জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
জামালগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হয়েছে ৯টি বাড়িঘর। গত সোমবার রাত আনুমানিক ১১টায় বেহেলী ইউনিয়নের রাধানগর পশ্চিম পাড়ায় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে কেউ হতাহত হয়নি। তবে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকার। ক্ষতিগ্রস্তরা প্রাণ বাঁচাতে কোনরকম ঘর থেকে দৌঁড়ে বের হতে পারলেও প্রায় ২ ঘন্টা ধরে চলা আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে ঘরে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র। আগুনের ভয়াবহতা উপলব্দি করতে পেরে পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে সবার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব তাৎক্ষণিক সেখানে ছুটে যান। পরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নগদ অর্থ, চাল ও টিন প্রদান করা হয়েছে। তবে আগুনের সূত্রপাত কিভাবে হয়েছে সেটা জানা যায়নি।
সরজমিনে ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগুন যখন লাগে তখন সবাই ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল। আগুনের আঁচ পেয়ে একজন চিৎকার দিলে সবাই জেগে ওঠে যে যার প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াতে থাকেন। একপর্যায়ে এক ঘর থেকে আরেক ঘরে যেতে যেতে আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়। পরে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এর আগেই আগুনে ভস্মীভূত হয় বসতভিটাসহ ঘরে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র। এতে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে ৯টি পরিবারের মানুষ। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন রীনা বেগম, রুহুল আমীন, কালন মিয়া, আতাউর রহমান, রোকসানা বেগম, আইন উদ্দিন ও জাকারিয়া। তাদের ঘরে হাত দেওয়ার মতো আর কোন কিছু অবশিষ্ট থাকল না বলে জানিয়েছেন তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত রুহুল আমীনের স্ত্রী আমিরুননেছা বলেন, আমার ঘরের প্রায় ৭-৮ লাখ টাকার মালপত্র পুড়ে ছাই হয়েছে। গরু কিনার জন্য ৫০ হাজার টাকা ঘরে রাখা ছিল, সেই টাকাও পুড়েছে। প্রাণডা কোনোরকম বাঁচাইতে পেরেছি। আর কোন কিছু রক্ষা করতে পারিনি।
রাধানগর গ্রামের প্রবীণ মো. আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, সব মিলে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এক কথায় সকলের জীবনের যে সঞ্চয় ছিল সবকিছু ধ্বংস হইয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলো এখন পথে বসেছে। যদিও ইউএনও স্যার কিছু সাহায্য দিয়া গেছেন, তবে এগুলো তো সামান্য। এছাড়া চেয়ারম্যান প্রার্থী হাবলু ও রতি রঞ্জন বাবু লুঙ্গি-শাড়ি ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে তুলে দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব জানিয়েছেন, খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিক সেখানে ছুটে যান। রাত ২টা পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন। পরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মোট ৮টি পরিবারের মাঝে প্রতি পরিবারকে ২ বান্ডিল টিন, ৫০ কেজি চাল, ২টি কম্বল ও নগদ ৬ হাজার করে টাকা প্রদান করা হয়েছে।


