জামালগঞ্জে আত্মীয়-স্বজন মিলে ৭ পিআইসি গঠন

স্টাফ রিপোর্টার
হাওররক্ষা বাঁধের কোটি টাকার প্রকল্প অর্থাৎ প্রকল্প বাস্তবায় কমিটির (পিআইসি) দায়িত্ব পেয়েছেন একই পরিবারের কয়েকজন সদস্য। এই বিষয়টি জেনে ক্ষুব্ধ হয়েছেন পাগনার হাওরপাড়ের কৃষকরা। কৃষকদের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার লিখিতভাবে এই অসঙ্গতির বিষয়টির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। পাগনার হাওরপাড়ের আলীপুরের বাসিন্দা ফেনারবাক ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আসাদ আলীর আত্মীয়-স্বজন সাত পিআইসির দায়িত্ব পেয়েছেন বলে কৃষকরা লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন।
পাগনার হাওরপাড়ের ফেনারবাক ইউনিয়নের কামধরপুর গ্রামের কৃষক নুরুল আমিন ও ফেনারবাক গ্রামের কৃষক জুলফিকার চৌধুরী রানা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, ফেনারবাঁক ইউনিয়নের পাগনার হাওররক্ষা বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়।
গঠিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিগুলো হলো- নম্বর ০১’এর প্রকল্প চেয়ারম্যান       মো. আজগর আলী, পিতা- মৃত হোসেন আলী, বাড়ী-আলীপুর, নম্বর ৩১’ এর প্রকল্প চেয়ারম্যান মো. আসাদ আলী, পিতা- মো. আজগর আলী, বাড়ী-আলীপুর, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি নম্বর ০৩’এর প্রকল্প চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম, পিতা-মৃত হোসেন আলী, বাড়ী-আলীপুর, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি নম্বর ৩৫’এর প্রকল্প চেয়ারম্যান মো. জামাল উদ্দিন, পিতা-হাজী সফর আলী, বাড়ী আলীপুর, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি নম্বর-২৬’এর প্রকল্প চেয়ারম্যান মো. মতিউর রহমান, পিতা-মোজাফ্ফর আলী, বাড়ী-আলীপুর, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি নম্বর ২৯’এর প্রকল্প চেয়ারম্যান রূপ মিয়া, পিতা-মৃত মহব্বত আলী,বাড়ী আলীপুর,প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি নম্বর ৩২’এর প্রকল্প চেয়ারম্যান হাছান তারেক, পিতা-মাহমুদ আলী, বাড়ী ভুতিয়ারপুর, সদস্য সচিব সদর আলী, পিতা-আরশ আলী, বাড়ী আলীপুর, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি নম্বর ৩৬’এর প্রকল্প চেয়ারম্যান মো. খালেক মিয়া, পিতা-মৃত জহুর উদ্দিন, বাড়ী আলীপুর, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি নম্বর ৩১’এর প্রকল্প চেয়ারম্যান আসাদ আলী, ফেনারবাঁক ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান নির্বাচিত সদস্য এক নম্বর প্রকল্পের চেয়ারম্যান আজগর আলী তার পিতা, তিন নম্বর প্রকল্পের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম আসাদ আলীর আপন চাচাত ভাই, ২৯ নম্বর প্রকল্পের চেয়ারম্যান রূপ মিয়া আসাদ আলীর ভগ্নিপতি, ৩৫ নম্বর প্রকল্পের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন আসাদ আলীর আপন মামা, ৩৬ নম্বর প্রকল্পের চেয়ারম্যান খালেক মিয়া আসাদ আলীর চাচা, ৩২নম্বর প্রকল্পের চেয়ারম্যান হাছান তারেক,পিতা-মাহমুদ আলী, বাড়ী ভুতিয়ারপুর আসাদ আলীর আপন ভায়রা। এসব প্রকল্পের অধিকাংশ সদস্য সচিব ও সদস্যগণ আলীপুর গ্রামের আসাদ আলীর নিকট আত্মীয়।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন, সরকারী বিধি মোতাবেক হাওরপাড়ের লোকজন ও জমির মালিক হতে হবে এই নীতিমালা থাকা স্বত্বেও  প্রকল্প কমিটি গঠনে একই পরিবারের লোকজন ও আত্মীয় দিয়ে সাতটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগে কৃষকরা বলেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠনে এমন অসঙ্গতির ঘটনায় তারা শঙ্খা প্রকাশ করেছেন বাঁধের কাজ হবে কী-না?
এ প্রসঙ্গে মো. আসাদ আলী বলেন,‘আমি মেম্বার হিসেবে গত ৬ বছর ধরে পাগনার হাওরের ঝুকিপূর্ন বোগলাখালী বাঁধটি করে থাকি, এই পর্যন্ত এই বাঁধে কোন সমস্যা হয় নি, আমার বাবা কৃষক হিসেবে পিআইসি হয়েছেন। আমাদের গ্রামের আরো কয়েকজন পিআইসির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, এসব পিআইসির সঙ্গে আমার কোন সম্পর্ক নেই।  
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম আল ইমরান বলেন,‘উপজেলা কমিটি একাধিকবার যাচাই বাচাই করে উপযুক্ত ব্যত্তিদেরকেই বাঁধের কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে,আমরা নীতিমালা দেখে পিআইসি গঠন করেছি,যদি নীতিমালা পরিপন্থী হয় তাহলে বিষয়টি দেখা হবে। না হয় যেভাবে আছে সেভাবেই পিআইসি থাকবে।
অভিযোগের অনুলিপি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসককে দেওয়া হয়েছে।
,