সমালোচনা রয়ে গেছে সেদিকেও খেয়াল করার সুযোগ হয়নি। উল্লেখ্য যে, এই গান মুদ্রণের প্রায় পঞ্চাশ বছর পরে খালেদ চৌধুরী স্মৃতি থেকে উদ্ধার করে ১৯৮৭ সালে আজকাল পত্রিকায় পুনরায় প্রকাশ করেছিলেন, তিনি তাঁর ‘শিকড়ের সংগীত’ প্রবন্ধে একথা বলেওছিলেন যে দু-একটি পদ আর এখন তাঁর মনে নেই। পরে মিলিয়ে দেখা গেল, আসলেই এর তিনটি পঙ্ক্তি বাদ পড়ে গেছে, এখানে সেই মনে-না-থাকা তিনটি পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করা হলো, যেখানে ওই প্রবণতার সমালোচনার পাশাপাশি মারফতি গানের রহস্যটাও ধরা পড়েছে  :
ডাল পাতা বৃক্ষ নাই
এমন ফুল ফুটাইছে সাঁই
ভাবুক ছাড়া বুঝবে না প-িতে রে ভোমরা।

লক্ষ করার মতো বিষয় এই যে, দেহ[তত্ত্ব]-এর রূপকে এমন এক ফুলকে উপস্থাপন করেছেন শেখ ভানু, যার ডাল-পাতা-বৃক্ষ কিছুই নাই, কিন্তু জসীমউদ্দীনের গানে তার দৈহিক অস্তিত্ব অনিবার্যরূপে বর্তমান। ডেকে-বলে-করা এই কা- বিষয়ে যথাসময়ে না হোক, কয়েক দশক পরেÑ১৯৭১ সালেÑপ্রশ্ন করা হয়েছিল জসীমউদ্দীনকে : ‘আপনারা লোকসংগীতকে যথাযথ অবস্থায় রেকর্ড করলেন না কেন? মার্জিত করলেন কেন?’ জবাবে তিনি বলেছিলেন : ‘দেখেন আমরা যদি কিছুটা মার্জিত না করে রেকর্ড করতাম তাহলে তো শহরের মানুষের কাছে কল্কেই পেতাম না।’ শেষপর্যন্ত এ-বিষয়ে প্রশ্ন করায় কল্কে-পাওয়ার জন্য এই লোকসাহিত্যপ্রেমীর মনের কথাটা না-হয় বোঝা গেল, কিন্তু কবিতা বিষয়ে তাঁকে কি কেউ কখনো এমন প্রশ্ন/অভিযোগ করেছিল?       
    এ-বিষয়ে মাঝে-মাঝে কিছু কথা উঠেছে যদিও, তবু কখনো জোরালো অভিযোগ শোনা যায়নি; বরং ছাত্র-থাকা অবস্থায় ‘কবর’ কবিতাটি পাঠ্যতালিকাভুক্ত হওয়ার পাশাপাশি পরে এই লোকস্বভাবী প্রবণতার জন্য, ব্যাপকভাবে না হলেও, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রে সমাদৃত হয়েছিলেন জসীমউদ্দীন। এ-কথার পক্ষে স্বজাতি আলোচকদের কাছে সমাদরের ভুরি-ভুরি দৃষ্টান্ত বই ও সাময়িকপত্রে ছড়িয়ে রয়েছে, জসীমউদ্দীনের অন্যতম প্রধান আলোচক সুনীলকুমার মুখোপাধ্যায় তো নক্সী কাঁথার মাঠ-প্রসঙ্গে ভেরিয়ার এলুইনের নির্ণয়দ্বন্দ্বী সিদ্বান্তের ওপর ভর করেই বললেন যে, ‘আধুনিক রুচিসম্মত জসীমউদ্দীনের এই কাব্যকে পুরোপুরি লোককাব্য বলা সম্ভব না হলেও এ কাব্য নিঃসন্দেহে লোকজীবনভিত্তিক।’ ভেরিয়ার এলুইনের মূল মন্তব্য ছিল :দও ফড় হড়ঃ শহড়ি যিবঃযবৎ ঃযব ভরবষফ ড়ভ ঃযব ঊসনৎড়রফবফ ছঁরষঃ পধহ নব পষধংংব ধং ভড়ষশ-ঢ়ড়বঃৎু, নঁঃ রঃ রং ড়নারড়ঁংষু ঢ়ড়বঃৎু ধনড়ঁঃ ঃযব ভড়ষশ-ঢ়ড়বঃৎু.’ আর দুুশন জ্বভিতেল লিখেছিলেন, ‘তিনি গ্রাম্য গান নকল করেন তা মনে করলে একেবারে ভুল হবে। লোকসাহিত্যের উপমা নিজের কবিত্বশক্তি দিয়ে বদলিয়ে তিনি তাদের নতুন মানে সৃষ্টি করেন।’ এই সব বিবেচনা পুনর্মুল্যায়ন করার আগে, ২০০৯ সালে লিখিত বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কবিতার ভূমিকায় জসীমউদ্দীনের প্রায়-বিপরীত মেজাজের কবি রণজিৎ দাশের মূল্যায়নের উল্লেখ করতে চাই।
    বইটি সম্পাদনা করতে গিয়ে বাংলাদেশের কবিতার স্বাতন্ত্র্য কী, এই প্রশ্নটি সামনে রেখে তার দুটি উত্তর খোঁজা হয়েছে। বাংলাদেশের কবিতায় আধুনিকতার বিলম্বিত দৃষ্টিকোণ থেকে প্রথম উত্তরটি দিয়েছেন কবি সাজ্জাদ শরিফ, অন্য সম্পাদক রণজিৎ দাশ তার প্রতি সহমত পোষণ করেও বিপরীত দৃষ্টিকোণ থেকে আরেকটি উত্তর খুঁজেছেন এবং সেই সূত্রে নক্সী কাঁথার মাঠ কাব্যের শেষ পর্বের কয়েকটি পঙ্ক্তির উল্লেখ করে বলেছেন, সেগুলো বাঙালি হৃদয়ের চিরন্তন চিত্রকল্প; বলেছেন, ‘বিরহী বাতাসের দীর্ঘশ্বাসে ভরে থাকা এই শূন্য রুক্ষ টুটো-ফাটা নক্সী-কাঁথার মাঠটিই বাঙালির নিজস্ব ওয়েস্টল্যান্ড’, আরও বলেছেন, এই কাব্যের গভীর উত্তরাধিকারেই বিশ শতকের বাংলা কবিতা স্বতন্ত্র [এবং উত্তরাধিকারের দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে আল মাহমুদের ‘সোনালি কাবিন’-এর ১০সংখ্যক সনেট]। বুঝতে অসুবিধে হয় না বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কবিতা শেষপর্যন্ত জসীমউদ্দীনকে দিয়েই কেন শুরু হয় এবং অনেক কিছু বলার পরও ভিন্ন মেজাজের কবি সাজ্জাদ শরিফকে কেন এই তথ্যটিও দিতে হয় যে : ‘…সংকলনটি আমরা শুরু করেছি জসীমউদ্দীনকে দিয়ে। কারণ তাঁর কবিতা পূর্ববঙ্গেরই নির্যাস। পূর্ববঙ্গ বাদ দিলে তাঁর কবিতার সামান্যই অবশিষ্ট থাকবে।’ বাংলাসাহিত্যে জসীমউদ্দীনের কাব্যমূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুরু থেকে এখনপর্যন্ত অধিকাংশ মূল্যায়নে এরকমের কৈফিয়তের স্বর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে, এবং সেটাই স্বাভাবিক। সেটা শুরু হয়েছে জসীমউদ্দীনের আবির্ভারের সময় থেকেইÑবাংলা কবিতা তাঁর পথ ধরে এগোয়নি বলে শুধু নয়Ñসেই ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে অবনীন্দ্র ঠাকুর নিজে নক্সী কাঁথার মাঠকে আদরের চোখে দেখলেও শেষপর্যন্ত তিনিও দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন সাধারণ পাঠকের কাছে সেটি গৃহীত হবে কি না এবং গেঁয়ো যোগীর মতো তা প্রত্যাখ্যাত হবে কি না। বইটিতে পুরাতন পল্লি, তার পথঘাট ও নির্ভেজাল উপাদান খুঁজে পেয়ে তার দরদি মূল্যায়ন করেছিলেন দীনেশচন্দ্র সেনও, সেটি পড়েই দেশে-বিদেশে বইটির কদর বাড়েÑই. এম মিলফোর্ড ইংরেজিতে তার অনুবাদ করেন, তবু মনে রাখা দরকার যে, সেই আলোচনায় নক্সী কাঁথার মাঠকে ‘কিঞ্চিৎ দ্বিধার সহিত সংবর্ধনা’ জানিয়েছেন দীনেশচন্দ্র সেনও। [অন্যপ্রসঙ্গে উল্লেখ করা হলেও] এই সকল দ্বিধার বিষয়টি খুব নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে সমালোচকের এই বাক্যে : ‘ জসীমউদ্দীন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে গলার কাঁটা হয়ে বিঁধে আছেন।’ কেন বিঁধে আছেন তার কারণ পাঠক-সমালোচকের এই দ্বিধাগ্রস্ত মনোভাবের মধ্যেই রয়েছে।
    জসীমউদ্দীনকে আলোচনা করতে গেলে তিরিশের দশকে কাব্যধারা ও শিক্ষিত/দীক্ষিত পাঠকদের রুচি-পরিবর্তনের প্রসঙ্গটি অনেকটা অনিবার্যভাবেই আসে, তবু বিষয়টি বহুচর্চিত বলেই এখানে তার পুনরাবৃত্তি করছি না। তাঁর কাব্যের আদর-অনাদর বিষয়ে শুধু শিবনারায়ণ রায়ের ‘আধুনিক বাংলা কবিতা ও জসীমউদ্দীন : নক্সী কাঁথার মাঠ’ প্রবন্ধটির উল্লেখ করতে চাই, কারণ আমাাদের জানা মতে তাঁর স্মৃতি-অভিজ্ঞতা ও মননশীল বিবেচনার মাধ্যমে জসীমউদ্দীনের শুরুর দিকের কাব্যচর্চার যে-বর্ণনা দিয়েছেন তা খুবই প্রাসঙ্গিক। তিনি উল্লেখ করেছেন, নক্সী কাঁথার মাঠ পাঠকের হৃদয়সংবাদী হওয়ার আগেই গোটা বিশের দশক জুড়ে বাংলা কাব্যজগতে মুকুটহীট রাজা নজরুলের রাজত্বের কারণে এবং এর কাছাকাছি সময়ে কবিতা ও পরিচয় পত্রিকার সাহিত্যরুচি প্রচারিত হওয়ায় ‘হিন্দু উচ্চবর্ণশাসিত পশ্চিমবঙ্গে তথা বিদগ্ধ-অধ্যুষিত রাজধানী কলকাতায়, জসীমউদ্দীনের মতো ন¤্র, নি¤œকণ্ঠ, গ্রামকাহিনীভিত্তিক’ কবির প্রতি উচ্চবর্গ সমাজের অস্বীকৃতি লক্ষ করা গেছে। কিন্তু তাঁর সম্পর্কে এরকম কথা নানা ভঙ্গিতে আরও অনেকেই করেছেন, বরং এই প্রবন্ধে জসীমউদ্দীনের কবিতা-সম্পর্কে তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে-মন্তব্যটি করেছেন, তা হলো :

জসীমউদ্দীনের যে-সহজাত কবি-প্রতিভা ছিল অনুশীলনের অভাবে তা বিকশিত হবার সুযোগ পায়নি। ভাষায় ব্যঞ্জনা সঞ্চারের দ্বারা যে-অর্থসমৃদ্ধি ঘটে সে-সম্পর্কে তিনি বিশেষ সচেতন ছিলেন না। ফলে তার মোট প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা নিতান্ত কম না হলেও প্রথম যুগের দুটি কাব্যগ্রন্থের বাইরে কোনোটিই বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য মনে হয়নি।

দেশ-বিদেশের কবিতার গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে যারা মোটামুটি হলেও ওয়াকিবহাল এবং শিবনারায়ণ রায়ের বহুলপঠিত ‘আধুনিক কবিতায় ব্যঞ্জনা’ প্রবন্ধটি যাদের পড়া আছে তাদের আর বুঝতে বাকি থাকবে না যে ভারতীয় কাব্যশাস্ত্রের অভিধা, তাৎপর্য ও লক্ষণার বিষয়টি মাথায় রেখেই তিনি মন্তব্যটি করেছেন। মনে রাখতে হবে শিবনারায়ণ রায় কোনোভাবেই জসীম-বিদূষক ছিলেন না, বরং তাঁর ‘আধুনিক বাংলা কবিতা ও জসীমউদ্দীন : নক্সী কাঁথার মাঠ’ ও ‘সোজনবাদিয়ার ঘাট ও প্রভাববঞ্চিত প্রতিভা’ প্রবন্ধ দুটি জসীমউদ্দীন-বিবেচনার নিরপেক্ষ দৃষ্টান্ত। তারপরও মন্তব্যটি অনেকের বিচলনের কারণ হয়ে উঠতে পারে; তা হলে, শুধু যে কবিতাপ্রীতির কারণেই হবে সেটা ঠিক নয়; এখন লক্ষ করা যাচ্ছে কিছু আলোচক নিজেদের স্বার্থে তাদের সঙ্কীর্ণ ভাবধারা প্রচারের উদ্দেশ্যে তাঁর গদ্যের পাশাপাশি কবিতাকেও সমমর্যাদায় মহিমান্বিত করার চেষ্টা করছেন। এ-কথা বলার উদ্দেশ্য এ নয় যে, তাঁর কবিতার পাঠক ছিল না বা তাতে সারবত্তা বলতে কিছু নেই। আট বছরের মধ্যে নক্সী কাঁথার মাঠ-এর তিনটি সংস্করণের কপিগুলো তো সাধারণ পাঠকের হাতে হাতেই ফিরেছে; শুধু সাধারণ পাঠক নয়, বইটি বিদ্বান আলোচকদের হাতেও তো উঠেছে, কারণ বাঙালি পাঠকসমাজ গ্রামীণ সমাজ থেকে সমূল বিচ্ছিন্ন হয়নি এবং এ-আঙ্গিকটি সাক্ষরসমাজে তখনো প্রায় অকর্ষিত ছিল বলে লোকগীতিকার মাার্জিতরূপ এই কাব্যগ্রন্থ দুটি সহজেই গৃহীত হল। এই ‘মার্জিত রূপ’ কথাটি সচেতনভাবেই লিখিত, এই মার্জনাই তাঁর সৃষ্টির মূল রহস্য বা বৈশিষ্ট্য, এই কাজে জসীমউদদীনের সাহস ও ভরসার উৎস ছিলেন দীনেশচন্দ্র সেন। জসীমউদদীনের সাধুরীতিতে লিখিত চিত্রল গদ্যের প্রাঞ্জলতা দেখে পাঠকের একথা বুঝতে অসুবিধা হয় না যে শব্দ-মনোয়নের ক্ষেত্রে নিজস্বতা সত্ত্বেও কাব্য ও গদ্য উভয় মাধ্যমেরই প্রেরণা ছিলেন ওই দীনেশচন্দ্র সেনই। পাঠকের মনে পড়বে নক্সী কাঁথার মাঠ প্রসঙ্গে লিখতে গিয়ে তাঁর সেই উক্তি : ‘ইংরেজী সাহিত্যের প্রভাবে বাঙ্গালী ভাষার শ্রী উল্টিয়া গিয়াছে। যেমন আজকাল দুধে ভেজাল, ঘিয়ে ভেজাল, মধুতে ভেজাল মেঠাইএ ভেজাল, তেমনই এখন সাহিত্যে ভেজালের ছড়াছড়ি, এমন যে তিলোত্তমা, তাতেও নাকি রেবেকার ভেজাল আছে। উর্ব্বশী পড়িতে পড়িতে হঠাৎ এ পিপ, সাইকিডিয়ান মনে পড়িয়া যায়। ইংরেজী সাহিত্যে ইংরেজী সমাজ আমাদের বাঙ্গলা সমাজের গায়ে যে দাগ দিয়া যাইতেছে, তাহা বড় স্পষ্ট, এবং সময়ের কলঙ্ক স্বরূপ।’ জসীমউদ্দীন তাঁর অনেক প্রবন্ধে এই কথাগুলি নানা ভাবে প্রকাশ করে গেলেও কবিতা ও গান রচনার ক্ষেত্রে তাঁকে কেন্দ্র-করে-বলা দীনেশচন্দ্র সেনের বক্তব্যের বিরুদ্ধেই চলে গেছেন। গানের ক্ষেত্রে তো বলাই নিষ্প্রয়োজন, কবিতার ক্ষেত্রেও তিনি যা করেছেন, তাও তো দীনেশচন্দ্রকথিত ‘ভেজাল’ মেশানোর পর্যায়েই পড়ে। ‘উর্ব্বশী’ পড়তে পড়তে যাঁর ‘এ পিপ, সাইকিডিয়ান’-এর কথা মনে পড়ে, নক্সী কাঁথার মাঠ পড়তে গেলে তাঁর জ্ঞাত-অজ্ঞাত কবির গীতিকাগুলোর কথা অবশ্যই মনে পড়বার কথা এবং ধারণা করি অবনীন্দ্রনাথেরও সেটা মনে পড়েছেÑএই কারণেই নবীন কবিকে সংবর্ধিত করতে গিয়ে তাঁরা দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। দীনেশচন্দ্র সেন ছিলেন স্বজাতিপ্রেমী ও [লোক]সাহিত্য-দরদি, জসীমউদ্দীনের কাব্যে তার অভিব্যক্তি দেখে তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যাকুল ছিলেন, তাঁর চিঠিতে এই কাতরতা রয়েছে, ‘কবর’ কবিতাটি পাঠ্যতালিকাভুক্ত করার পেছনেও তাঁর ভূমিকা ছিল। এ-কাজে দীনেশচন্দ্র সেনের উদ্দেশ্য ছিল মহৎ, কিন্তু তা কবি জসীমউদ্দীনকে পরিশ্রমবিমুখ করার পাশাপাশি একই সঙ্গে যুগবিমুুখ এবং অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসীও করেছে। পরে এই ভাব বিস্তারিত হয়েছে [কথায়, সাক্ষাৎকারে এবং] তাঁর সাহিত্যচিন্তাধর্মী গদ্যেও; তবে এই আত্মবিশ^াসই কা-জ্ঞানের সঙ্গে মিলে গদ্যকে আলাদা শক্তি দিয়েছে। কিন্তু এরপরও একথা স্বীকার না-করে উপায় নেই যে, তাঁর কবিতার সঙ্গে এই সকল চিন্তার যোগ ও প্রয়োগের বিষয়টি মিলিয়ে দেখতে গেলে হতাশ তো হতে হয়ই, বিপদেও পড়তে হয়।  
    এই বিপদ-সম্পর্কে তিনি নিজে কতটা সচেতন ছিলেন জানি না, কিন্তু তাঁর সাহিত্যচিন্তা বিষয়ক গদ্য আমাদেরকে সতর্ক হতে বাধ্য করে। তাঁর পদ্য যতটা সরল, গদ্যের চিন্তা ততটা সরল নয় বরং এতে নানা স্ববিরোধিতা রয়ে গেছে। আবদুল কাদিরকে লিখিত গণ-সাহিত্য শিরোনামক পত্র-প্রবন্ধে তিনি যখন বলেন সৃষ্টিশীল মানুষ নাকি সত্যকার সমালোচক হতে পারেন না, তখন মনে হয় তাঁর ক্ষেত্রে এই কথাটি মিথ্যে হলেই বরং ভালো হত। আবার একই চিঠিতেই যখন পড়ি : ‘মানুষের চাহিদা-অনুসারে সাহিত্য রচনা করলেও যে বড় সাহিত্য হতে পারে, জগতের সাহিত্যে তার ঢের প্রমাণ আছে’, তখন এই মন্তব্যটি তাঁর জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতাসহ হাজির হলেও তা আমাদেরকে তাঁর বিষয়ে উঁচু ধারণা পোষণে দ্বিধাগ্রস্ত করে। জীবনানন্দ দাশ কবিতা-বিষয়ে বা কবিতার সম্ভাবনা-বিষয়ে যে যে উচ্চধারণা পোষণ করতেন, তার অল্পই তো বাস্তবায়ন করেছিলেন, তারপরও তাঁর প্রতি আমাদের কৌতূহল ও বিস্ময়ের শেষ নেই,  আর জসীমউদ্দীনÑতাঁর মতানুসারেÑজনগণের চাহিদার কথা ভেবেই তো লিখেছেন এবং তাদের আকৃষ্টও করেছেন, তবু তাঁর প্রতি আমাদের দ্বিধা কেন? তা এজন্যই যে, তার কবিতায় অভাবিতরকমের কোনো উপাদান তো নেইই, নেই যুগযন্ত্রণাজাত সংবেদনও, শুধু যা পূর্বে ছিল, তা ভাঙিয়ে কিছু নতুন-করে গড়েছেন অর্থাৎ গ্রাম্য-গান রচনার ক্ষেত্রে তাঁর যে দৃষ্টিভঙ্গি, গ্রাম্য-কবিতা বা পল্লিকবিতা রচনার ক্ষেত্রে সেই মনোভাবই রয়ে গেছে। গান ও কবিতার ক্ষেত্রে তাঁর এই কুড়ানো-বাড়ানো প্রবণতা আমাদেরকে বিস্মিতই করবে যখন ওই পত্র-প্রবন্ধেই তাঁর এই মন্তব্যটি পড়ব যেÑমনসামঙ্গল ও চ-ীমঙ্গলের বুনুনির উপর কোনো কবি যদি হোমার ও মিল্টনের কাব্যধারার যোগ স্থাপন করতে পারেন তাহলে তিনি অমর হয়ে থাকবেন। জসীমউদ্দীন মনে করতেন, তা অসম্ভব নয়Ñঅসম্ভবকে সম্ভব করাই হলো সাহিত্যের ইতিহাস, একসময় তো ‘একঘেয়ে বাঙলা পয়ার মিলের বন্ধনী কেটে অপূর্ব নৃত্যকুশলী নটিনী হয়ে উঠল’ ইত্যাদি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এ-কাজগুলো জসীমউদ্দীন নিজেই করলেন না কেন? হোমারের চিরকালীন সংবেদন সৃষ্টি সে-তো দূরের কথা, মনসামঙ্গলের চরিত্রের একম্মন্যতা ও অনিবার্যতানির্ভর যে-মর্মান্ত বেদনার উপলব্ধি, তাও তো কোনোভাবেই যুক্ত হতে পারল না তাঁর কবিতায়। ‘তাহলে কী আছে তাঁর কাব্যে?’
    পল্লির বিশ্বস্ত চিত্র আছে, সরল জীবনের আনন্দ-বেদনা আছে, বাদ-বিসম্বাদ আছে, ঘটনা-দুঘর্টনার সমকালীন স্থিরচিত্র আছে, [আধুনিক চিত্রকলার বহুমাত্রিক রূপ না থাক] লোকচিত্রকলার উপাদান আছে, এবং কে না জানে সময় পার হয়ে গেলে আমরা যদি সম্পূর্ণ পল্লিবিচ্ছিন্ন-হওয়ার-মতো দুর্ভাগ্যের শিকার হই, তাহলে একসময় তাইই হয়ে উঠবে ইতিহাসের বাস্তব চিত্র। [এই সবই একজন ঐতিহাসিকের জন্য, গদ্যলেখকের জন্য অনেক বড়ো কিছু] কিন্তু এতে যা নেই, তা হলো সজাগ মননকে আলোড়িত করার মতো ব্যঞ্জনা। ল্যাম্ব-এর একটি বাণীকে উদ্ধৃত করে ধুর্জ্জটিপ্রসাদ লিখেছিলেন, [স্থান/বিষয় সম্পর্কে] তাঁর ‘ঘনিষ্ঠ পরিচয় ও জ্ঞান’ এবং ‘হৃদয়ের প্রেরণা’ থাকলেও যা কম ছিল, তা হলো ‘সচেতন ও সজাগ বুদ্ধি’। আসলে জীবনানন্দ যা লিখতে পারতেন কিন্তু লেখেননি বা লিখেও যে-বিষয়ে প্রকাশ-সংকোচ/দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেননি [যেমন রূপসী বাংলা], তা-ই লোক-আঙ্গিকে আজীবন লিখে গেছেন জসীমউদ্দীন এবং লিখেছেন ঠিক, কিন্তু আমাদের গভীরভাবে আন্দোলিত করতে পারেননি। তবু স্বীকার করি, আন্দোলিত না করলেও, ঋণী করেছেন। অবশ্য কবিতার জন্য ইতিহাসগত কারণে আমরা তাঁর কাছে যতটা ঋণী, এর চাইতেও বেশি ঋণী [তাঁর কাব্যেরই অন্যবিধ সম্প্রসারণ] অকপট আত্মজীবনী ও স্মৃতিগদ্যের জন্য এবং উপনিবেশোত্তর চেতনা ও লোকসাহিত্য-এর অন্তরঙ্গ আলোচনার জন্য। তিনি পল্লিকবিতা লিখে উপকার কতটা করেছেন জানি না, তবে ‘গ্রাম্য-গান’ রচনা করে ক্ষতি করেছেন; সাজ্জাদ শরিফ যে বলেছেন, পূর্ববঙ্গ বাদ দিলে তাঁর কবিতার সামান্যই অবশিষ্ট থাকবে, সে-অর্থে, এই প্রতিনিধিত্বের জন্য, এইসব কবিতা লিখে উপকারই করেছেন জসীমউদ্দীন। আর ব্যঞ্জনায় না হোক, স্বতন্ত্র পথের উৎসের জন্যও যদি সত্য হয়ে ওঠে তাঁর কবিতা,Ñরণজিৎ দাশ যা ভেবেছেন,Ñতা হলে আমরা সকলেই খুশি হব; হৃদির জন্য না হোক, ঋদ্ধির জন্য হলেও হয়ত গলার কাঁটাটা তখন গিলে ফেলতে পারব।
লেখক: বিশিষ্ট কবি ও শিক্ষাবিদ।