বিশ্বম্ভরপুরে পানিবন্দি ৪০টি গ্রাম

বিশ্বম্ভরপুর প্রতিনিধি
অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ী ঢলে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। পরপর তিনবার বন্যা। দুর্ভোগ যেন পিছু ছাড়ছে না হাওরের মানুষের। একদিকে করোনা অন্যদিকে বন্যা। এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা। হাওরের উত্তাল ঢেউয়ে ভাঙছে ঘরবাড়ি। বিশেষ করে উপজেলার রায়পুর, বাহাদুরপুর, তিয়ারিনগর, ধলেরপাড় ও বিশ^ম্ভরপুর নতুন হাটি গ্রামে টেউয়ে ভাঙনের তীব্রতা বেশী। উপজেলা সদরের কৃষ্ণনগর মন্দিরের ভিটের মাটি সরে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বন্যায় পানিবন্দি হয়েছে উপজেলার সদর, কৃষ্ণনগর, গোপালপুর, মুক্তিখলা, মল্লিকপুর, শ্রীধরপুর, রায়পুর, বাহাদুরপুর, চান্দারগাঁও, বাঘমারা, ভাটিপাড়া, দুর্গাপুর, শক্তিয়ারখলা, প্যারীনগর, বাগগাঁও, ভাদেরটেক, চালবন্দ, রাধানগর, ধরেরপাড়, বিশ্বম্ভরপুর, সিরাজপুর সহ ৩৫-৪০ টি গ্রামের মানুষ।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, প্রতিবছর বন্যায় কিছু বাড়িঘর ভাঙে। এ বছর পরপর তিনবার বন্যা ও হাওরের ঢেউয়ে ভাঙন কিছুটা বেশি হওয়ায় হাওরের দরিদ্র পরিবারগুলো সংকটে পড়েছে। গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে মানুষ। রয়েছে গো খাদ্যর সংকট। ঘরে পানি উঠায় চুলা জ¦লছে না। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছে মানুষজন। আগের ক্ষতি কাটিয়ে উঠার আগে আবারও উপজেলার আভ্যন্তরীন সড়ক, হাট বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠেছে। সুনামগঞ্জ সদর-বিশ^ম্ভরপুর-তাহিরপুর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। উপজেলার সড়কগুলো বন্যার পানির তোড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বিশ^ম্ভরপুর সদর-বাজারের সড়ক, চালবন্দ থেকে আব্দুজ জহুর সেতু সড়ক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশী।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সমীর বিশ্বাস জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। বন্যার্তদের জন্য শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।