স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস সড়কের পাশের খাদে পড়ে গেছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটায় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জানীগাঁও এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা করে কোন লাশ উদ্ধার করতে না পেরে ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বশীলরা দাবি করেছেন, সম্ভবত বাসের যাত্রীরা বের হয়ে চলে গেছেন। বাসের যাত্রীরা বলেছেন, তারা বের হবার সময় আহত হয়েছেন, কিছু যাত্রী বের হতে পারে নি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাস মালিকের পক্ষ থেকে বাসটি উপরে তুলে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বাসে থাকা
যাত্রীর বরাত দিয়ে ঘটনাস্থলে স্থানীয় লক্ষণশ্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল ওদুদ জানান, তার বাড়ির কাছেই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় ভারী বৃষ্টি হচ্ছিল। বাস থেকে বের হয়ে আসা এক যাত্রী তাকে জানান, বাসটি সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সিলেট থেকে সুনামগঞ্জের পথে রওনা হন তারা। বাসে ১৮জন যাত্রী ছিলেন। এরমধ্যে তারা সাতজন বের হতে পেরেছে।
বাসে থাকা সিলেট বাগবাড়ীর এলাকার আহত যাত্রী তাজ উদ্দিন সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি জানান, বাসটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। বাসে ২৫ জন যাত্রী ছিল, তিনিসহ কোনরকম ৫ জন বাসের দরজা ভেঙে বের হয়ে আসেন। পরে একজন পথচারী মোটরসাইকেলে করে তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। একই ধরণের মন্তব্য করেন বাসের যাত্রী সাইফুল ইসলাম। উদ্ধার কাজ চালানোর সময় ১০ জন যাত্রীর ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ব্যাগ নেবার জন্য বিকাল ৩ টা পর্যন্ত সাইফুল ইসলাম নামের কেবল এক যাত্রী খুঁজে এসেছেন।
সুনামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনার পরে থেকে উদ্ধার তৎপতা চালাচ্ছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ ও পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।
ঘটনাস্থলে বেলা দেড়টায় কথা হয় সুনামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের জেলা প্রধান (সহকারী পরিচালক) শফিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমরা দুই ঘন্টা উদ্ধার অভিয়ান চালিযে বাসের ভিতরে-বাইরে কাউকে পাই নি। আমাদের ধারনা বাসে যারা ছিলেন সবাই বের হয়েছেন। আমাদের উদ্ধার তৎপরতা ২ টায় সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদ জানিয়েছেন, সাতজন যাত্রী যারা ঘটনান সময় বাস থেকে বের হয়েছেন তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর মধ্যে তিনজন চিকিৎসাধীন আছেন। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।


