জামালগঞ্জে কর্মসৃজনের কাজ- ৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকার মধ্যে ৪৯ হাজার টাকার কাজ হয়েছে

আকবর হোসেন, জামালগঞ্জ
জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নে ৪০ দিনের কর্মসৃজনের কাজ হচ্ছে না। ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার কাজে নামে মাত্র চা বিস্কুটের জন্য ১’শ টাকা খরচ করা হয়েছে। একইভাবে মমিনপুর আসকর আলীর বাড়ী হতে হোসেনপুর গ্রাম পর্যন্ত রাস্তা মেরামতে ৬ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাজ হয়নি। ইউপি চেয়ারম্যান রজব আলী অবশ্য বলেছেন,‘আমরা পানির জন্য এই কাজ করতে পারি নি। বিলও উত্তোলন করিনি। ৪৯ হাজার টাকার কাজ করেছি, বিল অফিস ইচ্ছে করলে দেবে, না হয় না দেবে।’
জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের ২টি কর্মসৃজন প্রকল্পের ২য় পর্যায়ে ৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১২১       জন সুবিধাভোগীর মাধ্যমে। ইউনিয়নের ২য় পর্যায়ের প্রকল্পগুলি অনুমোদন হয় ২৭ শে এপ্রিল। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচীর আওতায় ২য় পর্যায়ের বরাদ্দে নবগঠিত জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের সদরকান্দি’র লোকমানের বাড়ী হতে কামিনীপুর স্কুল পর্যন্ত রাস্তা মেরামতে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রাস্তা মেরামত ও নির্মাণ দূরের কথা কিছুক্ষণের জন্য ক’জন লেবার লাগিয়ে তাদের বিদায় করে দেন। শুধু বিদায় নয় তাদেরকে পারিশ্রমিক বাবত ১শ’ টাকার চা বিস্কুট খাইয়েছেন। যা নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। একইভাবে মমিনপুর আসকর আলীর বাড়ী হতে হোসেনপুর গ্রাম পর্যন্ত রাস্তা মেরামতে ৬ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই রাস্তায়ও মাত্র একদিন ক’জন লোক দিয়ে কাজ করেছেন নামে মাত্র। অবশ্য প্রকল্প চেয়ারম্যান স্থানীয় ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোজাফফর আলী নিজেই স্বীকার করেছেন যে মাত্র ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার কাজ হয়েছে। এই নিয়ে স্থানীয় মমিনপুর, কামিনীপুর, ইনছানপুর, স্লুইসগেইটসহ আশপাশের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় লোকজন  জানিয়েছেন, তারা জানতেন এখানে হাজার ৫০ টাকা বরাদ্দের কথা।
এ ব্যাপারে মমিনপুরের প্রকল্প চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য মোজাফফর আলী বলেন,‘আমি এই কাজের প্রকল্প চেয়ারম্যান,আমাদের চেয়ারম্যান সাব যেভাবে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন, আমি  সেভাবেই করিয়েছি। কয়েক হাজার টাকার মাটি দিয়েছি, পরে চেয়ারম্যান সাব বলেছেন আপাতত আর কাজ করা লাগবে না। তাই কাজ বন্ধ রেখেছি।’
একই ভাবে সদরকান্দি লোকমানের বাড়ী হতে কামিনীপুর স্কুল পর্যন্ত রাস্তা মেরামতে ৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রাস্তা মেরামত ও নির্মাণ দূরের কথা কিছুক্ষণের জন্য কজন শ্রমিক লাগিয়ে বিদায় করে দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের ১০০ টাকার চা বিস্কুট খাওয়ানো হয়েছে।’
ইউপি সদস্য আবুল কাশেম বলেন,‘রাস্তাটি আমার বাড়ীর পাশেই রাস্তার কাজে একদিন কিছু সময়ের জন্য ক’জন শ্রমিক কাজে লেগেছিল। পরে কাজ হয়নি। শ্রমিকদের আমার পকেট থেকে ১’শ টাকার চা বিস্কুট খাইয়ে দিয়েছি।’
সদরকান্দি হতে কামিনীপুর রাস্তার প্রকল্প চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যা হোসনে আরা বেগম বলেন,‘আমি প্রকল্প চেয়ারম্যান ঠিকই, কিন্তু এ ব্যাপারে সব কিছু আমাদের চেয়ারম্যান সাব দেখেন, একদিন কাজে  লেগেছিল শ্রমিকরা, পরে কাজ হয়নি।’
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রজব আলী বলেন,‘পানির জন্য কাজ করা যায়নি। বিলও উঠানো হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আমি বলেছি সময় দিলে কাজ করা যাবে। না হয় টাকা ফেরৎ যাবে। ৪৯ হাজার টাকার কাজ করেছি। কর্মকর্তারা যাচাই করে বিল দেবেন, না দিলে না দেবেন।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোশারফ হোসেন বলেন,‘কর্মসৃজনের প্রকল্পে কাজ ছাড়া কোন ধরনের বিল ছাড় দেওয়া হবেনা, তদারকি কমিটি বিভিন্ন প্রকল্পের তদন্ত করছে’।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন ভুইয়া বলেন, ‘জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের দুটি প্রকল্পে কাজ হয়নি খবর পেয়েছি, দুটি প্রকল্পের কাজে কোন বিল ছাড় দেওয়া হবে না।’  
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রসূন কুমার চক্রবর্তী বলেন,‘কর্মসৃজনের কাজ না করলে বিল ছাড় দেওয়া হবেনা, যারা প্রকল্প নিয়ে কাজ করেনি, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’